• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ৩০ চৈত্র ১৪২৭ ২৯ শাবান ১৪৪২

আফগানিস্তানে তালেবান-যুক্তরাষ্ট্র সাময়িক যুদ্ধবিরতি শুরু

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , রোববার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০

আফগানিস্তানে তালেবান, যুক্তরাষ্ট্র ও আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার থেকে এক সপ্তাহের এ চুক্তি কার্যকর শুরু হয়। এর ফলে দীর্ঘ ১৮ বছরের যুদ্ধের ইতি টানতে শান্তিচুক্তির প্রত্যাশা জোরদার হয়েছে। আল-জাজিরা।

যুদ্ধবিরতির এ সময়ে তালেবান, আফগান সরকারি বাহিনী ও মার্কিন সেনাবাহিনীসহ অন্য বিদেশি বাহিনীর ওপর হামলা করা থেকে সবপক্ষই বিরত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবান প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ এক বছরের আলোচনার পর এ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছল উভয়পক্ষ। আন্তর্জাতিক এ সংবাদ মাধ্যমটির গতকাল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী তালেবান ও মার্কিন প্রতিনিধিদের আলোচনার ভিত্তিতে এ চুক্তি চূড়ান্ত হয়। যদি এ সাময়িক চুক্তি বাস্তবায়িত হয় তাহলে তা শান্তি চুক্তিতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে দেশটির প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি এক টেলিভিশন ভাষণে ঘোষণা দেন, সহিংসতা কমিয়ে আনার সাময়িক চুক্তি স্থানীয় সময় শুক্রবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর শুরু হবে। চলতি সপ্তাহে আফগান সেনাবাহিনী রক্ষণাত্মক সক্রিয় অবস্থান বজায় রাখবে।

এর আগে আফগানিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার মুখপাত্র হামদুল্লাহ মোহিব জানান, সাময়িক চুক্তির সময়ে আফগান সেনাবাহিনী ইসলামপন্থি জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের মতো অপর সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে স্বাভাবিক সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, কীভাবে এ সময়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে প্রেসিডেন্ট নিজেই তা স্থানীয় সরকার ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। এ সমঝোতা লঙ্ঘন করলে আফগান বাহিনী পাল্টা হামলা চালাতে থাকবে বলেও জানান এ মুখপাত্র। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ঘোষণা দেন যে, শুক্রবার এ সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে ২৯ ফেব্রুয়ারি তালেবানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে।

পম্পেওর এমন ঘোষণার পর তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদও অগ্রগতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, উভয়পক্ষই শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তাদের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানাবে।

অপরদিকে তালেবানের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার পর এ চুক্তি সই হবে।

বর্তমানে আফগানিস্তানে প্রায় ১৪ হাজার মার্কিন সেনা ও ন্যাটোভুক্ত ৩৯টি দেশের ১৭ হাজার সেনা অবস্থান করছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ারে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দেয়ার অভিযোগে তৎকালীন তালেবান শাসিত আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটোর সামরিক বাহিনী। সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবান ২০০১ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযানের মুখে ক্ষমতা থেকে উৎখাত হয়। তবে আগ্রাসনে তালেবান ক্ষমতাচ্যুত হলেও পুরো আফগানিস্তানকে তালেবান দখলমুক্ত করতে ব্যর্থ হয় ন্যাটো।

এর আগে দেশটির সরকারকে মার্কিন পুতুল উল্লেখ করে তাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় অস্বীকৃতি জানায় সশস্ত্র এ গোষ্ঠীটি। তালেবানের সঙ্গে উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোটের (ন্যাটো) গত ১০ বছর ধরে চলা (২০০৯ সাল) যুদ্ধে আফগানিস্তানে ১ লাখেরও বেশি আফগান নাগরিক নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৩৪ হাজার বেসামরিক নাগরিক ও বেশিরভাগই শিশু।