• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৫, ২২ শাওয়াল ১৪৪০

‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , বুধবার, ০৭ মার্চ ২০১৮

পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী কয়েকটি ভাষণের অন্যতম সেরা ৭ মার্চের ভাষণ। বাঙালির অমর নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১-এর উত্তাল বিকেলে ঢাকার রমনায় অবস্থিত রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) অনুষ্ঠিত জনসভায় এ ভাষণ দেন। যে ভাষণ প্রায় আড়াই দশকের (২৪ বছর) পাকিস্তানি শোষণ-নিপীড়নে পিষ্ট জাতিকে ভাগ্য পরিবর্তনে উৎসাহ জুগিয়ে মুক্তিকামী বাঙালিতে রূপান্তরিত করেছে। আর এর মধ্যদিয়েই এটি বাঙালি জাতির ভাগ্য বদলের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীক হয়ে ওঠে। গত বছর (২০১৭ সাল) ৩০ অক্টোবর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো এ ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য (ডকুমেন্টারি হেরিটেজ) হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ওইদিন ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা এক ঘোষণায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

রাজনীতি, ধর্ম বা সমাজ গঠনে বিশ্বের সফল নেতাদের সাফল্যের পেছনে রয়েছে অবিস্মরণীয় এক বা একাধিক ভাষণ। ক্রান্তিকালে এসব ভাষণ মুক্তিকামী মানুষের কাছে আলোকবর্তিকা হয়ে দেখা দেয়। বিভিন্ন কারণে এসব ভাষণের কোন কোনটি আবার ঠাঁই করে নিয়েছে ইতিহাসের পাতায়। রাজনৈতিক কারণে অমর হয়ে ওঠা বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি এ পর্যন্ত ১২টি ভাষায় অনুদিত হয়েছে। ৪৬ বছর আগে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতাকামী ৭ কোটি মানুষকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ ১৮ মিনিট স্থায়ী এ ভাষণের জন্যই মার্কিন ম্যাগাজিন নিউজউইক বঙ্গবন্ধুকে রাজনীতির ‘মহাকবি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ওই ভাষণের ১৮ দিন পর পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালি নিধনে নামলে বঙ্গবন্ধুর ডাকে শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। নয় মাসের সেই সশস্ত্র সংগ্রামের পর বাঙালি জাতি পায় স্বাধীনতার স্বাদ। ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণায় ইউনেস্কোর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউনেস্কোর ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ তালিকায় বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে স্থান দেয়া হয়েছে। এ তালিকার মাধ্যমে ইউনেস্কো বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে থাকে। ইউনেস্কো জানিয়েছে, তাদের মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড (এমওডব্লিউ) কর্মসূচির ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কমিটি গত ২৪ থেকে ২৭ অক্টোবর প্যারিসে দ্বিবার্ষিক বৈঠক শেষে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণসহ মোট ৭৮টি দলিলকে ‘ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে ‘মেমোরি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে’ যুক্ত করার সুপারিশ করে। এরপর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা ওই সুপারিশে সম্মতি দিয়ে বিষয়টি ইউনেস্কোর নির্বাহী পরিষদে পাঠিয়ে দেন। এরই ধারবাহিকতায় ৩০ অক্টোবর সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ওই তথ্য প্রকাশ করেন। নিয়ম অনুযায়ী, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কমিটির সুপারিশে মহাপরিচালকের সম্মতি পেলেই কোন দলিলকে ওই তালিকায় যুক্ত করে নেয়া হয় এবং পরে তা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকা সেদিন ছিল মিছিলের শহর। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে মানুষ পায়ে হেঁটে, বাস-লঞ্চে কিংবা ট্রেনে চেপে রেসকোর্স ময়দানে সমবেত হন। সবার হাতে ছিল বাংলার মানচিত্র আঁকা লাল সূর্যের অসংখ্য পতাকা। বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি আর হাতাকাটা কালো কোট পরে বাঙালির প্রাণপুরুষ বঙ্গবন্ধু সেদিন দৃপ্তপায়ে উঠে আসেন রেসকোর্সের মঞ্চে। ভাষণে তিনি বলেন, ‘আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার লোককে হত্যা করা হয়, তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সবকিছু, আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি, তোমরা বন্ধ করে দেবে।’ সেদিনের উত্তাল জনসমুদ্র যখন স্বাধীনতার ঘোষণা শুনতে উদগ্রীব, তখন এরপর বঙ্গবন্ধু উচ্চারণ করেন তার চূড়ান্ত আদেশ, ‘তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেবো- এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো, ইনশাল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।