• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২০ মার্চ ২০১৯, ৬ চৈত্র ১৪২৫, ১২ রজব ১৪৪০

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নানা পরিকল্পনা

সড়ক উন্নয়ন ও মহাসড়কে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে গুরুত্ব সর্বাধিক

সংবাদ :
  • মাহমুদ আকাশ

| ঢাকা , শনিবার, ১২ জানুয়ারী ২০১৯

জাতীয় মহাসড়কে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, সড়ক-মহাসড়কে উন্নয়ন এবং গণপরিবহনে শৃঙ্খলা বিধানে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এছাড়া ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কাজের সমন্বয়ের পরিকল্পনা গ্রহণ ও চলমান প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের সুপারিশ। পাশাপাশি ঢাকা-সিলেট ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং সড়কে শৃঙ্খলা বিধানে কঠোর নির্দেশনাসহ একাধিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের সকল কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

গত সাত বছর ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব চালিয়ে আসা ওবায়দুল কাদের এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সড়ক অবৈধ দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু অনেক জায়গায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালীদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে ম্যাজিস্ট্রেটদের। উচ্ছেদ চালানো হলেও অল্প দিনের মধ্যে রাস্তা ফিরে গেছে আগের চেহারায়। নতুন মেয়াদে একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে ওবায়দুল কাদের ইতোমধ্যে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর বিষয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। এ বিষয়ে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, দেশের চলমান সড়ক-মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি নতুন করে ঢাকা-সিলেট ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী জুনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ কাজ শুরু হবে। সড়কে শৃঙ্খলা বিধান অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে সড়ক প্রশস্তকরণের সুফল জনগণ পাবে না। এ লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের চলমান প্রকল্পসমূহ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। শীঘ্রই শেষ হতে যাচ্ছে জয়দেবপুর-এলেঙ্গা চার লেনে উন্নীতকরণ কাজ। এগিয়ে চলেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২য় কাচপুর ২য় মেঘনা ও ২য় গোমতী সেতুর কাজ। ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ের বাস্তবায়ন কাজ এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বিমানবন্দর হতে কুতুবখালী পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ কাজও গতি পেয়েছে। মেট্রোরেল রুট-৬ এর কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। এর পাশাপাশি রুট-১ এবং রুট-৫ এর নির্মাণকাজ শুরুর প্রক্রিয়া চলমান। এ দুটি রুটে ২৯ কিলোমিটার হবে পাতাল রেল। এছাড়া কর্ণফুলী টানেলের চলমান কাজ গতি পেয়েছে।

গতকাল গাজীপুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাবে সড়ক মন্ত্রী বলেন, সাত দিনের নোটিস দিয়ে দেশের ২২টি জাতীয় মহাসড়ক থেকে ‘অবৈধ দখল’ উচ্ছেদ করা হবে। অবৈধ দখল আর অবৈধ পার্কিং এ দুটো উচ্ছেদে যদি আমরা সফল হতে পারি, তাহলে সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা অনেকটাই ফিরে আসবে। সে কাজটি আমরা হাতে নিয়েছি। আমরা নিদ্ধান্ত নিয়েছি সড়কগুলোকে অবৈধ দখল মুক্ত করব। সাত দিনের নোটিস দিয়ে সারা বাংলাদেশে কাজটি শুরু হবে। আমি আজকেই এ ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছি। পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশকে বলা হয়েছে, কোনো অবস্থাতেই অবৈধ পার্কিং অ্যালাউ করা হবে না। দেশের মহাসড়কগুলোতে বিভিন্ন জায়গায় রাস্তার পাশের জমিতে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে হাট-বাজার, দোকানপাট। কোথাও কোথাও এলোপাতাড়ি গাড়ি রেখে ট্রাক স্ট্যান্ড বানিয়ে ফেলা হয়েছে। এসব অবৈধ স্থাপনা ও ট্রাক স্ট্যান্ডের কারণে সড়ক সংকীর্ণ হচ্ছে এবং ভিড়ের কারণে দূরপাল্লার যানবাহনের গতি কমে যাচ্ছে। গাড়ির চাপ সামান্য বাড়লেই তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট, দুর্ঘটনাও ঘটছে অহরহ।

