• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬, ১৬ রবিউল আওয়াল ১৪৪১

‘বিচারহীনতা সংস্কৃতির কারণে ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে’

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, ঢাবি

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০১৯

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। গতকাল বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ‘ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সচেতন ছাত্র-শিক্ষক’ ব্যানারে আয়োজিত এ বিক্ষোভ সমাবেশে নুসরাতকে হত্যার বিচারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।

ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. কাবেরী গায়েনের সভাপতিত্বে এবং একই বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌসের সঞ্চালনায় ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিয়া রহমান, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হুমায়ুন কবির, সাদা দলের সাবেক আহ্বায়ক অধ্যাপক আখতার হোসেন খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন।

বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে উল্লেখ করে ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। এগুলোর বিচার করতে আমাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন। কারণ প্রত্যেকটা ঘটনায় জড়িতরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবান্বিত। আমি মনে করি, ধর্ষকের কোন রাজনৈতিক পরিচয় নেই, সে ধর্ষকই। তার একমাত্র পরিচয় সে ধর্ষক, নিপীড়নকারী ও নির্যাতনকারী। সেই দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েই আমাদের দেখা উচিত। আমি মনে করি নুসরাত হত্যার বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা উচিত।

অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এমএম আকাশ বলেন, নুসরাতের ঘটনায় প্রমাণ হয় আমাদের সমাজ অসুস্থ হয়ে গিয়েছে। এত অসুস্থ যে শিক্ষক ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করেন। এটা সভ্য সমাজের লক্ষণ নয়। আমাদের সমাজে কোন একটা জায়গায় রোগ হয়ে গিয়েছে। অসুস্থ হয়ে গিয়েছি আমরা সবাই। প্রশাসন যদি এই অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেয় তাহলে আমরা আবার রাস্তায় দাঁড়াব। আমরা বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. কাবেরী গায়েন বলেন, তনু হত্যার পর সারাদেশ যেভাবে বিচারের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। মনে হয়েছিল কিছু একটা হবে। কিন্তু হয়নি। মিতু হত্যা হয়েছে তার কোন বিচার হয়নি। সাগর-রুনি হত্যাকান্ডের বিচার হয়নি। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে আমরা বের হতে চাই। বিচারহীনতার কারণেই বারবার এই ঘটনা ঘটছে।

উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল নুসরাত জাহান রাফির গায়ে আগুন দেয় কয়েকজন দুর্বৃত্ত। আগুনে দগ্ধ নুসরাত ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মকসুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন রাফির বড় ভাই নোমান। ইতোমধ্যেই নুসরাত হত্যার দায় স্বীকার করে আটককৃত আসামিরা জবানবন্দি দিয়েছেন।