• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬, ২২ মহররম ১৪৪১

ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলাকারীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , বুধবার, ২২ মে ২০১৯

image

অবশেষে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে জুমার নামাজের সময় দুটি মসজিদে হামলা চালিয়ে ৫১ জনকে হত্যার ঘটনায় আটক অস্ট্রেলীয় নাগরিককে সন্ত্রাসবাদের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে নিউজিল্যান্ডের পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলাকারী ব্রেন্টন ট্যারান্টকে ‘সন্ত্রাসবাদে জড়িত’ বলে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে ২৮ বছর বয়সী ট্যারান্টের বিরুদ্ধে ৫১টি হত্যার অভিযোগ ও ৪০টি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনতে দুই মাসেরও বেশি সময় নিল নিউজিল্যান্ড পুলিশ। তারা বলছে, সরকারি আইন বিশেষজ্ঞ ও কৌঁসুলিদের সঙ্গে পরামর্শ করে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামী ১৪ জুন ট্যারান্টের আবার আদালতে হাজির হওয়ার কথা।

১৫ মার্চ জুমার নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চ শহরের দুটি মসজিদ (আল নুর ও লিনউড) নির্বিচার গুলি চালিয়ে ৫০ জন মুসল্লিকে হত্যা করেন উগ্র শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী ট্যারান্ট। পরে হাসপাতালে আরও একজন মারা যান। এছাড়াও এ হামলায় আহত হন আরও ৪০ জন। মসজিদে হামলার দিনই নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডান একে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা’ বলে উল্লেখ করেন। হামলাকারীকে আটক করে কারাগারে রাখা হয়েছে। সেখানে তিনি মানসিকভাবে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার মতো সুস্থ কিনা, তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী নির্বিচার গুলিবর্ষণের ঘটনা। এ হামলার ঘটনার পর নিউজিল্যান্ডে বন্দুক কেনা সংক্রান্ত আইন কঠিন করা হয়েছে। দেশটির পার্লামেন্ট সামরিক ধরনের আধা-স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে আইন পাস করে। এছাড়াও অনলাইনে সন্ত্রাসবাদ ছড়ানো ঠেকাতে সামাজিক মাধ্যমগুলোকে আরও শক্ত ভূমিকা রাখতে বাধ্য করতে নিউজিল্যান্ডের উদ্যোগে আন্তর্জাতিকভাবে চাপ দেয়া হয়েছে। ফলে গত সপ্তাহে প্যারিসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডান ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ‘ক্রাইস্টচার্চ কল’ নামের একটি সনদ প্রকাশ করা হয়। ওই সনদে সই করা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বলেছে, তারা ইন্টারনেট থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিষয়ক সহিংস কন্টেন্ট সরানোর বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। এ ধরনের কন্টেন্ট চিহ্নিত করার জন্য নতুন নতুন অ্যালগরিদম নিয়ে তারা কাজ করবে। একই সঙ্গে এর ব্যবহারকারীদের জন্য কন্টেন্ট আপলোডের নতুন নীতিমালাও নিয়ে আসা হবে।

২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে হামলার পর ২০০২ সালে নিউজিল্যান্ডে ‘টেরোরিজম সাপ্রেশন অ্যাক্ট’ প্রণয়ন করা হয়। তবে এখনও পর্যন্ত এ আইনের আওতায় কোন বিচার হয়নি। ফলে মসজিদে হামলাকারীর বিচারই এ আইনের প্রথম বিচার হতে যাচ্ছে। এ আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে যাবজ্জীবন কারাদন্ড। এএফপি, এপি।