• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২০, ১৭ জিলহজ ১৪৪১, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭

ইচ্ছাকৃতভাবে করোনার ভয়াবহতা গোপন করেছিল চীন

এক লাখ মার্কিনির মৃত্যুর আশঙ্কা ট্রাম্পের

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২০

চীন ইচ্ছাকৃতভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা সম্পর্কিত তথ্য গোপন করেছিল। সম্প্রতি মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (হোমল্যান্ড সিকিউরিটি) এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করে বলা হয়েছে, তবে বেইজিং ঠিকই ভাইরাসটির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে জানুয়ারি থেকে চিকিৎসা সামগ্রীর রপ্তানি কমিয়ে তা মজুত করতে শুরু করে। সিএনএন। বৈশ্বিক মহমারী করোনাভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ এ এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫ লাখ ছাড়িয়েছে। আর মৃতের সংখ্যা আড়াই লাখের কাছাকাছি। এমন পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করোনার ভয়াবহতা সম্পর্কিত বেইজিংয়ের তথ্য গোপন করা নিয়ে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রতিবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে দেশটির সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন-এর গত রোববার প্রকাশিত এক অনলাইন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস সম্পর্কে গত জানুয়ারিতে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তখন থেকেই চিকিৎসা সামগ্রীর রপ্তানি কমিয়ে তা মজুত করা শুরু করে বেইজিং। চলতি বছরের শুরুতে চীনের আমদানি-রপ্তানির তথ্য যাচাই করেই এমন সিদ্ধান্তে আসা হয়েছে বলে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এর একদিন আগে শুক্রবার মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করা হয়। এদিকে সিএনএন’র প্রতিবেদন প্রকাশের দিনই গত রোববার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও দাবি করেন, করোনাভাইরাস সম্পর্কে তথ্য গোপন করেছিল চীন। তার দাবি, ভাইরাসটি যে চীনের উহানের একটি গবেষণাগার (ল্যাব) থেকে ছড়িয়েছে সে বিষয়ে ‘প্রচুর তথ্য’ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দারা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, করোনাভাইরাস উহানের পরীক্ষাগার থেকেই ছড়িয়েছে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তবে করোনাভাইরাস মানবসৃষ্ট নয়, এমনকি তা জেনেটিকভাবেও পরিবর্তিত নয়।

প্রসঙ্গত, চীনের মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ হুবেইয়ের রাজধানী শহর উহান গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে প্রাণঘাতী ভাইরাসটির আত্মপ্রকাশ ঘটে। শুরু থেকেই চীনের বিরুদ্ধে ভাইরাসটি বিশ^জুড়ে ছড়িয়ে দেয়া বা তথ্য গোপনসহ বিভিন্ন অভিযোগ করে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর জেরে তিনি বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থাকে (ডব্লিউএইচও) চীনের প্রতি পক্ষপাত করার অভিযোগ তুলে সংস্থাটির তহবিল বন্ধের উদ্যোগও নেন। এ সময় ট্রাম্পের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে চীন ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি তোলে অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানিও।

এক লাখ মার্কিনির মৃত্যুর আশঙ্কা ট্রাম্পের

এদিকে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯-এ যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা ১ লাখ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। গত রোববার রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি-র লিঙ্কন মেমোরিয়ালে ফক্স নিউজ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এমন আশঙ্কার কথা জানান তিনি।

দেশটির জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর সিস্টেম সায়েন্সেস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (সিএসএসই) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে ৬৭ হাজার ৬৮২ জন। উত্তর আমেরিকার এ দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যাও বিশ্বে সর্বোচ্চ ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৪০ জন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এপ্রিলের শুরুতে আশঙ্কা করেছিলাম করোনায় ৬০ হাজার নাগরিকের মৃত্যু হতে পারে। কিন্তু এখন মৃত্যু ৬৭ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এখন আশঙ্কা করছি, করোনাভাইরাসে ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ মার্কিন নাগরিকের মৃত্যু হতে পারে।

বন্ধ হলো নিউইয়র্কের অস্থায়ী

করোনা হাসপাতাল

অপরদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য নিউইয়র্কে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় জরুরিভিত্তিতে নির্মিত অস্থায়ী একটি হাসপাতাল বন্ধ করা হয়েছে। গত শনিবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, কোভিড-১৯ রোগীদের সংখ্যা কমে আসায় সেন্ট্রাল পার্কে যে অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছিল তা বন্ধ করা হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, করোনা মহামারীতে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। গত রোববার পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১১ লাখ ৩৪ হাজার এবং মৃতের সংখ্যা ৬৬ হাজারের বেশি।