• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৫ রবিউস সানি ১৪৪১

হুজিবির তিন জঙ্গি গ্রেফতার

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ অক্টোবর ২০১৯

আফগানিস্তানে সোভিয়েতবিরোধী যুদ্ধে অংশ নেয়া হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের (হুজিবি) শীর্ষ জঙ্গি আতিকুল্লাহ ওরফে আসাদুল্লাহ ওরফে জুলফিকার ও তার দুই সহযোগীকে বুধবার রাতে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকার নিকুঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। গতকাল তাদের ৪ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আতিকুল্লাহর দুই সহযোগী হলো মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন ওরফে শামীম (৪৫) ও বোরহান উদ্দিন রাব্বানী (৪২)।

আদালতে সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) রাফাত আরা সুলতানা জানান, তদন্ত কর্মকর্তা ও খিলক্ষেত থানার পরিদর্শক কামরুজ্জামান মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আসামিদের আদালতে হাজির করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক প্রত্যেককে ৪ দিন করে রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন। আতিকুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করে দেশে হুজিবিকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছিল। গত মার্চে সে দেশে আসে। তার বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।

সিটিটিসির উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আতিকুল্লাহ হুজিবিকে নতুন করে সংগঠিত করার জন্য দেশে এসেছিল। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার অন্যান্য সহযোগী সম্পর্কে এবং তারা কী পরিকল্পনা করছিল, তা জানার চেষ্টা করা হবে।

সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানান, আতিকুল্লাহ ১৯৯৬ সালে মুফতি হান্নানের নেতৃত্বে গঠিত হুজিবির কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক ছিল। পরে সে বায়তুল মাল ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের দায়িত্বশীল হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রথম দিকে আতিকুল্লাহ দুবাই হয়ে সৌদি আরব পালিয়ে যায়। সেখান থেকে একাধিকবার সে পাকিস্তান গিয়ে দেশটির জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে। সেসব বৈঠকে বাংলাদেশে হুজিবিকে সচল করার নানা পরিকল্পনা করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আতিকুল্লাহ জানায়, সে আশির দশকের শেষের দিকে আফগানিস্তানে সোভিয়েতবিরোধী যুদ্ধে অংশ নেয়। সে বোমা তৈরিতে বিশেষভাবে দক্ষ। ওই সময় থেকেই তার সঙ্গে আল কায়েদার প্রয়াত প্রধান ওসামা বিন লাদেন, তালেবানের সাবেক শীর্ষ নেতা মোল্লা ওমরসহ আল কায়েদার বর্তমান নেতা আইমান আল জাওয়াহেরির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। গত মার্চে সে দেশে এসে নতুন করে হুজিবিকে সংগঠিত করার কাজে নামে। ইতোমধ্যে সে নতুন-পুরনো অনেক সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এছাড়া সে জেলে থাকা হুজিবি সদস্যদের জামিনে বের করে আনার জন্যও তৎপর ছিল। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় তার তৎপরতা ছিল। রোহিঙ্গা ও কাশ্মীর ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে সে নতুন সদস্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করছিল।

সিটিটিসির এক কর্মকর্তা জানান, হুজিবি সংগঠিত করতে আতিকুল্লাহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সফর করেছে বলে স্বীকার করেছে। এছাড়া দেশি সমর্থক ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা হুজিবি সমর্থকদের কাছ থেকে সে সংগঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহ করছিল। তার সঙ্গে পাকিস্তান, দুবাই ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে পলাতক জঙ্গিদের যোগাযোগের তথ্য-প্রমাণও পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আতিকুল্লাহর সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া নাজিম উদ্দিন হুজিবির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্বশীল এবং বোরহান উদ্দিন রাব্বানী ফেনী জেলার দায়িত্বে আছে। আতিকুল্লাহর বাড়ি ফেনী জেলার দাগনভুঁইয়া দেবরামপুর এলাকায়। তার বাবার হাফেজ আহসান উল্লাহ। নাজিম উদ্দিনের বাবার মাওলানা আবু ওবায়দুল্লাহ। বাগেরহাটের ডেমা মধ্যপাড়ায় তাদের গ্রামের বাড়ি। রাব্বানীর গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ থানার হাবিবপুর এলাকায়। তার বাবার হাফেজ হোসাইন।