• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০১৯, ৬ মাঘ ১৪২৫, ১২ জমাউল আওয়াল ১৪৪০

৬ লাখ টাকা ঘুষসহ কাস্টমস কর্মকর্তা গ্রেফতার

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ১১ জানুয়ারী ২০১৯

সমুদ্রগামী জাহাজকে ছাড়পত্র দেয়ার জন্য ঘুষ আদায়ের অভিযোগে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের রেভিনিউ অফিসার (প্রশাসন) নাজিমুদ্দিনকে ঘুষের ৬ লাখ টাকাসহ আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলার উপপরিচালক মুহ. মাহবুবুল আলমের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় নাজিমুদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃপক্ষ। এদিকে বরখাস্ত হওয়া কাস্টমস কর্মকর্তা নাজিমুদ্দিনের সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।

দুদক সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে সমুদ্রগামী জাহাজকে ছাড়পত্র প্রদানে ঘুষ বাণিজ্য ও দুর্নীতির বিষয়ে দুদকের অভিযোগ কেন্দ্রে (হটলাইন-১০৬) অভিযোগ পেয়ে গতকাল সেখানে অভিযান চালিয়েছে দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিট। দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক ও মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী আজ এ অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন। দুদকের চট্টগ্রাম-২ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মুহ. মাহবুবুল আলমের নেতৃত্বে সহকারী পরিচালক জাফর আহমেদ ও মো. হুমায়ুন কবীর এ অভিযানে অংশগ্রহণ করেন।

অভিযানকালে দুদকের টিম চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রেভিনিউ অফিসার (প্রশাসন) নাজিমুদ্দিন কর্তৃক সমুদ্রগামী জাহাজের ছাড়পত্র প্রদানে হয়রানির সত্যতাসহ ঘুষ গ্রহণের প্রমাণ পায়। দুই ঘণ্টার এ অভিযান শেষে কাস্টমস অফিসার নাজিমুদ্দিন কর্তৃক ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলে গতকালই তাকে বরখাস্ত করা হয়। এদিকে অভিযানের এক পর্যায়ে নাজিমুদ্দিনের ব্যবহৃত স্টিল আলমিরা খুলে দুদক টিম ৬ লাখ টাকা উদ্ধার করে এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলে তা জব্দ করে। এর পরপরই দুদক টিম উদ্ধারকৃত টাকাসহ তাকে গ্রেফতার করে।

এ অভিযান পরিচালনা প্রসঙ্গে এনফোর্সমেন্ট অভিযানের সমন্বয়কারী দুদকের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বলেন, ‘দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যকে নির্বিঘœ রাখতে দুদক এ অভিযান চালিয়েছে। দেশের রাজস্ব আদায়ের প্রবেশদ্বারকে অবশ্যই দুর্নীতিমুক্ত রাখতে হবে। শিপিং এজেন্টসহ ব্যবসায়ীরা ঘুষ প্রদানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলে এবং ঘুষ প্রদানে বিরত থেকে দুদকে তাৎক্ষণিক অভিযোগ করলে এ ধরনের দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব। দুর্নীতির প্রমাণ পেলে দুদক অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেবে। দায়ী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদক অনুসন্ধান শুরু করবে। ভবিষ্যতে কেউ যাতে দুর্নীতি ও হয়রানির শিকার না হয়, কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। যে কোন মুহূর্তে এ ধরনের অভিযান আরও চালানো হবে।’