• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২০ আগস্ট ২০১৮, ৫ ভাদ্র ১৪২৫, ৭ জিলহজ ১৪৩৯

ঈদের বাকি দুইদিন : রাজধানী ছাড়ছে মানুষ

সড়কপথে যানজট : লঞ্চ ও ট্রেনে যাত্রীবোঝাই

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ জুন ২০১৮

ঈদের আর মাত্র দুইদিন বাকি। তাই পরিবার-আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামে যাচ্ছেন রাজধানীবাসী। তাই গতকাল সরকারি ছুটি থাকায় সকাল থেকে রাজধানীর বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালে ছিল ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়। তবে সড়কপথে রাজধানী থেকে বের হওয়ার সময় যানজটে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। লঞ্চ ও ট্রেনে দেখা গেছে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে ছেড়ে যেতে। যাত্রাপথে যানজটের ভোগান্তি ও দুর্ভোগ শিকার হলেও প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করা অন্য রকম আনন্দ বলে জানান যাত্রীরা।

জানা গেছে, ঈদ যাত্রায় সড়কপথে ঢাকা থেকে বের হওয়ার পথেই যানজটের শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে খানাখন্দে ভরা সড়ক, রাস্তার পাশে অবৈধ স্থাপনা, ফুটপাতের দোকান, অবৈধ গাড়ি পার্কিং ও নদীর উপর ছোট সেতুর কারণে রাজধানীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার মুখেই প্রতিনিয়ত প্রচন্ড যানজটের শিকার হতে হয় আন্তঃজেলা যানবাহনকে। যাত্রাবাড়ী থেকে কাচপুর পার হতেই লাগছে ১-২ ঘণ্টারও বেশি। এ পথ দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ওঠা হয়। ঢাকার মহাখালী-বনানী-আবদুল্লাহপুর হয়ে উত্তরবঙ্গগামী ও সিলেটগামী গাড়ি চলাচল করে। কিন্তু মহাখালী থেকে আবদুল্লাহপুর পার হতে দুই ঘণ্টাও লাগছে। যাত্রাবাড়ী থেকে মাওয়ার পথে বড় যানজটের শুরু হয় যাত্রাবাড়ীতেই। এছাড়া গুলিস্তান বংশাল মোড় থেকে বাবুবাজার ব্রিজ, আমিনবাজার ব্রিজ-গাবতলীর মোড়, কামারপাড়া-আবদুল্লাহপুর মোড় ও সুলতানা কামাল ব্রিজ থেকে ডেমরা মোড়সহ রাজধানীর প্রবেশ ও বের হওয়া এই ৭টি মুখেই প্রচন্ড যানজটের শিকার হতে হয় পরিবহনকে। এছাড়া রাজধানীর ভিতরের ভাঙ্গাচুড়া রাস্তাগুলো সংস্কারের কাজ চলায় বিশৃঙ্খলা অবস্থা তৈরি হয়েছে ভিতরের সড়কগুলোতে। এর ফলে রাজধানীর ভিতরের সড়কেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে ঘরমুখো মানুদের।

রাজধানীর কল্যাণপুর এলাকায় রুবেল নামের এক যাত্রী বলেন, অগ্রিম টিকিট

বিক্রির সময় বলেছিল ১৩ তারিখের টিকিট নাই। এখন কয়েক কাউন্টার ঘুরে এখানে এসে টিকিট পেলাম। বেশি দামে বিক্রির জন্য রেখে দিয়েছিল। এখন পর্যন্ত রাস্তার পরিস্থিতি ভালো থাকার কথা তুলে ধরে ‘আনন্দ নিয়ে’ বাড়ি ফিরতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করছেন তিনি। কল্যাণপুর থেকে বেলা ১টার শ্যামলী পরিবহনের বাস গাইবান্ধার উদ্দেশে ছেড়ে যায় আধঘণ্টা পর। সেই বাসের যাত্রী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা হাসনাত শাহীন। ওই বাসের অপেক্ষায় থাকার সময় শিশুকন্যা শায়ানকে চিপস কিনে দিতে দোকানে গেলে কথা হয় তার সঙ্গে। স্ত্রী ও দুই সন্তানকেসহ গাইবান্ধার পলাশবাড়ির পরিবারের উদ্দেশে রওনা করছেন শাহীন। তিনি বলেন, “বাস কাউন্টারে চলে আসছে। আধাঘণ্টা দেরি হচ্ছে এটা তত দেরি নয়। দেখি রাস্তার পরিস্থিতি কেমন থাকে।”

