• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১ মহররম ১৪৪২, ০৩ আশ্বিন ১৪২৭

নারায়ণগঞ্জ

১২ দিনেও আসেনি করোনা রিপোর্ট

আটকে আছে দু’শতাধিক নমুনা

সংবাদ :
  • সৌরভ হোসেন সিয়াম, নারায়ণগঞ্জ

| ঢাকা , রোববার, ০৩ মে ২০২০

নারায়ণগঞ্জ থেকে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআরে পাঠানো ২ শতাধিক নমুনার ফলাফল আটকে আছে। এমনকি ১২ দিন আগে পাঠানো নমুনার ফলাফল এখনও নারাণয়নগঞ্জে পৌঁছেনি। নারায়ণগঞ্জে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ইতোমধ্যে হাজার ছাড়িয়েছে। এভাবে নমুনা পরীক্ষার ফল পেতে দেরি হলে জেলায় সংক্রমণের মাত্রা আরও বেড়ে যাবে। তাছাড়া নমুনা বেশি দিন ফ্রিজে রাখার পর পরীক্ষা করলে তার ফলাফলে ভুল আসার সম্ভবনা বেড়ে যায় বলেও জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেন। এছাড়া করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারিত নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালেও নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ইতোমধ্যে জেলায় ৩১৬৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়। তবে গত কয়েক দিনের পাঠানো প্রায় পাঁচ শতাধিক নমুনার ফলাফল আটকে ছিল আইইডিসিআরে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩শ’ নমুনার ফলাফল পাঠালেও এখনও আটকে আছে আরও দুই শতাধিক নমুনার ফলাফল। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, গত ২১ এপ্রিল ২৪৬ জন এবং ২২ এপ্রিল ২০৩ জনের নমুনা পাঠানো হয়। এই দুই দিনের পাঠানো অধিকাংশ নমুনার ফলাফল নারায়ণগঞ্জে পাঠানো হয়নি। এছাড়া ২৫, ২৬ ও ২৭ এপ্রিলেরও বেশ কয়েকটি নমুনার ফলাফল নারায়ণগঞ্জে পাঠানো হয়নি বলে জানায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। গত কয়েক দিনের পাঠানো প্রায় পাঁচ শতাধিক নমুনার ফলাফল আটকে ছিল আইইডিসিআরে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩শ’ নমুনার ফলাফল পাঠালেও এখনও আটকে আছে আরও দুই শতাধিক নমুনার ফলাফল। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এত রিপোর্ট আটকে যাওয়াতে গত ২৯ এপ্রিল থেকে আইইডিসিআরে নয় জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি প্রতিষ্ঠানে (আইপিএইচএন) নমুনা পাঠাচ্ছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। কিছু নমুনা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে স্থাপিত বেসরকারি করোনা পরীক্ষাগারেও পাঠানো হচ্ছে।

রিপোর্ট আটকে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা করোনা ফোকাল পারসন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম সংবাদকে বলেন, ‘২১, ২২ এপ্রিল পাঠানো রিপোর্টের ফল এখনও পাইনি। গত কয়েক দিনের ৫ শতাধিক রিপোর্ট আটকে ছিল। কিছু কিছু রিপোর্ট আসতেছে। তবে এখনও দুই শতাধিক রিপোর্ট পাওয়া বাকি আছে। দ্রুতই সেসব আসবে বলেই আশা করছি।’

এদিকে নমুনা পরীক্ষার ফলাফল না পাওয়ায় করোনায় মৃত্যু হলেও জানতে পারছে না অনেকে। করোনা পজেটিভ কিংবা নেগেটিভ নিশ্চিত না হওয়াতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় গত ২১ এপ্রিল নমুনা দিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ নগরীর নিতাইগঞ্জের বাসিন্দা আবদুল বারেক (৭৩)। অ্যাজমার রোগী ছিলেন তিনি। ২৫ এপ্রিল মারা যান তিনি। তবে করোনা পজেটিভের রিপোর্ট আসে ১ মে। তার ছেলে মোহাম্মদ মাসুম বলেন, ‘বাবায় মারা যাওয়ার পরও তার রিপোর্ট পাই নাই। গতকাল (১ মে) ফোন দিয়ে জানায়, তার করোনা পজেটিভ ছিল। এখন রিপোর্ট দিয়ে আমি কী করব? আগে জানাইলে সঠিক চিকিৎসা পাওয়া যাইতো।’

মাসুমের মতো একই অভিযোগ দেওভোগ এলাকার ঋতু আক্তারের। গত ২২ এপ্রিল মৃত্যু হয় তার বাবা জালাল হাজীর (৫৩)। ২৯ এপ্রিল করোনা পরীক্ষার ফলাফলে জানতে পারেন করোনা ছিল তার। করোনা পরীক্ষার ফলাফল পাঠাতে দেরি হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক বলছেন চিকিৎসকরা। এতে সংক্রমণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। তাছাড়া নমুনা সংগ্রহের পর দেরিতে করোনা পরীক্ষা করা হলে তার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারা।

এ বিষয়ে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ইফতেখার উদ্দিন সাগর সংবাদকে বলেন, ‘নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পেতে দেরি হলে আক্রান্ত ব্যক্তি ভাবেন তিনি সুস্থ। নিজেকে নেগেটিভ বিবেচনা করে তিনি বিভিন্ন স্থানে যাবেন, অনেকের সঙ্গে মিশবেন। এতে সংক্রমণের মাত্রা বেড়ে যায়। তাছাড়া নমুনা ৪-৫ দিন ফ্রিজে রেখে দিলে তার থেকে পাওয়া রিপোর্ট ভুল আসার সম্ভবনাও বেড়ে যায়।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ও সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ সংবাদকে বলেন, আইইডিসিআরে নমুনা বেশি জমে যাওয়ার বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদফতরে জানানো হলে জেলার নমুনাগুলো জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে বলা হয়। গত বুধবার থেকে জেলার নমুনা সেখানে পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি রূপগঞ্জে বেসরকারি ল্যাবেও কিছু নমুনা পাঠানো হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট সংগ্রহ করা যায়।

রিপোর্ট পেতে দেরি হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল রাতে আইইসিডিআর-এর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সংবাদকে বলেন, নারায়ণগঞ্জের কোন রিপোর্ট এখনও আটকে আছে কিনা তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। তবে আমাদের এখানে কিছু সমস্যার কারণে পরীক্ষায় কিছুটা দেরি হচ্ছে। আমরা এখন ২৭ ও ২৮ এপ্রিল পাঠানো নমুনা পরীক্ষা করছি। তবে শীঘ্রই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে মনে করছি।

প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১০০১ জন, মারা গেছেন ৪৬ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৩০ জন।