• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, ২১ রবিউল আওয়াল ১৪৪১

জাবিতে আন্দোলন চলছেই

৬০ গজ ব্যানারে পটচিত্র এঁকে দুর্নীতির প্রতিবাদ

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, জাবি

| ঢাকা , শনিবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৯

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। গতকাল দুপুর ১২টা থেকে পটচিত্র অঙ্কনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান তুলে ধরেন।

দুপুর ১২টার সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় পুরাতন রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে জড়ো হয়। পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী পটচিত্র অঙ্কন শুরু করা হয়। এ সময় তারা ভিসিবিরোধী নানা ধরনের স্লোগানে সাজিয়ে তোলেন তাদের চিত্র। চিত্রাঙ্কন শেষে ব্যাঙ্গাত্বক উক্তি ও চিত্রাঙ্কিত ব্যানার নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে মিছিল করেছে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনকারীরা। মিছিলটি কলা ও মানবিকী অনুষদে এসে শেষ হয়।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ৬০ গজ লম্বা কাপড়ে ব্যাঙ্গাত্বক চিত্রের মাধ্যমে অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদের ভাষা প্রকাশ করা হয়েছে। চিত্রের মাধ্যমে উপাচার্যের দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, ছাত্রলীগ দ্বারা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলাসহ সব অনিয়ম তুলে ধরছেন তারা। একই সঙ্গে উপাচার্যের অপসারণ চাইছেন।

ব্যতিক্রমী এ কর্মসূচির ব্যাপারে আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয় বলেন, ব্যাঙ্গাত্বক চিত্র অঙ্কনের মাধ্যমে আমরা উপাচার্যের অনিয়ম স্বেচ্ছাচারিতা তুলে ধরেছি। এর আগে আমরা ৩০ গজ লম্বা কাপড়ে একইভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম কিন্তু আমাদের সেই ক্যানভাসটি ছিড়ে ফেলা হয় যার প্রতিবাদে এবার ৬০ গজ কাপড়ে উপাচার্যের দুর্নীতি ও অনিয়ম তুলে ধরেছি। এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত ও আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নথিপত্র মেইল করবেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এর আগে গত মঙ্গলবার উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে তার বাসভবনের সামনে অবস্থানরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হন। এর প্রেক্ষিতে ওইদিন সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস ও আবাসিক হল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এবং রাতে এক বিবৃতির মাধ্যমে ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাসহ সবধরনের মিছিল ও সমাবেশ নিষিদ্ধ করে করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে উপাচার্য অপসারণের এক দফা দাবি নিয়ে এসব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনের সমন্বয়ক দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, হামলা-মামলা ও হুমকিতে অগ্রাহ্য করে নৈতিক স্খলন ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত উপাচার্যকে অপসারণ এবং দুর্নীতিতে জড়িত সবার রাষ্ট্রীয় আইনে বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন চলবে।

এদিকে বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্যের অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রসঙ্গে অধ্যাপক অনু মুহামম্মদ তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, এতদিন ধরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ঘিরে যে অভিযোগ ঘুরছে তা উত্থাপন করেছে আপনার ছাত্র সংগঠনের নেতারাই। তারপরও তদন্ত কমিটি করেননি কেন? বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত কমিটি যদি ভিসিকে নির্দোষ প্রমাণ করত তাহলে অভিযোগ উত্থাপনকারী হিসেবে ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেন। ভিসিবিরোধী আন্দোলনও হতো না, শিক্ষক শিক্ষার্থীদের এতোদিন কষ্টও করতে হতো না। তদন্ত কমিটিও করেননি, দীর্ঘসূত্রতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে।

এখন সেই ছাত্রলীগই যখন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করছে, ভিসি যখন তাদের পেশীর জোর নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দিয়েছেন, জোরজবরদস্তি করে হল খালি করা হয়েছে তখন আপনি অভিযোগের আঙুল তুলছেন সেই আক্রান্ত, আহত, রক্তাক্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যারা বিশ্ববিদ্যালয়কে অপরিকল্পনা, দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, সন্ত্রাস আর অশিক্ষা থেকে মুক্ত করতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কেন? এই শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের তো ধন্যবাদ প্রাপ্য।

আবরারের খুনের জন্য যারা দায়ী তাদের স্থায়ী বহিষ্কারসহ কয়েকটি দাবি করেছেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। দাবি মেনে নিয়েও তা পুরো কার্যকর করছে না প্রশাসন। এতো ঘণ্টা ধরে নির্যাতন করে একজন শিক্ষার্থীকে খুন করল যারা তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে বুয়েট প্রশাসন, আপনার রাগ তো তাদের প্রাপ্য। অথচ আপনার ক্রোধ বর্ষিত হচ্ছে নিপীড়িত ভয়ার্ত শিক্ষার্থীদের প্রতি, তাদের বহিষ্কারের কথা বলছেন! অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে আপনার এত রাগ হয় কেন?