• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৫, ১৭ শাবান ১৪৪০

লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

ইভিএম অভিযোগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে বিরোধীরা

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০১৯

image

চন্দ্রবাবু নাইডু

গত বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া ভারতের সর্ববৃহৎ নির্বাচন (১৭তম লোকসভা নির্বাচন) নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। এদিন সাত দফার এ নির্বাচনযজ্ঞের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে ১৮টি রাজ্যসহ দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। এদিনের ভোটগ্রহণের পর নতুন করে ইভিএম’র (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে একযোগে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ২০ দলের বিরোধী জোট। ইভিএমকে ‘চোর মেশিন’ আখ্যা দিয়ে এ মেশিনের মাধ্যমে কারচুপির অভিযোগ করেছে তারা।

ইভিএম’র ত্রুটির কারণে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ডের মতো কয়েকটি দেশ পুরনো ব্যালট পদ্ধতিতে ফিরে গেছে বলে যুক্তি দেখিয়ে তারা ভারতেও ব্যালট ফেরানোর দাবি করেছে। তাছাড়া, ভারতের নির্বাচন কমিশন ইভিএম-এ কারচুপি রুখতেও সচেষ্ট নয় বলে অভিযোগ তাদের। এনডিটিভি জানিয়েছে, ইভিএম-এ ত্রুটির বিষয়টি নিয়ে রোববার দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর বিরোধীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ৫০ শতাংশ মেশিনের পেপার ট্রেইল পরীক্ষা করে দেখার দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাবে তারা। বিরোধীদের পক্ষ থেকে অন্ধ্রপ্রদেশের তেলেগু দেশম পার্টি (টিডিপি) প্রধান ও মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু ইভিএম-এ ভোটগ্রহণ ব্যবস্থা তুলে দিয়ে ব্যালটে ভোট নেয়ার পদ্ধতি ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। গত বৃহস্পতিবার ভারতজুড়ে লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফা ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। অন্ধ্রপ্রদেশে এদিন বিধানসভারও প্রথম পর্বের ভোট হয়েছে। ভোটের শুরু থেকেই ইভিএম নিয়ে অনেক অভিযোগ এসেছে এবং কয়েকটি স্থানে ইভিএম মেশিন ভাঙচুরও হয়েছে। ইভিএম নিয়ে সরব ছিলেন বিরোধী মহাজোটের অন্য নেতা-নেত্রীরাও। তবে ইভিএম নিয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে এ নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। ১৫০টি বিধানসভা আসনে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন চন্দ্রবাবু। এদিকে দেশটির প্রধান বিরোধীদল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিংভি বলেন, প্রত্যেক বিধানসভায় ইভিএম’র ৫০ শতাংশ ভিভিপ্যাট সিøপ গোনার জন্য তারা নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেয়ার আবেদন জানাবেন সুপ্রিম কোর্টে। ইভিএম-এ কারচুপি নিয়ে দেশজুড়ে প্রচার চালানোরও হুমকি দেন তিনি।

‘রহস্যময় কালো ট্রাঙ্ক’ রাজনীতিতে উত্তাপ

অপরদিকে একটি কালো ট্রাঙ্ককে ঘিরে উত্তাপ ছড়িয়েছে ভারতের রাজনীতিতে। দেশটির প্রধান বিরোধীদল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অভিযোগ, ‘রহস্যময়’ ওই ট্রাঙ্কটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হেলিকপ্টার কনভয় থেকে নামানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছে তারা। এনডিটিভি জানায়, ঘটনাটি ঘটে এ সপ্তাহের শুরুর দিকে ৯ এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী মোদি কর্নাটকের চিত্রদুর্গে ভোটের প্রচারে যাওয়ার সময়। কংগ্রেস বলছে, প্রধানমন্ত্রী নামার আগেই তার নিরাপত্তারক্ষীরা ট্রাঙ্কটি তড়িঘড়ি করে হেলিকপ্টার থেকে নামিয়ে একটি গোপন জায়গায় নিয়ে যায়। কংগ্রেস মুখপাত্র আনন্দ শর্মা বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার পাহারায় থাকা আরও তিনটি কপ্টার দেখেছি। নামার পরই প্রধানমন্ত্রীর কপ্টার থেকে একটি কালো ট্রাঙ্ক নামিয়ে দৌড়ে গিয়ে তা এক বেসরকারি গাড়িতে তুলে দেয়া হয়। গাড়িটি মোদির বিশেষ নিরাপত্তা বহরে ছিল না।’ নির্বাচন কমিশনের কাছে এ ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন আনন্দ শর্মা। ওই ট্রাঙ্কে কী ছিল তাও জানতে চেয়েছেন তিনি। বলেছেন, ওতে কী আছে মোদির তা জানানো উচিত ছিল। ট্রাঙ্কে টাকাও থাকতে পারে বলে তিনি অভিযোগ করেন। নির্বাচন কমিশনের কাছে কংগ্রেসের কর্নাটক শাখা এরই মধ্যে অভিযোগ দায়ের করেছে বলেও জানান আনন্দ শর্মা।

মোদির হেলিকপ্টার থেকে কালো ট্রাঙ্ক তড়িঘড়ি করে নামানোর অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে শনিবারই কর্নাটকের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি দীনেশ গুন্ডু রাও নিজের টুইটার হ্যান্ডলে ১৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। সে ভিডিওতেই ধরা পড়েছে প্রধানমন্ত্রীর কপ্টার থেকে ট্রাঙ্কটি নামিয়ে দ্রুতই একটি ইনোভা গাড়িতে তুলে দেয়ার দৃশ্য। গাড়িটি সঙ্গে সঙ্গে রওনা হয়ে যায়। নির্বাচন কমিশনের কাছে দীনেশ গুন্ডু রাওয়ের দাবি- ট্রাঙ্কে কী রাখা ছিল, গাড়িটাই বা কার, সবকিছু তদন্ত করে দেখা হোক। অন্যদিকে মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) কালো ট্রাঙ্ক নিয়ে কংগ্রেসের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। কংগ্রেসের বরং দুর্নীতির ক্ষেত্রে নিজেদেরই স্বচ্ছতার দিকে মনোনিবেশ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছে দলটি। এনডিটিভি।