• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১ মহররম ১৪৪২, ০৩ আশ্বিন ১৪২৭

প্রতিদিনই ভাঙছে আগের রেকর্ড 

২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৭৯০ জন

মৃত্যু ৩ জন ৬৪ জেলায়ই শনাক্ত করোনা

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২০

image

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণে দেশে প্রতিদিনই আগের রেকর্ড ভঙ্গ হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সর্বোচ্চ ৭৯০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। গত সাত দিন ধরে প্রতিদিন শনাক্তের সংখ্যা আগের দিনের চেয়ে বেড়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাস সংক্রমণে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৭১৯ জনে। এদিকে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৩ জন। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮৬ জনে। লকডাউন ও সামাজিক দূরত্ব না থাকায় দিন দিন করোনাভাইরাস সংক্রমণে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। উদ্ভেগ উৎকন্ঠার মধ্যেও রোজার ঈদ উপলক্ষে শপিংমল খুলে দেয়া, মসজিদ খুলে দেয়া, যানবাহান সীমিত পরিসরে চালু করাসহ বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

গতকাল দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয় হাজার ৭৭১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ছয় হাজার ২৪১টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ৯৯ হাজার ৬৪৬টি। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন নমুনা পরীক্ষায় আরও ৭৯০ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এটি আগের ২৪ ঘণ্টার সংখ্যাকে ছাড়িয়ে এটি সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৭১৯ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও তিনজন। এ নিয়ে মোট ১৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

নতুন করে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে দু’জন পুরুষ ও একজন নারী, দু’জন ঢাকার এবং একজন ঢাকার বাইরের, দুজন ষাটোর্ধ্ব এবং একজন চল্লিশোর্ধ্ব।

বুলেটিনে ডা. নাসিমা সুলতানা আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন নেয়া হয়েছে ১৮৪ জনকে এবং বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন এক হাজার ৭৯৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৯৪ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন এক হাজার ৩২৭ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়েছে তিন হাজার ৮৮৯ জনকে। এ পর্যন্ত নেয়া হয়েছে দুই লাখ এক হাজার ৭০০ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম এবং প্রাতষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড়া পেয়েছেন তিন হাজার ৮৭২ জন এবং এ পর্যন্ত মোট ছাড়া পেয়েছেন এক লাখ ৬০ হাজার ৫৬১ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ৪১ হাজার ১৯৩ জন। বুলেটিনে বলা হয়, সারাদেশে কোয়ারেন্টিনের যে ব্যবস্থা রয়েছে তাতে একসঙ্গে সেবা দেয়া যাবে ৩০ হাজার ৯৫৫ জনকে। আর রাজধানীসহ সারাদেশে আইসোলেশন শয্যা রয়েছে আট হাজার ৫৯৪টি। তন্মোধ্যে রাজধানী ঢাকায় দুই হাজার ৯০০টি এবং রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঁচ হাজার ৬৯৪টি। এসব হাসপাতালে আইসিইউ বেড আছে ৩৩০টি এবং ডায়ালাইসিস ইউনিট আছে ১০২টি।

৬৪ জেলায়ই শনাক্ত করোনা

রাঙ্গামাটি জেলায় গতকাল ৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তারা সবাই রাঙ্গামাটি শহরের বাসিন্দা। এর মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলায়ই পাওয়া গেল করোনা।

করোনা রোগী শনাক্তের সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। মোট আক্রান্তের ৮৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। গতকাল পর্যন্ত এই বিভাগে মোট ৮ হাজার ৩৫ জন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। মোট মৃত্যুবরণ করেছে ১৫৫ জন। মোট শনাক্তের ঢাকা মহানগরীতে রয়েছে ৫ হাজার ৬৭৪ জন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ। এই জেলায় গতকাল পর্যন্ত ১০৭৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যুবরণ করেছে ৪১ জন। তৃতীয় স্থানে রয়েছে গাজীপুর জেলা। এই জেলায় ৩২৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত একজনও মারা যায়নি। গতকাল পর্যন্ত দেশে মোট রোগী শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ৭১৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৯০ জনের মধ্যে নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। মারা গেছে ৩ জন। মোট মৃত্যুবরণ করেছে ১৮৬ জন। দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪০৩ জন সুস্থ হয়েছে বলে আইইডিসিআর সূত্রে জানা গেছে।

বাংলাদেশের কোন জেলায় কতজন করোনা রোগী আক্রান্ত হয়েছে গত সোমবার পর্যন্ত জেলাভিত্তিক তথ্য প্রকাশ করেছে আইইডিসিআর’র ওয়েবসাইটে।

ঢাকা বিভাগ : এ বিভাগে মোট ৮ হাজার ৩৫ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে আক্রান্ত হয়েছে ৫ হাজার ৬৭৪ জন। মারা গেছে ১০০ জন। এছাড়া ঢাকা জেলায় আক্রান্ত হয়েছে ১৬৮ জন, মারা গেছে ৩ জন, গাজীপুরে আক্রান্ত হয়েছে ৩২৮ জন, মৃত্যু নেই, কিশোরগঞ্জে আক্রান্ত হয়েছে ২০২ জন মারা গেছে ১ জন, মাদারীপুরে আক্রান্ত ৫৩ জন, মারা গেছে ২ জন, মানিকগঞ্জে শনাক্ত ২৮ মৃত্যু নেই, নারায়ণগঞ্জে শনাক্ত ১০৭২ জন মারা গেছে ৪১ জন, মুন্সীগঞ্জে শনাক্ত ১৭০ জন মারা গেছে ৪ জন, নরসিংদীতে শনাক্ত ১৫৭ জন মারা গেছে ১ জন, রাজবাড়ীতে শনাক্ত ২৩ জন মৃত্যু নেই, ফরিদপুরে শনাক্ত ২১ জন মৃত্যু নেই, টাঙ্গাইলে শনাক্ত ৩০ জন মারা গেছে ৩ জন, শরীয়তপুরে শনাক্ত ৫৪ জন মারা গেছে ১ জন ও গোপালগঞ্জে ৪৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন এখন পর্যন্ত কেউ মারা যায়নি।

