• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ৩০ চৈত্র ১৪২৭ ২৯ শাবান ১৪৪২

করোনাভাইরাসের

টিকা তৈরিতে জোর তৎপরতা

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , শনিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

কানাডার সাসকাচিয়ান সরকারি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল ভ্যাকসিন সেন্টারের করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণারত গবেষকরা - সিবিসি

চীনের প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসটি চিহ্নিত হওয়ার পর এর প্রতিষেধক বা টিকা উদ্ভাবনে জোর তৎপরতা শুরু করেছেন বিজ্ঞানীরা। দ্রুতগতিতে এগুচ্ছে কাজ । এই গ্রীষ্মেই (আগামী এপ্রিলে ) নতুন টিকা পরীক্ষা করে দেখার পরিকল্পনা জানিয়েছেন তারা। আগে কোন ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ক্ষেত্রে যেখানে টিকা তৈরিতে বছরের পর বছর লেগে যেত সেখানে নতুন করোনাভাইরাসের টিকা তৈরির জন্য গবেষণার কাজ এত দ্রুত এগুবে তা ভাবাই যায়নি। এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন বিশ্বের বিজ্ঞানীরা।

গত ৫ বছরে বিশ্ব ইবোলা, জিকা এবং মার্সের মতো করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখেছে। আর এখনকার করোনাভাইরাসটি হচ্ছে, ‘২০১৯-এনসিওভি’। এ ভাইরাসে এরই মধ্যে ১৭০ জন মানুষ মারা গেছে। আক্রান্ত হয়েছে আরও কয়েক হাজার মানুষ। ভাইরাসটির এই দ্রুত বিস্তারের মধ্যে চীনের কর্মকর্তারাও খুব দ্রুতই করোনাভাইরাসটির জেনেটিক কোড প্রকাশ করেছেন। আর এ তথ্য পাওয়াতেই বিজ্ঞানীদের জন্য এ ভাইরাসটিকে চিনে নেয়া এবং কীভাবে এর প্রাদুর্ভাব ঠেকিয়ে মানুষকে সুরক্ষা দেয়া যায় তার পথ খুঁজে পাওয়া সহজ হয়েছে।

একইসঙ্গে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং নতুন নতুন রোগের প্রাদুর্ভাবের ক্ষেত্রে গবেষণার জন্য বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের সরকারের তহবিল বরাদ্দসহ বড় ধরনের প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষাপটে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত কাজ করতে সক্ষম হচ্ছে বলে সংবাদ মাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ।

দ্রুতগতিতে চলছে টিকা তৈরির কাজ : যুক্তরাষ্ট্রে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়াগোর ইনোভিও গবেষণাগারে বিজ্ঞানীরা একটি নতুন ধরনের ডিএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘আইএনও -৪৮০০’ টিকা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন। সম্ভাব্য এ টিকাটিকে আপাতত এ নামেই ডাকা হচ্ছে। গ্রীষ্মের শুরুতেই টিকাটি মানবদেহে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইনোভিও ল্যাবের গবেষণা ও উন্নয়ন কর্মসূচির জ্যেষ্ঠ ভাইস-প্রেসিডেন্ট কেট ব্রডেরিক বলেছেন, ‘চীন ভাইরাসটির ডিএনএ কাঠামো দেয়ায় আমরা এখন আমাদের গবেষণাগারের কম্পিউটার প্রযুক্তির সাহায্যে তিন ঘণ্টার মধ্যেই টিকার একটি ডিজাইন তৈরি করে ফেলতে পারব।’

ভাইরাসের ডিএনএ সিকুয়েন্স ব্যবহার করে তৈরি এ টিকাটি হবে এক নতুন ধরনের ডিএনএ মেডিসিন ভ্যাক্সিন, যেটি প্যাথোজিনটির সুনির্দিষ্ট কিছু অংশকে টার্গেট করবে এবং মানবদেহও এতে ভালোভাবে সাড়া দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। মানবদেহে টিকাটির প্রাথমিক পরীক্ষা সফল হলে বছরের শেষ নাগাদ এটির আরও ব্যাপক পরীক্ষা চালানো হবে বলে জানিয়েছে ইনোভিও। ততদিনে করোনাভাইরাস বিস্তারের অবসান ঘটবে কি না তা ধারণা করা মুশকিল। তবে ইনোভিওর কাজ পরিকল্পনামাফিক এবং সময়মত এগুলে এযাবৎকালের মধ্যে এবারই সবচেয়ে দ্রুত নতুন টিকা তৈরি এবং তা পরীক্ষা করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।

এর আগে ২০০২ সালে একই ধরনের একটি ভাইরাস সার্স এর প্রাদুর্ভাব ঘটে চীনে । কিন্তু সেবার চীন কী ঘটছে তা বিশ্বকে জানাতে দেরি করে। সে কারণে সার্স এর টিকা তৈরির কাজও শুরু হয় ভাইরাস সংক্রমণ প্রায় শেষ হয়ে আসার সময়ে। এবার চীন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে।