• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২০, ১৬ কার্তিক ১৪২৭, ১৪ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

আফগানিস্তানে অনাহারের ঝুঁকিতে প্রায় সাড়ে ৭০ লাখ শিশু সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রতিবেদন

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , রোববার, ০৩ মে ২০২০

­বৈশ্বিক মহামারী করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়তে থাকায় আফগানিস্তানে ৭০ লাখেরও বেশি শিশু অনাহারের ঝুঁকিতে রয়েছে। আন্তর্জাতিক শিশু বিষয়ক উন্নয়ন সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনের (এসসিএফ) গত শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ সতর্কবার্তা জানানো হয়েছে। বিবিসি।

করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে দুর্বল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা, অপুষ্টি, যুদ্ধ এবং অন্য নানা ঝুঁকির মধ্যে থাকা আফগানিস্তান সম্ভাব্য ‘স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের’মুখোমুখি রয়েছে বলে মার্কিন কংগ্রেসের এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে

গত ২৮ এপ্রিল পাওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আফগানিস্তানে মোট ২ হাজার ৩৩৫ জনের শরীরে করোনাভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ৬৮ জন। আর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩১০ আফগান। ২০১৮ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার এ দেশটিতে মোট জনসংখ্যা ৫ কোটি ৪০ লাখ। এদিকে শুক্রবার প্রকাশিত এসসিএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ খাদ্যাভাবে পড়তে চলেছে, যার মধ্যে ৭৩ লাখই শিশু। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে শিশুদের যখন প্রতিদিনই পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবারের প্রয়োজন ঠিক সে সময়েই খাবারের দাম বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে দাতব্য সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’র মুখপাত্র সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জরুরিভিত্তিতে এখনই পদক্ষেপ না নিলে আফগানিস্তানে ‘ক্ষুধা, রোগ এবং মৃত্যু’র ঝড় বয়ে যাবে।

অপরদিকে সংবাদ মাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, সম্প্রতি জাতিসংঘ দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে থাকা দেশের তালিকায় আফগানিস্তানের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) বিশ্ব ‘ক্ষুধা মহামারী’র মুখে আছে বলে সতর্ক করেছে। ২০০১ সালে তালেবানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান শুরুর পর প্রায় দুই দশকের যুদ্ধে আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর মার্চ মাসের শেষদিক থেকে রাজধানী কাবুল লকডাউন করেছে আফগান সরকার। পরে অন্য প্রদেশগুলোও লকডাউন করা হয়। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া এবং ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়। করোনা মহামারী শুরুর আগেও ৫০ লাখেরও বেশি শিশুর বিভিন্ন ধরনের মানবিক সহায়তার প্রয়োজন ছিল দেশটির। সম্প্রতি জাতিসংঘ পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ২০ লাখ আফগান শিশু প্রবল খাদ্যাভাবে রয়েছে।

জোগানের তুলনায় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় গত মাসে দেশটির প্রধান নগরীগুলোর বাজারে গমের আটা এবং রান্নার তেলের দাম বেড়েছে ২৩ শতাংশ। আর চাল, চিনি ও ডালের দাম বেড়েছে ৭ থেকে ১২ শতাংশ। খাবারের দাম বাড়ার পাশাপাশি লকডাউনের কারণে কাজ না থাকায় কমছে দিনমজুরদের আয়। আফগান কর্মীদের বেশিরভাগই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করে। তাদের কোন আর্থিক সুরক্ষা নেই।

আফগানিস্তানে সেভ দ্য চিলড্রেনের পরিচালক টিমোথি বিশপ বলেন, ‘আফগানদের জন্য করোনাভাইরাস মহামারীর চেয়েও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্ষুধা। লকডাউনের কারণে এমন সংকট সৃষ্টি হয়েছে, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বিশ্ব এখনই পদক্ষেপ না নিলে এখানে ক্ষুধা, রোগ আর মৃত্যুর ঝড় বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আমরা উদ্বিগ্ন।’ তিনি আরও বলেন, ‘অনাহারে শিশু মৃত্যুর বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে রয়েছি আমরা। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য সহায়তা দরকার। একইসঙ্গে এর সুষম বণ্টনও নিশ্চিত করতে হবে। দেশজুড়ে লকডাউনের মধ্যেও আমরা আফগান সরকারকেও যত দ্রুত সম্ভব খাদ্য বিলি করার আহ্বান জানাচ্ছি।’