• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১ মহররম ১৪৪২, ০৩ আশ্বিন ১৪২৭

সড়কে বেড়েছে সাধারণের চলাচল, গণপরিবহন

করোনা বৃদ্ধির আশঙ্কা

সংবাদ :
  • ইবরাহীম মাহমুদ আকাশ

| ঢাকা , সোমবার, ০৪ মে ২০২০

লকডাউন ভেঙে রাস্তাঘাটে বের হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এর ফলে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে বেড়েছে গণপরিবহন। ফুটপাতে বসানো হচ্ছে দোকানপাট। তবে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সাধারণ ছুটি আগামী ১৬ মে পর্যন্ত বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা করছে সরকার। করোনাভাইরাসের এই আতঙ্কের মধ্যে লকডাউন না মেনে সড়ক-মহাসড়ক, অলি-গলি, বাজার-ঘাটের মানুষের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক্ষেত্রে সামাজিক বা শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা বিষয়টি মানছে না অনেকেই। তাই করোনভাইরাসের সংক্রমণ কমার চেয়ে বৃদ্ধির আশঙ্কা করছে বিশেষজ্ঞরা।

সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন সড়কে আগের তুলনায় যানবাহন ও মানুষের চলাচল অনেক বেড়েছে। রাস্তাঘাটে চলাফেরার ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কড়াকড়ি না থাকায় অনেকেই সাহস করে ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন। তবে সব শ্রেণী ও পেশার মানুষের মধ্যেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার (মুখে মাস্ক, হাতে গ্লাভস এবং শরীরে পিপিই) অভ্যাস দেখা গেছে। গত কয়েক দিনের তুলনায় গতকাল ঢাকার প্রধান প্রধান সড়কে প্রাইভেট কার, পিকআপ ভ্যান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও ছোটখাটো যানজটও দেখা গেছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজারেও ক্রেতাদের বেশ ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কয়েক দিন আগেও রাস্তাঘাটে সুনসান নীরবতা বিরাজ করলেও এখন আর সে অবস্থা নেই। রমজান উপলক্ষে রাস্তাঘাটে ভাসমান ফলমূল ও শাক-সবজি বিক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। ধীরে ধীরে পাড়া-মহল্লার দোকানপাটও খুলতে শুরু করেছে। যদিও এখনও সবার মধ্যে কাজ করছে অজানা আতঙ্ক।

যাত্রাবাড়ী এলাকার মুদি দোকানদার আকবর আলী সাংবাদিকদের বলেন, করোনার ভয়ে গত এক মাসেরও বেশি সময় দোকান বন্ধ রেখেছেন। এ সময় আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় জমা টাকা খরচ করে সংসার চালিয়েছেন। মনে মনে আতঙ্ক থাকলেও আয়-রোজগারের আশায় দোকান খুলে বসেছেন এবার। তবে সর্তকতা হিসেবে তিনি মুখে মাস্ক ও হাতে গ্লাভস পরে বেচাকেনা করছেন বলে জানান।

মালিবাগ এলাকার সাইদুর নামের ভ্যান দোকানদার বলেন, গত বেশ কিছু দিন ঘরে বসা ছিলেন। কয়েকবার ফুটপাতে কলা বিক্রির চেষ্টা করলেও পুলিশ তাড়িয়ে দেয়। সংসারের খরচ চালাতে গত শনিবার থেকে ভ্যানে ফলমূল বিক্রয় করছি। বেচাকেনাও মোটামুটি ভালো। করোনার ভয় পেলে বউ পোলাপানরা না খাইয়া মরবো।

তবে রাস্তাঘাটে যতবেশি মানুষ বের হবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ তত বৃদ্ধি পাবে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে আইইডিসিআর’র সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মোস্তাক হোসেন সংবাদকে বলেন, যতদিন করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না ততদিন দেশ লকডাউন রাখতে হবে। এই লকডাউনের কোন দিনক্ষণ বলা যাবে না। মানুষের সংস্পর্শ যত কম হবে আক্রান্তের সংখ্যা তত কম হবে। কিন্তু বাংলাদেশে দিন দিন আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর বড় কারণ মানুষ ঘরে থাকে না। তাই যত সম্ভব মানুষের ঘরে থাকতে হবে। বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীদের খুঁজে বের করে আলাদা রাখতে হবে। তা না হলে এটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।