• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ মহররম ১৪৪২, ১১ আশ্বিন ১৪২৭

এবার একসঙ্গে সৌদি ছাড়লেন দুই বোন

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , রোববার, ২১ এপ্রিল ২০১৯

image

নিজ পরিবারেই দাসীর মতো থাকতেন সৌদির দুই বোন মাহা ও ওয়াফা

এবার সৌদি আরব থেকে একসঙ্গে পালিয়ে জর্জিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন দুই বোন। পালিয়ে আসা এ দুই বোন হলেন ২৮ বছর বয়সী মাহা আল সুবাই এবং ২৫ বছরের ওয়াফা আল সুবাই। এ দুই তরুণীকে সহায়তা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে জর্জিয়া। সৌদিতে ফেরত পাঠানো হলে তাদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে এমন দাবি করে গত সপ্তাহে তারা আন্তর্জাতিক সহায়তা চান।

সৌদি থেকে জর্জিয়ায় পালিয়ে আসা দুই বোন মাহা ও ওয়াফা গত বুধবার এক টুইটবার্তায় এ তথ্য জানিয়ে নতুন কোন দেশে বসবাসের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার আবেদন জানান। এরই মধ্যে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের পাসপোর্ট স্থগিত করেছে বলেও দাবি তাদের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে পোস্ট করা এক ভিডিওতে বড় বোন মাহা বলেন, ‘আমরা বিপদে আছি। আমাদের মত প্রকাশের জন্য আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা চাই কোন দেশ আমাদের স্বাগত জানাক এবং আমাদের অধিকার রক্ষা করুক। অনুগ্রহ করে আমাদের সহযোগিতা করুন।’ এমন আবেদনের প্রেক্ষাপটে জর্জিয়া সরকার বৃহস্পতিবার এ দুই বোনকে সহযোগিতা দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। দেশটি রাজধানী বিলিসিতে তাদের অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে দেখা করেছে জর্জিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। কিভাবে আশ্রয়ের আবেদন করতে হবে সে বিষয়ক তথ্য মাহা ও ওয়াফাকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে জর্জিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে দেশটির মন্ত্রণালয় জানিয়েছে ‘দুই নারীকে সহযোগিতার প্রস্তাব ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়ার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাদের সঙ্গে দেখা করেছে। এদিকে জর্জিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দুই বোনকে একটি নিরাপত্তা ভ্যানে করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন অভিবাসন কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এ দুই বোন নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হলেও জর্জিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বলছে, এ দুজনের কোন আত্মীয় জর্জিয়ায় নেই, যাদের মাধ্যমে কোন বিপদ হতে পারে। এদিকে এ দুই বোনের পাসপোর্ট স্থগিত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে সৌদি দূতাবাস। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, মাহা এবং ওয়াফার পাসপোর্ট এখনো কার্যকর রয়েছে। দুই বোনের এমন দাবির কোন সত্যতা নেই বলেও উল্লেখ করেছে সৌদি দূতাবাস। তবে জর্জিয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। এটিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে তারা। সৌদির আইন অনুযায়ী, কোন নারীকে কাজ, বিয়ে বা ভ্রমণের জন্য পুরুষ অভিভাবকের অনুমতিপত্র রাখতে হবে সঙ্গে। যদিও দেশটির বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ নিয়মের সমালোচনা করে আসছে। তাদের মতে, এ ব্যবস্থায় অনেক পরিবারে নারীদের বন্দী জীবন কাটাতে হয়।

তবে এমন নিয়ম উপেক্ষা করে দেশটি থেকে পালিয়ে আসার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সৌদি থেকে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক বিমানবন্দরে পালিয়ে আসেন রাহাফ আল কুনুন নামের আরেক নারী। তিনিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আশ্রয়ের আবেদন জানান। পরে কানাডা তার এই আবেদন গ্রহণ করে। তবে সবার ক্ষেত্রে এমন ভাগ্য হয় না। যেমন দিনা আলি লাসলুম। গত ২০১৭ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নেয়ার উদ্দেশ্যে সৌদি থেকে পালিয়ে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় যান। কিন্তু সেখান থেকে তাকে পরিবারের পুরুষ সদস্যের হাতে তুলে দেয়া হয়। রয়টার্স।