চট্টগ্রাম বিভাগ : এ বিভাগে মোট ৪৫৫ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় শনাক্ত ১১২ জন মৃত্যু ২ জন, কক্সবাজারে ৪০ জন মৃত্যু নেই, কুমিল্লায় ১৩০ জন মৃত্যু ৪ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫৬ জন মৃত্যু ২ জন, লক্ষ্মীপুরে ৪৫ জন মৃত্যু ১ জন, খাগরাছড়িতে ২ জন মৃত্যু নেই, রাঙামাটিতে ৪ জন মৃত্যু নেই, বান্দরবানে ৭ জন মৃত্যু নেই, নোয়াখালীতে ২২ জন মৃত্যু ১ জন, ফেনীতে ৭ জন মৃত্যু নেই ও চাঁদপুরে ৩৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন মৃত্যু নেই।

সিলেট বিভাগ : এই বিভাগে মোট ১৬১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ২৭ জন মৃত্যু ২ জন, মৌলভীবাজারে ২৯ জন মৃত্যু ৩ জন, সুনামগঞ্জে ৩৫ জন মৃত্যু নেই ও হবিগঞ্জে ৭০ জন মৃত্যু নেই।

রংপুর বিভাগ : এই বিভাগে মোট ২২০ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রংপুরে ৮২ জন মৃত্যু ১ জন, গাইবান্ধায় ২৪ জন, নীলফামারীতে ৩১ জন, লালমনিরহাটে ৪ জন, কুড়িগ্রামে ২২, দিনাজপুরে ২৯, পঞ্চগড়ে ৮ ও ঠাকুরগাঁওয়ে ২০ জন শনাক্ত হয়েছে। এই বিভাগের অন্য জেলায় আর কেউ মৃত্যুবরণ করেনি।

খুলনা বিভাগ : এই বিভাগে মোট ১৮৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা জেলায় ১৭, যশোর ৭৫, বাগেরহাটে ২, নড়াইলে ১৩, মাগুরায় ৮, মেহেরপুরে ৪, সাতক্ষীরায় ৪, কুষ্টিয়ায় ১৮, চুয়াডাঙ্গায় ১৫ ও ঝিনাইদাহে ৩৩ জন। এই বিভাগে শুধু মেহেরপুরে ১ জন মারা গেছে।

ময়মনসিংহ বিভাগ : এই বিভাগে মোট ৩৬৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ময়মনসিংহ জেলায় ১৯৮, জামালপুরে ৭৯, নেত্রকোনায় ৬২ ও শেরপুরে ২৭ জন। এই বিভাগে ৬ জন মৃত্যুবরণ করেছে।

বরিশাল বিভাগ : এই বিভাগে মোট ১৩১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বরগুনায় ৩৩, ভোলায় ৬, বরিশালে ৪৪, পটুয়াখালীতে ২৮, পিরোজপুরে ১০ ও ঝালকাঠিতে ১০ জন। এ বিভাগে ২ জন মারা গেছে।

রাজশাহী বিভাগ : এই বিভাগে মোট ১২৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। জয়পুরহাটে ৩৪, পাবনায় ১৬, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২, বগুড়ায় ১৯, নওগাঁয় ১৭, নাটোরে ১১, সিরাজগঞ্জে ৪ এবং রাজশাহীতে ২৬ জন। এই বিভাগে ৪ জন মারা গেছেন।

নিজস্ব বার্তা পরিশেক, পার্বত্যাঞ্চল, জানান, রাঙ্গামাটি জেলায় গতকাল ৪ জনের দেহে পজিটিভ এসেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৯ মাসের এক শিশু ও একজন নারী নার্স রয়েছেন। তারা সবাই রাঙ্গামাটি শহরের বাসিন্দা।

জানা গেছে, কিছুদিন আগে রাঙ্গামাটি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম ভেটেরেনারি ও এনিম্যাল সাইন্স বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে পাঠানো হয়। গতকাল এ ৪ জনের দেহে করোনা পজিটিভ আসে। আক্রান্তদের মধ্যে ৯ মাসের শিশু, ৩৮ বছরের এক মহিলা নার্স, ১৯ বছরের যুবক ও ৫০ বছরের পুরুষ রয়েছেন। শনাক্তকৃত লোকজনদের এলাকা হচ্ছে শহরের রিজার্ভ বাজার এলাকায় ১ জন, দেবাশীষ নগরে ১ জন ও রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতাল এলাকায় ২ জন।

রাঙ্গামাটি সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসা সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আক্রান্তদের সঙ্গে যারা সংস্পর্শে এসেছেন তাদের খোঁজ নেয়া হচ্ছে।