• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮ ১ রমজান ১৪৪২

বাশার বাহিনীর বিমান হামলা

ইদলিবে ৩৩ তুর্কি সেনা নিহত

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কমান্ডারের সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হালুসি আকার -আনাদলু এজেন্সি

সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশে সরকারি বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ৩৩ তুর্কি সেনা নিহত হয়েছেন। সম্প্রতি সেখানে সেনা ও যুদ্ধাস্ত্র পাঠানোর পর তুর্কি সেনা হতাহতের এটাই সর্বোচ্চ সংখ্যা। গত শুক্রবার দেশটির হাতাই প্রদেশের গভর্নর এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এ হামলার জবাবে তুরস্কও পরে বাশার বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় স্থল ও বিমান হামলা চালায় বলে জানিয়েছে বিবিসি। এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস ইদলিব পরিস্থিতিতে ‘গভীর উদ্বেগ’ জানিয়ে সেখানে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছেন। আল জাজিরা, বিবিসি।

সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ইদলিবে বাশারের অনুগত বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত তুর্কি ৩৪ সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সিরিয়ার যুদ্ধপরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর)। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান তুরস্কের শীর্ষ পর্যায়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক করার পরপরই ইদলিবে বাশার বাহিনীর বিমান হামলার খবর পাওয়া যায়। সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে বলেছে, বিদ্রোহীদের হাত থেকে ইদলিবের নিয়ন্ত্রণ নিতে গত কয়েক দিন ধরে রাশিয়ার সহযোগিতায় হামলার পরিমাণ ও তীব্রতা বাড়িয়ে চলেছে বাশার বাহিনী। গত বৃহস্পতিবারের হামলা তারই নজির। তুরস্কের হাতয় প্রদেশের গভর্নর রাহমি দোগান সিরীয় হামলায় কমপক্ষে ৩৩ তুর্কি সেনা নিহতের কথা স্বীকার করেছেন। এছাড়াও আহতের সংখ্যা অসংখ্য। চিকিৎসার জন্য তাদের তুরস্কের ভেতর নিয়ে আসা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এদিকে তুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হুলুসি আকার ও ঊর্ধ্বতন সামরিক কমান্ডাররা পরে সিরিয়ার সীমান্ত থেকে বাশারবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় স্থল ও বিমান হামলার নির্দেশনা দেন।

অপরদিকে সিরীয় বাহিনী হামলা চালালে তার জবাব দেয়া হবে বলে আগেই হুঁশিয়ারি জানান এরদোগান। তুর্কি প্রেসিডেন্টের প্রত্যাশা ছিল, বাশার বাহিনী ইদলিবে অভিযান চালালেও তারা যেন আঙ্কারার পর্যবেক্ষণ পোস্টগুলো থেকে দূরে থাকে। সিরিয়ার সরকার ও রাশিয়া এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশটিতে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে বলেছে, সিরীয় হামলার পর দেশটির সরকারি লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালাতে শুরু করেছে তুরস্কের সেনাবাহিনী। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে দেশটির যোগাযোগ পরিচালক ফাহরেত্তিন আলতুন বলেন, ‘সিরীয় সরকারের সব লক্ষ্যবস্তুগুলো পরিচিত। আর এগুলো তুরস্কের বিমান ও স্থলবাহিনীর আয়ত্তে রয়েছে। বাশার বাহিনীর মতো অনুরূপ হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আঙ্কারা। ’

বৃহস্পতিবারের এ পাল্টাপাল্টি হামলার পর উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোট ন্যাটোর মহাপরিচালক জেনারেল জেন্স স্টল্টেনবার্গ তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলুর সঙ্গে কথা বলেছেন। তুরস্কের এমন অবস্থানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রও সমর্থন জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমরা আমাদের ন্যাটো মিত্র তুরস্কের পক্ষে আছে। বাশার বাহিনী, রাশিয়া ও ইরানসমর্থিত বাহিনীগুলোর নিন্দনীয় আগ্রাসন বন্ধেরও আহ্বান জানাচ্ছি আমরা। সংকটকালে তুরস্ককে কী ধরনের সহযোগিতা দেয়া যায়, তা খতিয়ে দেখছি আমরা। ’

সিরিয়া ও তুরস্কের এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানের জেরে সৃষ্ট উত্তেজনা প্রসঙ্গে বেলজিয়াম ও জার্মানির পতক্ষ দেয়া এক যৌথ বিবৃতিতে সিরিয়ায় বেসামরিক নাগরিক হত্যা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। তবে পশ্চিমাদের এসব উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে রাশিয়া বলছে, সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করাই এখন সিরিয়ার সংকট নিরসনের একমাত্র পথ।

বৃহস্পতিবারের পাল্টাপাল্টি হামলা নিয়ে মস্কো ও বাশার বাহিনীর তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

প্রসঙ্গত ২০১১ সাল থেকে সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে উৎখাতে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে ইদলিব হলো বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত সর্বশেষ ঘাঁটি। সিরিয়ার সেনাবাহিনী ও দেশটির মিত্র রাশিয়া ২০১৮ সালের অস্ত্রবিরতি সীমানার অগ্রসর না হতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ইদলিবমুখী অভিযান শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় গত ১ ডিসেম্বর শুরু হওয়া একই অভিযানে ১০ লাখ বেসামরিক নাগরিক ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। এদের বেশিরভাগই শিশু।