• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবন ১৪২৫, ১৯ জিলকদ ১৪৪০

মার্কিন সরকারে অচলাবস্থা

ভেস্তে গেছে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , শুক্রবার, ১১ জানুয়ারী ২০১৯

image

ওয়াক আউট ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের এক-চতুর্থাংশ বিভাগ ও সংস্থায় তিন সপ্তাহ ধরে চলা অচলাবস্থা নিরসনে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বিরোধী ডেমোক্র্যাট শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই তা ভেস্তে যায়। মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণের অর্থ বরাদ্দে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ও সিনেটের সংখ্যালঘু অংশের নেতা চাক শুমার অস্বীকৃতি জানানোর পরপরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওই বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান (ওয়াক আউট)। পরে শীর্ষ এ দুই ডেমোক্র্যাট নেতার সঙ্গে করা বৈঠককে ‘সময় নষ্ট’ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ অর্থ বরাদ্দ বিল নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের সমঝোতা না হওয়ায় চলতি সপ্তাহে প্রায় ৮ লাখ সরকারি কর্মী বেতনহীন অবস্থায় থাকতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম বিবিসি। পরে এক টুইটার বার্তায় ট্রাম্প জানান, বৈঠক থেকে বেরিয়ে আসার সময় তিনি ডেমোক্র্যাটদের ‘বাই বাই’ বলেছেন। ‘চাক আর ন্যান্সির সঙ্গে বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসেছি। পুরোপুরি সময় নষ্ট। আমি তাদের জিজ্ঞেস করেছিলাম, ৩০ দিনের মধ্যে কী হবে, যদি আমি খোলামেলা বলি, তোমরা কি প্রাচীর বা ইস্পাতের বেষ্টনীসহ সীমান্ত নিরাপত্তায় বরাদ্দ দিতে সম্মত? ন্যান্সি বলল, না। আমি বলেছি বাই বাই, এ সময় ‘কোনোকিছুই কাজ করছে না’ বলে জানিয়েছেন এ রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প এ দুই ডেমোক্র্যাট নেতার অনড় অবস্থানকে দায়ী করলেও ন্যান্সি ও শুমার বলছেন, বুধবার ওয়েস্ট উইংয়ের বেজমেন্টে হওয়া বৈঠকটি ভেস্তে যাওয়ার মূল কারণ প্রেসিডেন্টের গোয়ার্তুমি। প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট স্পিকার বলেন, লাখ লাখ সরকারি কর্মীর বেতনহীন অবস্থাকে ট্রাম্প ‘স্বাভাবিক ক্ষয়ক্ষতি’ হিসেবেই দেখছেন। ‘এ বিষয়ে প্রেসিডেন্টকে অনুভূতিহীন মনে হচ্ছে। এ সময় স্পিকার ন্যান্সি আরও বলেন, তারা (বেতনহীন কর্মী) হয়তো তাদের অভিভাবকের কাছে আরও অর্থ চাইতে পারে। কিন্তু তারা তা পারছে না।’ এদিকে শুমার জানান, প্রাচীর নির্মাণে অর্থ দিতে অস্বীকৃতির কথা শোনার পরপরই ট্রাম্প বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান। ‘তিনি উঠে দাঁড়িয়েই বলেন, ‘আমাদের তাহলে আলোচনার কিছু নেই’ এর পরই তিনি বেরিয়ে যান। তার এমন আচরণের মাধ্যমে আমরা তার কর্তৃত্বপরায়ণ নীতিরই বহিঃপ্রকাশ দেখলাম। কারণ তিনি তার আকাক্সিক্ষত চাওয়া পূরণ হয়নি’ বলে জানান নিউইয়র্কের এ ডেমোক্র্যাট সিনেটর।

অপরদিকে ডেমোক্র্যাট নেতাদের আচরণে ‘হতাশা’ জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। তারা ‘মধ্যস্থতায় ইচ্ছুক নয়’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। নিম্নকক্ষের রিপাবলিকান নেতা কেভিন ম্যাককার্থিও বলেছেন, ডেমোক্র্যাট নেতাদের আচরণ ছিল ‘লজ্জাজনক’। তবে বুধবারের ভেস্তে যাওয়া এ বৈঠক প্রসঙ্গে ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাচীর নির্মাণের ইস্যুতে রিপাবলিকান পার্টি ‘পুরোপুরি ঐক্যবদ্ধ’। যদিও উদারপন্থি হিসেবে পরিচিত দলটির কিছু নেতার বক্তব্যে রয়েছে ভিন্ন সুর। ‘চলমান এ অচলাবস্থার বিশেষ কোন কারণ নেই। বাস্তবতা হচ্ছে, কয়েক লাখ সরকারি কর্মী ও ঠিকাদারদের বেতনের চেক শীঘ্রই দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা কম। বিশেষ করে ছোট ছোট ব্যবসা যা ওই কর্মী ও ঠিকাদারদের ওপর নির্ভরশীল সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মুরকোওস্কি বলেন, ‘কোন কারণ নেই এ কর্মীদের রাজনৈতিকভাবে জিম্মি করে রাখার।’

প্রাচীর নির্মাণে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ পেতে প্রয়োজনে জরুরি অবস্থা জারি করে কংগ্রেসকে পাশ কাটানোরও হুমকি দিয়ে রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মঙ্গলবার ওভাল অফিস থেকে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে জরুরি অবস্থা জারি হবে বলে অনেকে আশঙ্কা করলেও ট্রাম্প সেপথে হাঁটেননি। নির্বাচনী প্রচারে দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে ট্রাম্প মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণে কংগ্রেসের কাছে সীমান্ত নিরাপত্তা বাবদ মোট ৫৭০ কোটি ডলার চেয়েছেন। তবে জানুয়ারি থেকে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেয়া ডেমোক্র্যাটরা শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছে। তারা বলছে, প্রাচীর হলেও সাধারণ জনগণের করের টাকায় এটি নির্মাণ করতে দেয়া হবে না।

এ নিয়ে মতবিরোধে অর্থ বিল অনুমোদিত না হওয়ায় গত মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে। অচলাবস্থার শিকার অনেক সরকারি কর্মী এরই মধ্যে তাদের দুর্দশার চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন। অনেকে চাকরি ছেড়ে অন্য কোথাও থিতু হওয়া যায় কিনা সে চিন্তাও করছেন।