এদিকে ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে রাজধানীর সায়েদাবাদে তিনটি পরিবহনের কাউন্টার বন্ধ করে দিয়েছে বিআরটিএ’র ভ্রাম্যমাণ আদালত। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল বিকেলে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, “অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার অভিযোগে তিনটা কাউন্টার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। একটা হচ্ছে হিমাচল পরিবহন, একুশে পরিবহন ও রয়েল পরিবহন। এই তিনটি পরিবহনের সায়েদাবাদের কাউন্টার বন্ধ আছে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার অভিযোগে।” বিআরটিএ’র নির্বাহী হাকিম মুহাম্মদ আবদুর রহিম সুজন ওই অভিযান পরিচালনা করেন।

অপরদিকে ট্রেনে ঈদযাত্রার চতুর্থ দিনে গতকাল সকাল থেকেই কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরমুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। তবে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ১২টি ট্রেন দেরিতে স্টেশন ছেড়েছে। যাত্রীদের মধ্যে এ নিয়ে দেখা যায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। গত দুই দিনের তুলনায় গতকাল ভোর থেকেই স্টেশনে মানুষের ভিড় বেশি ছিল। সড়কপথে যানজটের ঝক্কি এড়াতে অনেকে বিকল্প হিসেবে রেলপথে ভ্রমণ করছেন। গত তিন দিন বেশির ভাগ ট্রেন নির্ধারিত সময়ে প্ল্যাটফর্ম ছেড়েছিল। তবে বুধবার নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কয়েকটি ট্রেন দেরিতে যাওয়ায় যাত্রীরা কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ঈদ স্পেশাল ট্রেনসহ সারা দিনে মোট ৫৯টি ট্রেন কমলাপুর ছেড়ে গেছে। রাজশাহী, দেওয়ানগঞ্জ, পার্বতীপুর, লালমনিরহাট ও খুলনার উদ্দেশে পাঁচটি বিশেষ ট্রেন ছেড়ে বলে রেলওয়ে সূত্র জানায়।

গতকাল রেলমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি রাজশাহীগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রামগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেসের যাত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, ‘শুধু একটি ট্রেন যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে দেরিতে ছেড়েছে। সেটি হচ্ছে সুন্দরবন এক্সপ্রেস। মাত্র ৫৫ মিনিট দেরি করেছে। বাকি সব ট্রেনই যথা সময়ে কমলাপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে গেছে। আমাদের লক্ষ্য যাত্রীদের সেবা দেওয়া।’ তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারেও এই প্রতিবেদক স্টেশনে দাঁড়িয়ে দেখেছেন, একটি নয়, দেরিতে ছেড়েছে ১২টি ট্রেন।

প্রতিদিন তিন লাখ যাত্রী ট্রেনে আসা-যাওয়া করছে বলে রেলমন্ত্রী জানিয়ে রেলমন্ত্রী বলেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সেবা দিয়ে ঈদযাত্রা নির্বিঘœ করতে সতর্ক রয়েছে। ট্রেনের ছাদে কিন্তু কোন যাত্রী নেই। কারণ, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যাত্রীদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে ছাদে ওঠা আইনবহির্ভূত। এ বছর যাত্রীরা ছাদে কেউ ওঠেননি। ঈদে রেলওয়ের কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে যাত্রীদের সেবা নিশ্চিতের জন্য।’ তবে কমলাপুর স্টেশন থেকেই কোন কোন যাত্রীকে ছাদে ভ্রমণ করতে দেখা গেছে।

এদিকে রাজধানীর সদরঘাট টার্মিনালেও গতকাল ছিল ঘরমুখো মানুষের ভিড়। প্রতিটি লঞ্চ পূর্ণ হলেই গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে। ভিড়ের কারণে ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকা থেকেই ব্যাপক যানজটের তৈরি হয়েছে। এমভি টিপু-১২ লঞ্চের কেবিন বয় এবং স্টাফরা পন্টুনে দাঁড়িয়ে যাত্রীদের ডাকছেন, সিট আছে, কেবিন লাগবে? আল আমিন নামের ওই লঞ্চের এক স্টাফ জানান, লঞ্চের টাইম-টেবিল নাই। লোড হলেই লঞ্চ ছেড়ে দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। একই চিত্র দেখা যায় আরও কয়েকটি লঞ্চে। পিরোজপুরের ভান্ডারিয়াগামী একটি লঞ্চের যাত্রী জাফর বলেন, ছোটখাট লঞ্চে টিকিট লাগে না। উঠলেই হয়। গতকাল সারাদিন প্রায় ৯০-১০০টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে বলে সদরঘাট সূত্র জানায়।