• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০, ১৯ জিলহজ ১৪৪১, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭

চীনে বেকারত্ব বেড়ে চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২০

প্রায় পাঁচ মাস ধরে বিশ^জুড়ে মৃত্যুষজ্ঞ চালানো করোনাভাইরাস মহামারির কারণে পূর্ব এশিয়ার দেশ চীনে সৃষ্টি হওয়া অর্থনৈতিক সংকট দেশটির সামাজিক অগ্রগতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এ দেশটিতে বেকারত্ব হার বেড়ে গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। গত কয়েক বছরে সেবাখাতে কর্মসংস্থান বাড়ায় চীনে শ্রমবাজারে স্থিতিশীলতা আসে। এবার প্রাণঘাতী করোনার কারণে বেকারত্ব বাড়ায় শ্রমবাজার অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত সোমবার সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

তবে চীনের বেকারত্ব পরিস্থিতির সঠিক চিত্র নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সরকার কোনো স্পষ্ট তথ্য দিচ্ছে না, যাতে চাকরির বাজারের অবস্থা বোঝা যায়। এছাড়া সরকারি তথ্যে বেকারত্বের সঠিক সংখ্যা কমিয়ে দেখানো হতে পারে বলে দেশটির অধিকাংশ অর্থনীতিবিদেও আশঙ্কা। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের ওই প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, মধ্য ফেব্রুয়ারি থেকে অর্থনৈতিক কার্যক্রম শুরুর চেষ্টা করছে চীন। কিন্তু বেশ কয়েকটি খাত পুনরুদ্ধার করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। গত কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো চীনের শ্রমবাজার বিভিন্ন দিক থেকে চাপে রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির অর্থনীতি গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বাধিক সঙ্কোচনের শিকার হয়েছে। শ্রমবাজারে চলমান সংকটের কারণে বেইজিংয়ের সামাজিক উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, চলতি দশকে মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা ও দারিদ্র্য দূর করার লক্ষ্য মুখথুবড়ে পড়েছে।

গত মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেশটির সাউথওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি অব ফিন্যান্স অ্যান্ড ইকোনমিক্সের দুই অর্থনীতিবিদ উয়াংজুন এবং কিন ফ্যাং বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে বেইজিংয়ের অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বেড়েছে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান পরিস্থিতির ক্রমাগত আরও অবনতি ঘটছে। চীনে ১৪ কোটি ৯০ লাখ মানুষের নিজস্ব ব্যবসা রয়েছে। নিজেদের অঞ্চল ছেড়ে শহরে কাজ করতে আসা অভিবাসী কর্মী আছেন ১৭ কোটি ৪০ লাখ। বেকারত্বের এ হারে এই দুই ধরনের কর্মীর সঠিক তথ্য উঠে না আসার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে লকডাউন তুলে নেয়া হলেও আগের মতো ক্রেতা না থাকায় চীনে এখনো বন্ধ রয়েছে অনেক দোকান ও রেস্তোরাঁ। অভিবাসী কর্মীরা কারখানা আবার চালু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। কিন্তু পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদাও কমতে শুরু করায় সেটিও পিছিয়ে যাচ্ছে।

২০১৮ সালের আগে বেইজিং একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। যেখানে শহরের সেসব কর্মীর তথ্য ছিল যারা সরকারি তালিকায় ছিলেন ও চাকরি হারিয়েছেন। শহরে কাজ করেন কিন্তু স্থানীয় নন, এমন অভিবাসী কর্মীরা চাকরি হারানোর পরও এ পরিসংখ্যানে স্থান পাননি। এমনকি সরকারের সামাজিক সুরক্ষা সহায়তাও তারা পাননি। এছাড়াও বেকার হিসেবে বিবেচিত হওয়ার জন্য একজন কর্মীর বয়স ১৬ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে হতে হয়। ফলে সরকারি পরিসংখ্যানে শ্রমবাজারের সঠিক চিত্র উঠে আসে না। চীনে ২০০৮-২০০৯ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দায় ২ কোটিরও বেশি অভিবাসী কর্মী চাকরি হারালেও বেকারত্বের হার হিসাবে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

২০১৮ সাল থেকে প্রতি মাসে বেকারত্বের হার গণনায় জরিপ করে চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো (এনবিএস)। এ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে বেকারত্বের হার ছিল ৫ দশমিক ২ শতাংশ, যা ফেব্রুয়ারি মাসে হয় ৬ দশমিক ২ শতাংশ। কিছু অর্থনৈতিক কার্যক্রম আবারও শুরু হওয়ায় মার্চে বেকারত্বের হার দাঁড়ায় ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত শহুরে কর্মসংস্থান কমেছে মোট ৬ শতাংশ।