• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ মহররম ১৪৪২, ১১ আশ্বিন ১৪২৭

কানপুর প্রচারণায় প্রিয়াঙ্কা

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , রোববার, ২১ এপ্রিল ২০১৯

image

আমি ইন্দিরা গান্ধী নই, তবে তার মতোই কাজ করব

ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশটির প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রা বলেন, ইন্দিরাজির কাছে আমি কিছুই নই। কিন্তু দেশের জন্য সেবা করার যে ইচ্ছা তিনি পোষণ করতেন, সেই একই ইচ্ছা পোষণ করি আমি ও আমার দাদা (রাহুল গান্ধী)। গত শুক্রবার উত্তরপ্রদেশের কানপুরের নির্বাচনী প্রচারণার পর এক দলীয় বৈঠকে কর্মীরা প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে তার দাদি ইন্দিরা গান্ধীর (ঠাকুমা) তুলনা করায় এমন মন্তব্য করেন তিনি।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে সক্রিয় রাজনীতিতে পা রেখেছেন প্রিয়াঙ্কা। তবে এর অনেক আগে থেকেই তাকে তার দাদি ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে তুলনা করা হয়। কংগ্রেস বা বিরোধী দলের সমর্থক, এমনকি প্রিয়াঙ্কার নীতির বিরোধিতাকারীরাও একটি বিষয়ে একমত যে, প্রিয়াঙ্কার স্বভাব, ভাবভঙ্গি, হাসি ও আদব-কায়দা তার দাদি ইন্দিরা গান্ধীর মতোই। গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা প্রায় কাল্টে (একটি গোষ্ঠী বা সমাজে কোন বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ) পরিণত হওয়া এ জল্পনাটি নিয়ে গত শুক্রবার আবারও একবার কথা বললেন স্বয়ং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রা। তিনি বলেন, তার ঠাকুমার ইন্দিরা গান্ধীকে অনুসরণ করেই দেশের জন্য কাজ করতে তিনি পিছপা হবেন না কখনওই। ‘ইন্দিরাজি’র কাছে আমি কিছুই নই। কিন্তু, দেশের জন্য সেবা করার যে ইচ্ছা তিনি পোষণ করতেন, সেই একই ইচ্ছা পোষণ করি আমি ও আমার দাদা (রাহুল গান্ধী)। কেউই আমাদের কাছ থেকে এ ইচ্ছাটুকু ছিনিয়ে নিতে পারবে না। আপনারা চান বা না চান, আমরা আপনাদের সেবা করে যাওয়ারই চেষ্টা করব।’

কানপুরের কংগ্রেস প্রার্থী শ্রীপ্রকাশ জয়সওয়ালের হয়ে প্রচারণার পর এক দলীয় বৈঠকে কর্মীরা প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে তার ঠাকুমার তুলনার প্রসঙ্গ তুললে এমন মন্তব্য করেন তিনি। এরপরই ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘দেশের নয়, বিজেপি শুধু নিজেদের উন্নতি নিয়েই ভাবে। এছাড়া ওদের আর কোনও লক্ষ্য নেই। দেখুন, একটা কথা মাথায় রাখতে হবে। সরকার দু’ধরনের হয়। কেউ দেশের কথা ভাবে আর কেউ নিজেদের কথা ভাবে। বিজেপি সরকার দ্বিতীয় ঘরানার।

আত্মপ্রচার ছাড়া ওরা আর কিচ্ছু জানে না।’ এর পাশাপাশি এদিন এক বিশাল শোভাযাত্রাও (রোডশো) করেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। সেখানে ক্ষমতাসীন বিজেপি’র বহু প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও কানপুরের কোনও উন্নতিই হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘ওরা বলেছিল কানপুরকে ‘স্মার্ট সিটি’ বানিয়ে দেবে। কিন্তু, প্রকৃতপক্ষে হলো কি? কিছুই করল না তারা। যুবসমাজের কাছে কাজ নেই। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে আত্মহত্যা করছে কৃষকরা। আমরা বলেছি, প্রতি বছর দরিদ্রদের ৭২ হাজার করে রুপি দেব। এদিকে বিজেপি দাবি করেছে, অত টাকাই নেই। অথচ, বড় বড় ব্যবসায়ীদের পকেট ভরানোর জন্য বিজেপির কখনও টাকার অভাব হয় না!’ এ শোভাযাত্রাতেই নোটবাতিল ও জিএসটি প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনা করেন। তার অভিমত, পুরো দেশের এক বিশাল সংখ্যক মানুষ সরকারের এ দুই নীতির ফলে সবদিক দিয়েই ভেঙে পড়েছেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর মধ্যে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘এই দুজনকে ভালো করে দাঁড়িপাল্লায় বসিয়ে দেখুন। একজন কোন কিছুই সহ্য করতে পারেন না, আর অন্যজন প্রায় প্রতিদিনই অকথ্য অপমান সহ্য করে চলেছেন। বিজেপি তো রাহুল গান্ধীকে প্রতিদিন অপমান করে। তার মা, বাবা, ঠাকুমা সবার নামেই বাজে কথা বলে যায় দিনের পর দিন। অথচ, তিনি (রাহুল গান্ধী) হাসিমুখে শুনে যান।

তিনি নিজেকে প্রতিদিন আগেরদিনের থেকেও বেশি উন্নত করার কথা ভাবেন। যারা তার সমালোচনা করছেন, তাদের মুখ চেপে ধরার কথা ভাবেন না। একেই বলে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা।’ প্রিয়াঙ্কার আহ্বানে মন্ত্রমুগ্ধের মতো সাড়া দিয়ে ওঠেন কানপুরের অজস্র মানুষ। আর ঠোঁটের কোনে মায়াবী হাসিটি লেগেই থাকে তার মুখে।