গতকাল চন্দ্রা ত্রিমোড়ে ফ্লাইওভারের কাজ দেখার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জনগণকে স্বস্তি দিতে সড়কে নিরাপত্তার জন্য এটা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এ বার্তাটাই আমি জনগণকে দিতে চাই। মানুষের জীবন আগে, জীবিকা পরে। আমি যদি বাঁচতেই না পারি তাহলে জীবিকার সন্ধান কী করে হবে! গরিব মানুষ জীবিকার কথা আগে ভাবে। কিন্তু তারা জীবনের কথা ভাবে না। ছোট ছোট যানগুলো যখন এক্সিডেন্ট হয়, তখন চালক ও আরোহী সকলেই মারা যান। বড় গাড়ির সঙ্গে ছোট গাড়ির একটু টোকা লাগলেই মারাত্মক এক্সিডেন্ট ঘটে। বর্তমানে এক্সিডেন্টের হার কমে গেলেও মৃত্যুর হার বেড়ে গেছে।

নতুন মেয়াদে দায়িত্ব পালনে সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ওপরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গত বৃহস্পতিবার সচিবালয় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, প্রথম রাতে বিড়াল মারার মতোই’ এ বিষয়গুলোতে নজর দিতে হবে। পারিনি বলেই তো নতুন করে উদ্যোগ নিচ্ছি, পারিনি কিছুই এমন তো নয়। সড়ক যোগাযোগে যে উন্নয়ন হয়েছে, ইতিহাসে এটা স্বীকার করতে হবে, এটা বৈপ্লবিক উন্নয়ন; যেটা আগে কখনো ঘটেনি। সরকারের এই মেয়াদে দেশের সড়ক-মহাসড়ক এবং গণপরিবহনে শৃঙ্খলা বিধান মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হবে। সড়ক ও পরিবহনে বিশৃঙ্খলা থাকলে নতুন নতুন সড়ক বা সেতু করে কোনো লাভ হবে না। আট লেনের রাস্তা করলাম, সেখানে শৃঙ্খলা নেই, সুফল তো দিচ্ছে না। সবাইকে নির্দেশনা দিয়েছি। শৃঙ্খলার বিষয়টা প্রথম দিকেই করতে হবে, পরে আবার পলিটিক্যাল বিষয় আসবে, চাপ আসবে। প্রথম রাতে বিড়াল মারার মতোই এ বিষয়গুলো নজর দিতে হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে ২০১৫ সালের ১ আগস্ট দেশের ২২টি জাতীয় মহাসড়কে সব ধরনের থ্রি-হুইলার চলাচল নিষিদ্ধ করেছিল সরকার। কিন্তু সড়ক-মহাসড়কে অবাধে চলছে নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলার। কখনো কখনো উল্টোপথেও চলছে এসব ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন। এজন্য ঝুঁকি ও দুর্ঘটনা বাড়ছে। কিছুদিন সেই চেষ্টা অব্যাহত থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আগের অবস্থায় ফিরে যায় সবকিছু। মহাসড়কগুলোয় অবাধে চলতে শুরু করে ঝুঁকিপূর্ণ থ্রি-হুইলার, নসিমন, করিমন, রিকশা ও ভ্যান। ফলে মহাসড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বেড়েই চলেছে। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশের নির্লিপ্ততা, রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব এবং কার্যকর তদারকির অভাবে মহাসড়কে থ্রি-হুইলার বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা যাচ্ছে না। এজন্যই ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন মহাসড়কের কোনো সুবিধা মিলছে না বলে স্থানীয়রা জানান।

এ বিষয়ে সওজ’র ঢাকা সড়ক সার্কেলের তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী মো. সবুজ উদ্দিন খান সংবাদকে বলেন, সারাদেশের সড়ক-মহাসড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া জাতীয় ২২ মহাসড়কে নসিমন, করিমন, ভটবটিসহ অযান্ত্রিক যানবাহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সিএনজি চালিত অটোরিকশা যে ২২টি মহাসড়কে নিষিদ্ধ সেগুলোতে কঠোরভাবে এই নির্দেশনা কার্যকর করা হবে বলে জানান তিনি।