• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০, ২৬ চৈত্র ১৪২৬, ১৪ শাবান ১৪৪১

অ্যাসাঞ্জ মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন : জাতিসংঘ

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , রোববার, ০২ জুন ২০১৯

image

নাইলস মেলজার

বিকল্প ধারার সংবাদমাধ্যম উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ গণমাধ্যম, বিচারক এমনকী ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মানহানিকর প্রচার থেকে মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক এক তদন্ত কর্মকর্তা গত শুক্রবার এ তথ্য জানান। অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তর করা উচিত না মন্তব্য করে কর্মকর্তা নাইলস মেলজার বলেন, সেখানে অ্যাসাঞ্জ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিচারের শিকার হতে পারেন। চলতি বছরের ৯ মে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত লন্ডনের কারাগারে অ্যাসাঞ্জকে দেখতে যান জাতিসংঘের নির্যাতন বিষয়ক বিশেষ দূত মেলজার। ওই সাক্ষাতে অ্যাসাঞ্জকে খুবই নার্ভাস দেখেছেন এবং তিনি প্রচ- মানসিক চাপে ছিলেন বলেই জানান তিনি। মেলজার বলেন, অ্যাসাঞ্জ তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া জটিল মামলা লড়ার অবস্থায় নেই। যুক্তরাষ্ট্র অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে নতুন যেসব অপরাধের অভিযোগ এনেছে তা নিয়ে মেলজার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তর না করার আহ্বানও জানিয়েছেন বার বার। গত বৃহস্পতিবার লন্ডনের আদালতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি নিয়ে অনুষ্ঠিত শুনানিতে অ্যাসাঞ্জ ভিডিও লিংকের মাধ্যমেও হাজিরা দিতে পারেননি। অ্যাসাঞ্জকে কারাগারের মেডিকেল ওয়ার্ডে নেয়া হয়েছে এবং তার শারিরীক অবস্থা ভালো না বলেই জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।

মার্কিন সরকারের বহু গোপন তথ্য ফাঁস করে ২০১০ সালের শেষের দিকে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলাা উইকিলিকস ওয়েবসাইটের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাসাঞ্জকে বিচারের জন্য চায় যুক্তরাষ্ট্র। তিনি তাকে যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তরের বিরুদ্ধে লড়ছেন। জাতিসংঘ দূত মেলজার জেনেভায় এক সাক্ষাৎকারে রয়টার্স বার্তা সংস্থাকে বলেছেন, আমরা অ্যাসাঞ্জের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক নির্যাতনে ভোগা একজন মানুষের মতো সব লক্ষণই দেখতে পেয়েছি। আমাদের সঙ্গে থাকা মনোচিকিৎসক বলেছেন, তার স্বাস্থ্যের অবস্থা খুবই জটিল। আমি যেটুকু বুঝতে পেরেছি তা হচ্ছে তিনি (অ্যাসাঞ্জ) এখন হাসপাতালে আছেন এবং বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে সক্ষম নন। এক বিবৃতিতে মেলজার বলেন, বছরের পর বছর ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠুর, অমানবিক এবং অমর্যাদাকর আচরণ পাওয়া বা সাজা ভোগ করতে করতে সব মিলিয়ে তার এমন অবস্থা হয়েছে। একে শুধু মানসিক নির্যাতনই বলা যেতে পারে।

২০১০ সালে লাখো মার্কিন কূটনৈতিক নথি ও সামরিক গোপন নথি ফাঁস করে উইকিলিকস। ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর গোপন তথ্য ফাঁস করতে চেলসি ম্যানিং অ্যাসাঞ্জকে সহায়তা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এখন বাড়তি ১৭টি অভিযোগ নিয়ে ১৮টি অপরাধের অভিযোগের মুখে রয়েছেন অ্যাসাঞ্জ। দোষী সাব্যস্ত হলে তার কয়েক দশকের কারদ- হতে পারে। জামিনের শর্ত ভঙ্গ এবং সাত বছর লন্ডনের ইকুয়েডরের দূতাবাসে অবস্থান করায় চলতি মাসের শুরুতে অ্যাসাঞ্জকে ৫০ সপ্তাহ কারাদ- দিয়েছেন লন্ডনের আদালত।