• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২০, ৯ জিলহজ ১৪৪১, ৩১ জুলাই ২০২০

পৃথক দুটি হামলা

আফগানিস্তানে নবজাতকসহ নিহত ৪০

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২০

image

আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার পরিচালিত কাবুলের হামলার শিকার ওই মাতৃসদনের একটি নবজাতককে হামলার পর বের করে আনছেন নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য -নিউইয়র্ক টাইমস

আফগানিস্তানে দুটি পৃথক হামলার ঘটনায় দুই নবজাতকসহ অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও এতে আহত হয়েছেন আরও ৬৮ জন। দেশটির রাজধানী কাবুলের একটি হাসপাতালে বন্দুকধারীদের হামলা ও নানগারহার প্রদেশে এক পুলিশ কমান্ডারের শেষকৃত্যে গত মঙ্গলবার আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। ইসলামপন্থি জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) আফগানিস্তান শাখা ইসলামিক স্টেট খোরাসান নানগারহারের হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে সাইট ইন্টেলিজেন্স সংস্থা। তবে তাৎক্ষণিভাবে কোনো গোষ্ঠীই কাবুলের হামলার দায় স্বীকার করেনি। এদিকে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রয়টার্স।

জঙ্গিদের পাশাপাশি আফগানিস্তান এখন করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের বিরুদ্ধেও লড়াই করছে। এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার পুলিশের ছদ্মবেশে আসা বন্দুকধারীরা রাজধানী কাবুলের একটি হাসপাতালে হামলা চালায়। এতে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার পরিচালিত একটি মাতৃসদনে দুই নবজাতকসহ ১৬ জন নিহত হন। একই দিন পূর্বাঞ্চলীয় নানগারহার প্রদেশে পৃথক আরেকটি হামলার ঘটনা ঘটে। এখানে এক পুলিশ কমান্ডারের জানাজায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় কমপেক্ষ ২৪ জন নিহত ও ৬৮ জন আহত হন। ওই জানাজায় সরকারি কর্মকর্তারা ও পার্লামেন্টের এক সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হতাহতদের মধ্যে মা, সেবিকা ও শিশু রয়েছে। সৈন্যরা হাসপাতালটি থেকে শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করেছে। তাদের মধ্যে তিন বিদেশিও রয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশ করা কয়েকটি ছবিতে ওই মাতৃসদনের ভিতরে দুটি ছোট শিশুকে মরে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। আরেক ছবিতে মেঝেতে পড়ে থাকা নিহত এক নারী তার বাচ্চাকে তখনও শক্ত করে ধরে আছেন, এমনটি দেখা গেছে।

শিশুটি বেঁচে আছে বলে ওই ইউনিটের এক সেবিকা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন। শিশুটিকে আরেকটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নিয়ে রাখা হয়েছে।

এদিকে সরকারি কর্মকর্তারা জানান, সকালে পুলিশের পোশাক পরা তিন বন্দুকধারী কাবুলের দাস্ত-ই-বার্চি হাসপাতালে প্রবেশ করে হামলা শুরু করে, তারা গ্রেনেড নিক্ষেপ করে ও গুলি করে। বিকালে নিরাপত্তা বাহিনী ওই তিন হামলাকারীকে হত্যা করে।

১০০ শয্যার এ হাসপাতালের মাতৃসদনটি পরিচালনা করে ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস, যারা তাদের ফরাসি নাম মেদসাট সট ফ্রোঁতিয়ের (এমএসএফ) দিয়েও পরিচিত। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে এমএসএফ একটি ছবি টুইট করে। তাতে হাসপাতালের ইর্মাজেন্সি সিজারিয়ান সেকশনে সদ্য জন্ম নেয়া শিশুকে কোলে নিয়ে মায়ের হাসিমুখ দেখা যায়।

এ হামলার প্রত্যক্ষদর্শী রমজান আলি নামের স্থানীয় এক বিক্রেতা বলেন, ‘হামলাকারীরা হাসপাতালে যাকে পেয়েছে তাকেই কোনো কারণ ছাড়াই গুলি করেছে। এটি একটি সরকারি হাসপাতাল। অসংখ্য মানুষ তাদের স্ত্রী, সন্তানদের চিকিৎসা করাতে এখানে আসেন।’

অপরদিকে ইসলামপন্থি জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের (ইসলামিক স্টেট) আফগানিস্তান শাখা ইসলামিক স্টেট খোরাসান নানগারহারের হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে সাইট ইন্টেলিজেন্স সংস্থা জানিয়েছে। তবে অনলাইনে জঙ্গিদের তৎপরতার ওপর নজরদারি করা এ সংস্থাটির প্রতিবেদন তাৎক্ষণিভাবে যাচাই করতে পারেনি বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এদিকে কাবুলের হামলার দায় তাৎক্ষণিভাবে কোনো গোষ্ঠীই স্বীকার করেনি।

তবে এ দুটি হামলার কোনোটিতেই আফগানিস্তানের সরকারের বিরুদ্ধে তৎপর সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী তালেবান জড়িত নেই বলে দাবি করেছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি। যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার নিয়ে করা চুক্তি অনুযায়ী শহরগুলোতে হামলা করা বন্ধ রেখেছে বলে জানিয়েছে তারা। নানগারহারে আইএস সক্রিয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এ গোষ্ঠীটি কাবুলে অনেক বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। গত সোমবার আফগানিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী জঙ্গি এ গোষ্ঠীটির আঞ্চলিক নেতাকে গ্রেফতার করেছে।

আফগানিস্তান জঙ্গি দমনের পাশাপাশি করোনা প্রাদুর্ভাবের বিরুদ্ধেও লড়াই করছে। এমন পরিস্থিতিতে এসব সহিংসতায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তালেবানের সঙ্গে আফগানিস্তান সরকারের চলমান শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি করছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।