• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ০৭ জুন ২০২০, ২৪ জৈষ্ঠ ১৪২৭, ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুরু

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , বুধবার, ১১ মার্চ ২০২০

image

সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী তালেবানদের সঙ্গে শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সোমবার সেনা প্রত্যাহার শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাবুলে মোতায়েন মার্কিন সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল সনি লেগেট। এ চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১৩৫ দিনে প্রায় সাড়ে তিন হাজার সেনা প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র। আল-জাজিরা, পার্স টুডে, বিবিসি। প্রায় দুই দশকের (১৮ বছর) যুদ্ধাবস্থা থেকে শান্তিতে ফেরার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও দেশটির সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী তালেবানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তির আওতায় এসব সেনা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এ তথ্য জানিয়ে এক প্রতিবেদনে আল-জাজিরা জানিয়েছে, আফগানিস্তানের আশরাফ ঘানি ও আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ- এ দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনীতিক একইদিন (সোমবার) পৃথকভাবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এ দিনেই ওয়াশিংটনও দেশটি থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার শুরু করল। এদিকে দুই শীর্ষ রাজনীতিক ঘানি ও আবদুল্লাহ পৃথকভাবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার ঘটনায় দেশটিতে উত্তেজনা নতুন করে রাজনৈতিক বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে দেশটিতে শান্তি ফিরে আসার কথা থাকলেও এমন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

তালেবানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সই হওয়া শান্তি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু হয়েছে জানিয়ে গত সোমবার এক বিবৃতিতে আফগানিস্তানের মার্কিন সেনা মুখপাত্র কর্নেল সনি লেগেট বলেন। বর্তমানে আফগানিস্তানে যে সেনা মোতায়েন রয়েছে তা কমিয়ে ৮৬০০-তে নামিয়ে আনা হবে।

এদিকে একই দিন মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, আফগানিস্তানের রাজনৈতিক সংকট আছে কী নেই, কাবুলে প্রেসিডেন্ট একজন নাকি দু’জন -তা নিয়ে আমেরিকা সময় নষ্ট করবে না। আগামী ১৩৫ দিনের মধ্যে সেনা সংখ্যা কমিয়ে ৮৬০০ জনে নামিয়ে আনা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ ফেব্রুয়ারি কাতারের রাজধানী দোহায় তালেবানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তির ভিত্তিতেই যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করছে। আশা করা হচ্ছে যে, এর মাধ্যমে দেশটিতে ১৯ বছরের মার্কিন দখলদারিত্বের অবসান ঘটবে। তবে আফগান সরকার ওই শান্তি চুক্তিতে অংশ নেয়নি। ওই সময় বিদ্রোহী তালেবান গোষ্ঠী দাবি করে, চুক্তি হলেও আফগান সরকার তাদের বন্দীদের মুক্তি দিতে চাইছে না। তবে আফগান সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তারা কোন বন্দীদের মুক্তি দেয়ার বিষয়ে কোন চুক্তি করেনি। শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরেও গত সপ্তাহে আফগান বাহিনীকে রক্ষার জন্য তালেবানদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এরই ধারবাহিকতায় একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে এক হাজার তালেবান সদস্যকে মুক্তি দেবে আফগান সরকার। দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার পর আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি এ নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে মার্কিন সমর্থিত বর্তমান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি এবং অপর রাজনীতিক আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ’র প্রেসিডেন্ট হিসেবে পৃথক শপথ গ্রহণ দেশটিতে নতুন রাজনৈতিক সংকটের আভাস দিচ্ছে। এছাড়া মার্কিন বাহিনী চলে যাওয়ার পর কাবুলের যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকারের টিকে থাকা নিয়েও ইতোমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান ছাড়ার পর দেশটির বর্তমান প্রশাসনের টিকে থাকবে কিনা- সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।