• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ৭ কার্তিক ১৪২৭, ৫ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

দেশে করোনা পরিস্থিতি

২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৪৮ নতুন শনাক্ত ২৬৯৫

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২০

image

দেশে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩ হাজার ৮৩ জনে। এছাড়া করোনা আক্রান্তদের মধ্যে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৬৯৫ জন। এনিয়ে এখন পর্যন্ত মোট করোনা পজিটিভ শনাক্ত হলেন ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৮৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৬৬৮ জন এবং এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৬০ জন সুস্থ হয়েছেন। গতকাল কোভিড-১৯ সম্পর্কিত নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১২ হাজার ৬৬৭টি, নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১২ হাজার ৯৩৭টি। এখন পর্যন্ত ১১ লাখ ৬৪ হাজার ১৯৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৮৩ শতাংশ, এখন পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ২০ দশমিক ১৮ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৬ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩১ শতাংশ। মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে পুরুষ ৩৬ জন এবং নারী ১২ জন। এখন পর্যন্ত মোট পুরুষ মারা গেছেন ২ হাজার ৪২৪ জন, যা ৭৮ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং নারী মারা গেছেন ৬৫৯ জন, যা ২১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে মারা গেছেন ৪১ জন এবং বাড়িতে মারা গেছেন ৭ জন।

২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে বয়স বিবেচনায় ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে একজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে চারজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৪ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে পাঁচজন এবং ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে একজন রয়েছেন। এ পর্যন্ত শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে মারা গেছেন ১৮ জন, যা শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ৩০ জন, যা শূন্য দশমিক ৯৭ শতাংশ, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৮৫ জন, যা দুই দশমিক ৭৬ শতাংশ, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২০২ জন, যা ছয় দশমিক ৫৫ শতাংশ, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৪৩৫ জন, যা ১৪ দশমিক ১১ শতাংশ, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৮৯০ জন, যা ২৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং ষাটের অধিক ১ হাজার ৪২৩ জন, যা ৪৬ দশমিক ১৬ শতাংশ।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগভিত্তিক মৃতের সংখ্যা ঢাকা বিভাগে ১৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১২ জন, খুলনা এবং সিলেট বিভাগে পাঁচজন করে, রাজশাহীতে তিনজন এবং বরিশাল, রংপুর এবং ময়মনসিংহ বিভাগে দুইজন করে রয়েছেন। এ পর্যন্ত বিভাগভিত্তিক মৃতের সংখ্যা এবং শতকরা হারে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে ১ হাজার ৪৭৫ জন, যা ৪৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৫১ জন, যা ২৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ, রাজশাহীতে ১৮২ জন, যা পাঁচ দশমিক ৯০ শতাংশ, খুলনা বিভাগে ২১৯ জন, যা সাত দশমিক ১০ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে ১০২ জন, যা তিন দশমিক ৯২ শতাংশ, সিলেট বিভাগে ১৫১ জন, যা চার দশমিক ৯০ শতাংশ, রংপুর বিভাগে ১৭৭ জন, যা তিন দশমিক ৮০ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৭ জন, যা দুই দশমিক ১৭ শতাংশ। আইসোলেশনে গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্ত হয়েছেন ৬৩৫ জন, এ সময় ছাড়া পেয়েছেন ৭৩৬ জন। এ পর্যন্ত সর্বমোট আইসোলেশনে গেছেন ৪৯ হাজার ৯৫১ জন এবং ছাড় পেয়েছেন ৩১ হাজার ৩৮৩ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৮ হাজার ৫৬৮ জন। ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিনে যুক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৪৫৩ জন এবং এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে গেছেন চার লাখ ৩৪ হাজার ৩৯৭ জন। ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড়া পেয়েছেন দুই হাজার ২৭২ জন এবং এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন তিন লাখ ৭৬ হাজার ৯৭২ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছেন ৫৭ হাজার ৪২৫ জন।

ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ঢাকা মহানগরীতে সাধারণ শয্যায় ভর্তি আছেন দুই হাজার ৮৪ জন এবং আইসিইউ শয্যায় ভর্তি আছেন ১৯৩ জন। সারাদেশের অন্যান্য হাসপাতালের সাধারণ শয্যায় রোগী ভর্তি আছেন এক হাজার ৫৩৭ জন এবং আইসিইউতে রোগী ভর্তি আছেন ১০৬ জন। সারাদেশে সবমিলিয়ে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ২৪০টি, রোগী ভর্তি আছেন তিন হাজার ৯৭১ জন, শয্যা খালি আছে ১১ হাজার ২৬৯টি। সারাদেশে আইসিইউ শয্যার সংখ্যা ৫৪৯টি, রোগী ভর্তি আছেন ৩২৩ জন, শয্যা খালি আছে ২২৬টি। সারাদেশে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা ১২ হাজার ৩৫২টি, হাই ফ্লো নেজাল ক্যানোলার সংখ্যা ৩১৪টি এবং অক্সিজেন কনসেনট্রেটরের সংখ্যা ১৫৭টি।

করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত ও সুস্থ থাকতে বরাবরের মতো সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয় বুলেটিনে। চীনের উহান শহর থেকে গত ডিসেম্বরে ছড়ানো করোনাভাইরাস বিপর্যস্ত করে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে। বিশ্বজুড়ে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এখন ১ কোটি ৭২ লাখ ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা ৬ লাখ ৭০ হাজারের বেশি। তবে ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১ কোটি ৭ লাখ ১৬ হাজার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। প্রথম মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ।