• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১৩ কার্তিক ১৪২৭, ১১ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

কয়েক হাজার বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ইসরায়েলের

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২০

image

অধিকৃত পশ্চিম তীরে কয়েক হাজার ইহুদি বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ইসরায়েল। গত বুধবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাফতালি বেন্নেতসের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইফরাত নামে এই বসতি সম্প্রসারণ প্রকল্পে প্রায় সাত হাজার আবাসন ইউনিট তৈরি করা হবে। এদিকে এ পরিকল্পনায় সমর্থনের আভাস দিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে এ পরিকল্পনার বিষয়ে জেরুজালেমকে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। আল-জাজিরা।

সংবাদ মাধ্যমটি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, গত মাসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বেনি গান্তজ যৌথভাবে সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। এ সংক্রান্ত স্বাক্ষরিত চুক্তিতে অধীকৃত পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ পরিকল্পনা আগামী ১ জুলাই থেকে এগিয়ে নেয়ার কথাও বলা হয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নকে সামনে রেখে আগামী সপ্তাহে জেরুজালেম সফরে যাচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পেও।

বুধবার বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ঘোষণার পর এক টুইটার বার্তায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাফতালি বেন্নেতস বলেন, ‘দেশের ভবন নির্মাণ কোনওভাবেই থামানো হবে না, এক সেকেন্ডের জন্যও নয়।’

ইতোমধ্যে ইসরায়েলের সিদ্ধান্তকে সমর্থন দেয়ার বিষয়ে আভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী সপ্তাহে একদিনের জন্য ইসরায়েল সফরে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। ওই সফরে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী বেনি গান্তজের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এসব বৈঠকের আলোচ্যসূচি নিয়ে কিছু প্রকাশ করা হয়নি। এ প্রসঙ্গে মাইক পম্পেও বলেছেন, এনিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব একান্তে ইসরায়েলি সরকারকে জানিয়ে দেয়া হবে। তবে এ পরিকল্পনার বিষয়ে ইসরায়েলকে সতর্ক করে দিয়েছে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

এদিকে ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রাইডম্যান বলেছেন, ‘পশ্চিম তীর ও জর্ডান উপত্যকায় সার্বভৌমত্ব একটি ইসরায়েলি ইস্যু। আর আমরা এ বিষয়ে তৈরি আছি।’ তিনি বলেন, ‘আশা করা হচ্ছে যে প্রধানমন্ত্রী (নেতানিয়াহু) আলোচনায় বসতে আগ্রহী হবেন আর যদি প্যালেস্টাইনিরা আগ্রহ দেখায় তাহলে তিনি এ (ট্রাম্পের) পরিকল্পনার ভিত্তিতে সরল বিশ্বাসে আলোচনা করবেন।’

ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণকে অবৈধ হিসেবে দেখে থাকে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ। পুরো পশ্চিম তীরকে ভবিষ্যতের প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দেখে থাকে প্যালেস্টাইনিরা। ১৯৬৭ সালের পর এ এলাকা দখল করে নেয় ইসরায়েল। গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষিত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনায় পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। এছাড়া ওই অঞ্চলের ৭০ শতাংশ এলাকা প্যালেস্টাইনিদের জন্য বরাদ্দ দেয়ার আলোচনার কথাও বলা হয়েছে। তবে প্যালেস্টাইনি কর্তৃপক্ষ বরাবর ট্রাম্পের পরিকল্পনা ইসরায়েলের প্রতি পক্ষপাতমূলক বলে জানিয়ে আসছে। এছাড়া ২০১৭ সালে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকেই তারা ওয়াশিংটনের যে কোন মধ্যস্থতা বর্জন করে আসছে।