• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭, ৮ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

করোনাভাইরাস টাস্কফোর্স ভেঙে দিচ্ছে হোয়াইট হাউস

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২০

image

করোনাভাইরাস জনিত রোগ কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থার দিন দিন আরও অবনতি হচ্ছে। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে সংক্রমণ ও মৃত্যুর শীর্ষে অবস্থান করছে উত্তর আমেরিকার এ দেশটি। এমন পরিস্থিতিতে করোনা মহামারী মোকাবিলার রূপরেখা প্রনয়ণে গঠিত হোয়াইট হাউসের বিশেষ টাস্কফোর্সের কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। দেশের অর্থনীতি সচল করার স্বার্থে জনজীবন স্বাভাবিক হওয়ার দরকার। তাই করোনা টাস্ক ফোর্স গুটিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। গত মঙ্গলবার অ্যারিজোনায় একটি মাস্ক উৎপাদন কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তে দেশজুড়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিবিসি।

এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, বৈশ্বক এ মহামারীর ভয়াবহ থাবায় মৃতের সর্বোচ্চ সংখ্যা ও স্থবির অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিশ্ববিদ্যালয় জনস হপকিন্স এর সর্বশেষ দেয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় সেখানে মৃতের সংখ্যা ৭১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে (৭১ হাজার ৭০ জন)। বিশ্ববিদ্যালয়টির ওয়েবসাইটে দেয়া সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এখন ১২ লাখ ৪ হাজার ৪৭৯ জন। তবে শনাক্তকৃত রোগীদের মধ্যে ১ লাখ ৮৭ হাজারেরও বেশি চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়েছেন। দেশটিতে সুস্থ হওয়ার হার ১৫ শতাংশের কিছু বেশি। আর মৃত্যুর হার প্রায় ৬ শতাংশ। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্ত প্রতি একশ’ জনের ৬ জন মারা গেছে; যা বিশ্বে করোনায় গড় মৃত্যুর হারের চেয়েও বেশি।

এমন পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি সচল করতে লকডাউন শিথিল করা হলে কোভিড-১৯ এ প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেড়ে যেতে পারে- এমন আশঙ্কার কথা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম বিবিসি। মঙ্গলবার অ্যারিজোনার কারখানা পরিদর্শনে যাওয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তি দেখান, ‘এবার সামনের দিকে তাকাতে হবে। কীভাবে জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করা যায় এবং অর্থনীতিকে সচল করা যায়, সে কথা ভাবতে হবে। সে কারণেই আপাতত টাস্কফোর্স তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি যেমনই হোক, আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশকে বন্ধ করে দেওয়া যায় না। যে ভাবেই হোক স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে হবে। অর্থনীতির কথা ভাবতে হবে। তাই করোনা টাস্কফোর্সের আর প্রয়োজন নেই।’ এ সময় সাংবাদিকরা করোনা মোকাবিলায় তার প্রশাসনের ‘মিশন সম্পন্ন’ কিনা এমন প্রশ্ন করলে রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘না, সম্পন্ন হয়নি। মিশন সম্পন্ন হবে, যখন এটা (ভাইরাস) শেষ হবে।’ এসময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘মাইক পেন্স ও টাস্ক ফোর্স অসাধারণ কাজ করেছে। কিন্তু আমরা এখন খানিকটা ভিন্নভাবে বিষয়টাকে দেখছি। সম্ভবত আমরা এর জন্য নতুন কোনো কাঠামো গঠন করবো।’ যদিও একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, টাস্ক ফোর্সের প্রধান দুই কর্মকর্তা অ্যান্থনি ফাউসি ও ডেবোরা বার্ক্সকে উপদেষ্টা হিসেবে রেখে দিচ্ছে হোয়াইট হাউস। এদিকে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ টাস্ক ফোর্স ভেঙ্গে দেয়া হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট। তবে সমালোচকদের অভিমত, আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেতার তাগিদে ট্রাম্প মার্কিন নাগরিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকিকে উপেক্ষা করেই অর্থনীতি আবারও সচল করার পথে হাঁটছেন। এদিকে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে হোয়াইট হাউসের করোনাভাইরাস টাস্ক ফোর্স ভেঙে দেয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সও। বিভিন্ন মেডিকেল ইনস্টিটিউট, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অঙ্গরাজ্যগুলোর গভর্নরদের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করা এ টাস্ক ফোর্সের নেতৃত্বেও ছিলেন পেন্স। মে’র শেষে বা জুনের শুরুতে টাস্ক ফোর্স ভেঙে দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার মানুষের শরীরে কোভিড-১৯ শনাক্ত হচ্ছে। প্রতি ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে গড়ে ২ হাজারেরও বেশি মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যবসা বাণিজ্য খুলে দেয়া হলে সংক্রমণ আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছেন তারা।