• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট ২০১৮, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২ জিলহজ ১৪৩৯

ইরানি হয়রানি বন্ধে জাতিসংঘের দ্বারস্থ হবে বিবিসি

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , বুধবার, ১৪ মার্চ ২০১৮

লন্ডনে কর্মরত বিবিসির কমপক্ষে ২০ জন সংবাদকর্মী ও ইরানে থাকা তাদের পরিবারের সদস্যদের ইরানের পক্ষ থেকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। বিবিসির ইতিহাসে এই প্রথম হুমকি পাওয়া সংবাদকর্মীদের রক্ষায় বিবিসি জাতিসংঘের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ইরান তাদের সংবাদকর্মীদের হত্যার হুমকির পাশাপাশি তাদের আত্মীয়স্বজনদেরও হুমকি দিচ্ছে।

ইরানের দাবি, ২০০৭ সালের নির্বাচনে বিবিসি বিদেশি শক্তির হয়ে কাজ করেছে। তাদের আরও দাবি, বিবিসির সাংবাদিকরা ‘জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে জড়িত।’ তবে কিভাবে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তাকে বিঘিœত করছে সে বিষয়ে কোনও উত্তর দেয়নি ইরান। সম্প্রতি ইরান বিবিসির সংবাদকর্মীদের ওপর চালানো হয়রানির মাত্রা বাড়িয়ে দিলে, বিবিসি এ সিদ্ধান্ত নেয়। দেশটি বিবিসির ১৫২ জন কর্মরত ও সাবেক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ‘জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র’ করার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্ত এসব সাংবাদিকদের অনেকের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে ইরান। বিবিসির ইরান শাখার ওপর দেশটির সরকার ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল ২০০৯ সালের বিতর্কিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়ে। ২০০৯ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর লাখ লাখ ইরানি রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ জানিয়েছিলেন। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনে ভোট চুরি হয়েছে। ভোট কারচুপির এই অভিযোগে দেশটি পরবর্তী কয়েক মাস অস্থিতিশীল ছিল। ইরানের দাবি, ওই নির্বাচনে বিদেশিদের হস্তক্ষেপ হয়েছিল। বিদেশি শক্তিগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ অন্য পশ্চিমা সরকারের পাশাপাশি বিবিসিকেও তারা দায়ী করেছিল। ওই সময়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সংবাদকর্মীদের সঙ্গে বিবিসির তেহরান সংবাদদাতা জন লিনকেও ইরান থেকে বহিষ্কার করা হয়। সে থেকে বিবিসি পারসিয়ান বিভাগের সাংবাদিকদের হয়রানি করে আসছে দেশটি। জেনেভাতে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের বৈঠকে ইরানি হয়রানির বিষয়টি উত্থাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে বিবিসি। ইরানি হয়রানির চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে অনেকগুলো ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একজন সংবাদকর্মী তার বাবার অসুস্থতার খবর পেয়েও ইরান যেতে পারেননি। এমনি কি তার সপ্তাহ খানেকের মধ্যে তার বাবা মৃত্যুবরণ করলেও তার পক্ষে দেশে ফেরা সম্ভব হয়নি। ইরানে গেলেই তাকে গ্রেফতার করা হতো। তিনি শুধু একাই নন। কমপক্ষে ৩০ জন সংবাদকর্মীরও একই অভিজ্ঞতা হয়েছে। গত দশ বছরে এদের কেউই তাদের বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর শেষ বিদায় জনাতে ইরানে যেতে পারেননি।