• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ০১ জুন ২০২০, ১৮ জৈষ্ঠ ১৪২৭, ৮ শাওয়াল ১৪৪১

ইয়েমেনি বাহিনীর আক্রমণে ৯৭ হাউথি যোদ্ধা নিহত

সৌদির দুটি পাম্পিং স্টেশনে ড্রোন হামলা

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনীর আক্রমণে দেশটির বিদ্রোহী হাউথি গোষ্ঠীর ৯৭ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। আল দালেয়া প্রদেশে চালানো এ আক্রমণে ১২০ হাউথি যোদ্ধাকে বন্দী করা হয়েছে বলে সামরিক বাহিনীর উদ্ধৃতি দিয়ে গত বুধবার জানিয়েছে সৌদির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিভিশন আল আরাবিয়া। এদিকে, সৌদির দুটি তেল স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। হাউথি বিদ্রোহীরা এ হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার রাজধানী রিয়াদ থেকে ৩২০ কিলোমিটার দূরে দুটি পাম্পিং স্টেশনে ড্রোন হামলা হয়। এ প্রথমবারের মতো সৌদিও রাষ্ট্র পরিচালিত আরামকো কোম্পানির একটি স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আরামকো জানিয়েছে, হামলার পর তারা পেট্রোলাইন নামে পরিচিত ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটির অবস্থা খতিয়ে দেখার জন্য তা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। এ পাইপলাইনটি দিয়ে প্রধানত সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় তেলক্ষেত্রগুলো থেকে পশ্চিমাঞ্চলীয় মদিনা শহরের নিকটবর্তী ইয়ানবু বন্দরে অপরিশোধিত তেল পাঠানো হয়। বিশ্বের বৃহত্তম তেল রফতানিকারক দেশ সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী জানিয়েছেন, হামলার পর পাম্প স্টেশন দুটিতে আগুন ধরে যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও একটি স্টেশনের কিছুটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এতে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম দ্রব্যের সরবরাহ ও রফতানি বিঘ্নিত হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। সৌদি আরবের পাম্পিং স্টেশনে হামলা হয়েছে, এমন খবর ছড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য প্রায় এক থেকে দেড় শতাংশ বেড়ে যায়। এর আগে রোববার পারস্য উপসাগরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) উপকূলের কাছে দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাঙ্কারসহ চারটি জাহাজে হামলা হয়। একে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে অভিহিত করেছে সৌদি মন্ত্রিপরিষদ। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত অন্য দুটি জাহাজের একটি নরওয়ের পতাকাবাহী ও অপরটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের পতাকাবাহী তেল ট্যাঙ্কার। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে ফের ক্ষমতায় বসাতে চার বছর ধরে হাউথিদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আরব জোট বাহিনী। ইয়েমেনের এ যুদ্ধকে সৌদি আরব ও ইরানের ছায়া যুদ্ধ হিসেবে দেখা হয়। সৌদি জোট বাহিনী ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনীকে সমর্থন দিয়ে আসছে। গত চার বছর ধরে চলা এ যুদ্ধে কমপক্ষে ছয় হাজার ৮০০ জন বেসামরিক নিহত ও ১০, ৭০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন বলে ভাষ্য জাতিসংঘের। অপুষ্টি, অসুখ ও ভগ্নস্বাস্থ্যের মতো নিরাময় যোগ্য কারণে আরও কয়েক হাজার বেসামরিকের মৃত্যু হয়েছে।

যুদ্ধের কারণে অর্থনীতি ভেঙে পড়ায় লাখ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের প্রান্তে অবস্থান করছেন। ২০১৪ সালে ইয়েমেনের সুন্নি প্রেসিডেন্ট আব্দরাব্বু মনসুর হাদিকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করে ইরান সমর্থিত শিয়া হাউথি বিদ্রোহীরা। তারা রাজধানী সানা দখল করে নেয়ার পর শুরু হয় গৃহযুদ্ধ। হাদি দেশ ছেড়ে পালিয়ে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আশ্রয় নেন। হাদিকে ফের ক্ষমতায় বসাতে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।