• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ৩০ চৈত্র ১৪২৭ ২৯ শাবান ১৪৪২

২৩ শিশুকে জিম্মি

উত্তর প্রদেশে জিম্মিকারীর স্ত্রীকে পিটিয়ে মারল উন্মত্ত জনতা

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , শনিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২০

ভারতের উত্তর প্রদেশে নিজের এক বছরের সন্তানের মিথ্যা জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে ২৩ শিশুকে জিম্মি করা এক ব্যক্তি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। এরপর স্থানীয়রা তার স্ত্রীকেও পিটিয়ে হত্যা করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে উত্তর প্রদেশের ফররুখাবাদে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়ে সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, জিম্মিকারীর নাম সুভাষ বাথাম। তিনি একটি হত্যা মামলার আসামি হলেও সম্প্রতি জামিনে ছিলেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো। এদিকে বিবিসি জানায়, শিশুদের জিম্মি করার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার পরও উদ্ধার পর্ব শেষ হতে ১০ ঘণ্টার মতো লাগে। কর্মকর্তারা দীর্ঘক্ষণ ধরে সুভাষকে আত্মসমর্পণে চাপ দিলেও তাতে সাড়া দেননি তিনি। পরে বাধ্য হয়েই ভবনটির ভেতরে ঢোকে স্থানীয় পুলিশ। গোলাগুলির একপর্যায়ে জিম্মিকারী সুভাষ নিহত হন। সুভাষের হাতে জিম্মি ছয় মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী সব শিশুকে নিরাপদেই উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

শিশুদের জিম্মি করে রাখার এ ঘটনায় ফররুখাবাদের বাসিন্দারা আতঙ্কে রাত কাটিয়েছেন বলে স্থানীয় সাংবাদিক দীপক কুমার শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল, কেউ ঘুমাননি। সবাই শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। পুলিশ জিম্মিকারীকে আত্মসমর্পণে রাজি করাতে কয়েক ঘণ্টা ধরে চেষ্টা করে। তারা ব্যর্থ হওয়ার পর ডাকা হয় বিশেষ বাহিনীকে।’ সুভাষ তার এক বছরের মেয়ের জন্মদিনের কথা বলে গ্রামের শিশুদের ডেকে নেন তার বাসায়। এরপর নিজের স্ত্রী আর মেয়েসহ ওই শিশুদের জিম্মি করেন। ‘তিনি মনে করতেন, খুনের মামলায় তার গ্রেপ্তার হওয়ার পেছনে গ্রামবাসীদের দায় আছে, তাই তিনি প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলেন’ বলে জানান দীপক।

জিম্মি করার ৭ ঘণ্টা পর পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে সুভাষ ছয় মাস বয়সী একটি শিশুকে বেলকনি দিয়ে প্রতিবেশীদের হাতে তুলে দেন। প্রতিবেশীদের কাছে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে সুভাষ তাদের লক্ষ্য করে গুলিও ছুড়েছিলেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। এ ঘটনা প্রসঙ্গে উত্তর প্রদেশ পুলিশের মহাপরিচালক ওম প্রকাশ সিং বলেছেন, ‘তার গুলি করার সক্ষমতা সম্বন্ধে অবগত হয়ে এবং তার বোমা মারার হুমকি শুনে জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তারা সবশেষে আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেন। আমরা বাড়িটিতে ঢোকার চেষ্টা করি, পরে গোলাগুলিতে সুভাষ নিহত হন।’ গোলাগুলিতে সুভাষের স্ত্রী, দুই পুলিশ সদস্য এবং এক পথচারীও আহত হন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে পুলিশের গুলিতে জিম্মিকারীর মৃত্যু হলেও রোষ থামেনি এলাকার উত্তেজিত জনতার। ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় পরে সুভাষের স্ত্রীকেও স্থানীয় জনতা ব্যাপক মারধর করে বলে এনডিটিভি জানিয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।