• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ মহররম ১৪৪২, ১২ আশ্বিন ১৪২৭

তেল স্থাপনায় হামলা

ইরান দায়ী হলে ‘জবাব দেবে’ সৌদি

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সৌদি আরব বলেছে, সম্প্রতি তাদের দুটি তেল স্থাপনায় হামলার জবাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক সংবাদ সম্মেলনে গত শনিবার দেশটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবেইর এ হামলার জন্য ইরানকে আবার দায়ী করে এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। এ হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের চির প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ দুটির মধ্যে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বরের ওই হামলায় সৌদি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান আরামকোর দুটি তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ স্থাপনা দুটির মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগারও রয়েছে। হামলার পরপরই বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারী দেশ সৌদির দৈনিক তেলের উৎপাদন কমে অর্ধেকেরও নিচে নেমে যায়। এতে বিশ্বের দৈনিক তেল সরবরাহ পাঁচ শতাংশ হ্রাস পাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য বেড়ে যায়। এমন প্রেক্ষাপটে গত শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে রিয়াদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবেইর । তিনি বলেন, সাম্প্রতিক হামলার তদন্তে ইরান দায়ী- এমনটি প্রমাণিত হলে এর জবাব দেয়ার জন যথযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে। তবে ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে সম্মেলনে তা জানাতে অস্বীকার করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে তার দেশ যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। হামলাটি ইয়েমেন থেকে করা হয়নি এটি আমরা নিশ্চিত, হামলাটি উত্তর দিক থেকে করা হয়েছে। তবে তা তদন্তকারীরাই প্রমাণ করবে।’ ইয়েমেনের শিয়াপন্থি হাউথি বিদ্রোহীরা হামলাটির দায় স্বীকার করলেও সৌদি আরব তা প্রত্যাখ্যান করেছে। হামলাটি উত্তর দিক থেকে হয়েছে এবং এতে ইরানি অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে, এ পর্যন্ত করা তদন্তে এমন তথ্য পাওয়ার কথা ইতোমধ্যে জানিয়েছে সৌদি আরব। হামলাটি ঠিক কোন জায়গা থেকে চালানো হয়েছে পরবর্তী তদন্তে তা নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছে তারা। ‘প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে’ সৌদি তার মিত্রদের সঙ্গে পরামর্শ করছে জানিয়ে এ বিষয়ে একটি অবস্থান নেয়ার জন্য বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুবেইর।

এদিকে এ হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে চলতি সপ্তাহে দেশটির বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি সৌদির বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা জোরদার করার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ঘনিষ্ঠ এ মিত্র দেশটিতে অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েনের পদক্ষেপ নিয়েছে।

সৌদি তেল স্থাপনায় হামলার জবাবে দেশটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার শুক্রবার এক ঘোষণায় উপসাগরে নতুন করে সেনা পাঠানোর এ পরিকল্পনার কথা জানান। সৌদিকে প্রতিরক্ষা সহায়তা দেয়ার অংশ হিসেবে এ সেনা মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার হিসেবে পরিচিত আরামকোর দুটি স্থাপনায় ভয়াবহ হামলার পর এ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এমন সিদ্ধান্ত নিল। প্রাথমিকভাবে কত সংখ্যক পাঠানো হবে তা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি। এদিন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এসপার জয়েন্ট চিপস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ডানফোর্ড জুনিয়রকে সঙ্গে নিয়ে সৌদি আরবে মার্কিন সেনা পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানান। এ সময় এসপার বলেন, ‘সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সহায়তা চেয়েছে। যে মার্কিন সেনাদের পাঠানো হবে তারা বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা বাড়ানোয় জোর দেবে। যুক্তরাষ্ট্র দেশ দুটিতে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের মাত্রাও বাড়াবে।’