• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭, ৪ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

করোনা ল্যাব থেকে এসেছে, প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট নয় দাবি ভারতীয় মন্ত্রীর

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ১৫ মে ২০২০

image

প্রায় ৫ মাস ধরে বিশ^জুড়ে মৃত্যুযজ্ঞ চালানো নভেল করোনাভাইরাস চীনের তৈরি বলে বরাবর দাবি করে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার এ দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় এক মন্ত্রী। দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতীন গড়করি বলেছেন, করোনাভাইরাস প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট নয়। এটি গবেষণাগার থেকে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভিকে গত বুধবার দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ প্রথম ভারতের কোন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করোনা ইস্যুতে নিজের মতামত জানালেন। এনডিটিভি।

ভারতে করোনা শনাক্ত হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়িয়েছে। গত বুধবার বেলা সোয়া ৩টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ভারতে এ পর্যন্ত মোট ৭৪ হাজার ৪৮০ জনের শরীরে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৪১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এদিন সরাসরি চীনের নাম উল্লেখ না করে এনডিটিভিকে বলেছেন, ‘এটি প্রাকৃতিক কোন ভাইরাস নয়, মানবসৃষ্ট ভাইরাস এটি। এবং বিশে^র বহু দেশ এ ভাইরাসের টিকা তৈরির চেষ্টা করছে। এ টিকা আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত এ ভাইরাসটির সঙ্গেই টিকে থাকার চেষ্টা চালাতে হবে আমাদের।’ এর আগে কোনও প্রমাণ সরবরাহ ছাড়াই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন ভাইরাসটি চীনের একটি গবেষণাগার থেকে ছড়িয়েছে বলে দাবি করে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও এ ইস্যুতে বিশে^র একাধিক দেশ বেইজিংয়ের দিকে অভিযোগের আঙুল তুললেও ভারত সরাসরি কোন অভিযোগ করেনি। ফলে দেশটির কেন্দ্রীয় একজন অভিজ্ঞ ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর করোনা নিয়ে মানবসৃষ্ট (ম্যানমেইড) এ তত্ত্ব বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশের রাজধানী শহর উহান থেকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে নতুন নভেল করোনাভাইরাস। পরে বিশে^র বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া মহামারীর আকার নেয়া এই ভাইরাসটিতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও দাবি করেছেন, ভাইরাসটি উহানের একটি গবেষণাগার থেকে ছড়িয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, ইচ্ছে করেই চীন এ ভাইরাসটি তৈরি করে বিশে^ ছড়িয়ে দিয়েছে। এ নিয়ে তার কাছে প্রামাণ থাকারও দাবি করেছেন তিনি। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ (ডব্লিউএইচও) আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের অধিকাংশই ভাইরাসটি প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট বলে মনে করেন। অপরদিকে প্রথম দিকে চীন দাবি করেছে, এক প্রজাতির বাদুড় থেকে এ ভাইরাস ছড়ায়। পরে বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রই চীনে এ ভাইরাস ছড়িয়েছে অভিযোগ করে দাবি করে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে মহামারী মোকাবিলার ব্যর্থতা থেকে মানুষের মনোযোগ অন্য দিকে সরাতে চীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এদিকে করোনার বিস্তার ঠেকাতে গত ২৫ মার্চ থেকে ভারতে তিন ধাপে চলছে কঠোর লকডাউন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশটির ছোট ছোট ব্যবসায়িক খাতগুলোর জন্য অর্থনৈতিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। এর প্রতিক্রিয়ায় দেশটির শিপিং মিনিস্ট্রি অব মাইক্রো, স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ এবং সড়ক পরিবহনমন্ত্রী নিতীন গড়করি বলেন, লকডাউন পরিস্থিতিতে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করাই চ্যালেঞ্জ।

সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভিকে দেয়া এদিনের সাক্ষাৎকারে নিতীন আরও বলেন, ‘আমাদের করোনার সঙ্গে টিকে থাকার বোঝাপড়া করতে হবে। বিশ্বের বহু দেশ কৃত্রিমভাবে তৈরি এ ভাইরাসের টিকা উদ্ভাবনে গবেষণা করছে। টিকা এখনও তৈরি হয়নি, আশা করা হচ্ছে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তা পাওয়া যাবে। একবার পাওয়া গেলে আর সমস্যা থাকবে না।’ তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় সমস্যা হলো শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে। আমাদের ভালো কোনও প্রক্রিয়া দরকার যাতে করে ভাইরাসটি তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়। এটা অপ্রত্যাশিত কারণ এ ভাইরাসটি গবেষণাগার থেকে এসেছে, প্রাকৃতিকভাবে নয়। সে কারণে সারা বিশ্ব এখন প্রস্তুত হচ্ছে, ভারত প্রস্তুত হচ্ছে, বিজ্ঞানীরাও প্রস্তুত হচ্ছেন। এটা নিয়ে একটা সমাধানে পৌঁছানো গেলে আমরা আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে পারব। টিকা পাওয়া গেলে আর কোন সমস্যা থাকবে না।’ ভারতের এই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস লকডাউনে ভয় পেয়ে বিভিন্ন রাজ্যে আটকে পড়া শ্রমিকেরা বাড়ি ফিরছে। তবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আবারও খুলে গেলে তারা ফিরে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। গড়করি বলেন, ‘আমাদের করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে হবে কিন্তু একই সঙ্গে অর্থনৈতিক লড়াইও চালিয়ে যেতে হবে। আমরা গরিব দেশ আর মাসের পর মাস লকডাউন বাড়ানো যাবে না।’

মোদির ২০ লাখ কোটি রুপির

প্রণোদনা ঘোষণার সমালোচনা

মহামারী করোনা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৮টায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে ২০ লাখ কোটি রুপির এ প্যাকেজের রূপরেখা উপস্থাপন করেন তিনি। এ প্রণোদনা ভারতের জিডিপির প্রায় দশ শতাংশ। তবে বিরোধী দলগুলো একে ফাঁকা বুলি হিসেবে আখ্যা দিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে মোদির। কংগ্রেস নেতা ও ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম বলেন, শিরোনাম দিয়ে একটি ফাঁকা পৃষ্ঠা ধরিয়ে দিয়েছেন মোদি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এ ফাঁকা পৃষ্ঠা কীভাবে পূরণ করেন সেটিই দেখতে চান তিনি। শুধু কংগ্রেসই নয়, তৃণমূল ও এককালের বিজেপির বন্ধু শিবসেনাও মোদির সমালোচনা করে। বেশিরভাগ বিরোধী নেতাদেরই মত, কীভাবে এ আর্থিক প্যাকেজ ব্যবহার করা হবে তার কোন বিস্তারিত বিবরণ দেননি মোদি।

দেশটির সংবাদ মাধ্যম আনন্দবাজার এক প্রতিবেদনে বলেছে, ভারতে মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ হাজার ৬০৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০ হাজার ৭৫৬ জনে। আর মারা গেছেন ২ হাজার ২৩৯ জন। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে আত্মনির্ভর ভারত গড়ার প্রকল্পে ২০ লাখ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করে তিনি বলেছেন, দেশের মোট জিডিপির ১০ শতাংশের এ প্যাকেজ সমাজের সর্বস্তরেই প্রযোজ্য হবে। পরদিন বুধবার থেকে শুরু করে আগামী কয়েক দিন ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এ প্যাকেজ নিয়ে বিস্তারিত জাতির সামনে ঘোষণা করবেন বলে জানান তিনি। এদিকে দেশটির অপর সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ও লকডাউনের শুরুতে ঘোষণা করা আর্থিক প্যাকেজ স্বনির্ভর ভারতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ফলে মোট প্রণোদনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ কোটি রুপি। এদিনের ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, গরিব, কৃষক, শ্রমিক, অভিবাসী শ্রমিক, ছোট ব্যবসায়ী, কুটির শিল্প, মাঝারি শিল্প, বড় শিল্প- সবার জন্যই প্যাকেজে কিছু না কিছু ব্যবস্থা থাকবে।