• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮ ১ রমজান ১৪৪২

নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪২

দিল্লির সহিংসতায় জাতিসংঘের উদ্বেগ

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের’ আহ্বানের পরও থামেনি দিল্লির সহিংসতা। উত্তরপূর্ব দিল্লির পরিস্থিতি আগের মতোই উত্তেজনায় টান টান হয়ে আছে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়ে দিল্লিতে টানা গত পাঁচ দিন ধরে ব্যাপক সহিংসতা চলার পর গত বৃহস্পতিবার মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহতের সংখ্যা দুইশ’ ছাড়িয়ে গেছে। এদিকে নিহতের সংখ্যা ৪২-এ দাঁড়িয়েছে বলে গতকাল জানিয়ে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। দিল্লির এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। এনডিটিভি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দু’দিনের (২৪- ২৫ ফেব্রুয়ারি) এক রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত যান। এর আগের দিন রোববার রাজধানী দিল্লিতে সিএএ সমর্থক ও বিরোধীদের পাল্টাপাল্টি মিছিল থেকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে হিন্দু-মুসলিম সহিংসতার রূপ নেয়। এরই ধারবাহিকতায় গত বুধবার রাতেও মুসলিম অধ্যুষিত উত্তরপূর্ব দিল্লির ভজনপুরা, মৌজপুর ও কারাওয়াল নগরে অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল উত্তরপূর্ব দিল্লির সহিংসতা কবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে ‘সরকার শান্তি ফিরিয়ে আনবে’, ব্যক্তিগতভাবে এমন আশ্বাস দিয়ে গেলেও শান্তি ফিরে আসেনি।

অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে ভজনপুরা, মৌজপুর ও কারাওয়াল নগর এলাকাগুলোতে। মৌজপুর, জাফরাবাদের মতো বেশ কয়েকটি এলাকার পরিস্থিতি এখনও থমথমে। মৌজপুরের গলির একটি দোকানে আগুন নেভেনি। অন্য গলিতেও দোকান পুড়েছে। জাফরাবাদের এক বাসিন্দা জানান, ‘ভেতরের মহল্লায় অশান্তি চলছে। কোথায় কত জনের দেহ পড়ে আছে কেউ জানে না। পুলিশ এখনও ঢুকতে পারেনি ভেতরে।’

জোহরাপুরী-ভজনপুরায় গত বুধবার নতুন করে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। উত্তরপ্রদেশ লাগোয়া জোহরাপুরীতে পুলিশের সঙ্গেও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। রাতেও ভজনপুরা থেকে আটকে পড়া মানুষের টেলিফোন পেয়েছে পুলিশ। গভীর রাতে ব্রহ্মপুরী ও মুস্তাফাবাদ থেকেও অশান্তির খবর আসে।

চাঁদবাগ পুলিয়ায় সংঘর্ষ কবলিত এলাকায় একটি নর্দমা থেকে পুলিশ গত বুধবার উদ্ধার করেছে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি)-র কর্মকর্তা অঙ্কিত শর্মার মৃতদেহ। তিনি উত্তর-পূর্ব দিল্লির খাজুরি খাস এলাকার বাসিন্দা। দেহ উদ্ধার করা জায়গাটিতে রাস্তাঘাটে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পাথর, ভাঙা কাঁচের টুকরো। এ থেকে ওই এলাকায় পাথর ছোড়াছুড়ির ঘটনার ইঙ্গিত মিলেছে। বুলেটবিদ্ধ হয়ে অঙ্কিতের মৃত্যু হয়েছে। তার দেহে রয়েছে মারধরের আঘাতেরও চিহ্ন। অঙ্কিতের হত্যায় রাজ্যটির ক্ষমতাসীন দল আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা তাহির হুসেনের নাম জড়িয়েছে বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা। তবে তাহির হুসেন কোন কিছুতেই জড়িত নন বলে জানিয়েছেন।

ওদিকে, আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মুসলিমদের ওপর অ্যাসিড হামলা। মুস্তাফাবাদ এলাকায় বৃহস্পতিবার বেশ কিছু আহত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের অনেকের চোখে অ্যাসিড ঢালা হয়েছে। দৃষ্টি হারিয়েছেন চার জন। খুরশিদ নামে এক জনের দু’চোখই নষ্ট হয়েছে। দুই চোখসহ পুরো মুখ ঝলসে গেছে ওয়কিল নামের আরেকজনের। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা গত বুধবার দিল্লি হাইকোর্টকে জানিয়েছেন, পুলিশকেও অ্যাসিড হামলার মুখে পড়তে হচ্ছে।

এদিকে দেশটির সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস নিবিড়ভাবে দিল্লি পরিস্থিতি নজরে রেখেছেন। বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করতে দেয়া এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সংযত থাকা উচিত- এ বিষয়টির ওপরই জোর দিচ্ছেন তিনি। একইসঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব পরিবেশে শান্তি ওস্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনা জরুরি বলেও গুতেরেস অভিমত দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার মুখপাত্র।

এদিকে ভারতীয় দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে একের পর এক রিভিউ মিটিং করে গেলেও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে দাবি করে দিল্লি পুলিশ ১৮ মামলা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে ১৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে।

সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ দিল্লি হাইকোর্ট পুলিশকে ঘৃণা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে। কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন চার বিজেপি নেতার বক্ততৃার ভিডিও দেখার পর আদালত এমন নির্দেশনা দেয়। ওই বিজেপি নেতাদের মধ্যে মোদির সরকারের মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর ও স্থানীয় নেতা কপিল মিশ্রও আছেন। রোববার বিকালে কপিল মিশ্রের সমাবেশ থেকেই এ সহিংসতা শুরু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।