• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ৬ জৈষ্ঠ্য ১৪২৫, ১৪ রমজান ১৪৪০

স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত হলেন সিলেটের পারভীন

সংবাদ :
  • আকাশ চৌধুরী, সিলেট

| ঢাকা , শনিবার, ১৬ মার্চ ২০১৯

image

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত বাংলাদেশি নারী হুসনে আরা পারভীন (৪২)-এর বাড়ি সিলেটে। স্বামীর সঙ্গে তিনি নিউজিল্যান্ড থাকতেন। স্বামী ফরিদ উদ্দিনকে বাঁচাতে গিয়েই ফরিদা মারা যান বলে তাদের পারিবকারিক সূত্রে জানা গেছে।

ফরিদ উদ্দিন আহমদের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার চকগ্রামে। আর হুসনে আরা পারভীন সিলেটের গোলাপগঞ্জের জাঙ্গাল হাটা গ্রামের মৃত নুরুদ্দিনের মেয়ে। ১৯৯৪ সালে বিয়ে হওয়া এই দম্পত্তির এক কন্যাসন্তান রয়েছে। সর্বশেষ ২০০৯ সালে তারা বাংলাদেশে এসেছিলেন।

ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে এই সন্ত্রাসী হামলায় তিনজন বাংলাদেশি নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এরমধ্যে পারভীনই একমাত্র নারী। তবে এ হামলায় বেঁচে গেছেন তার স্বামী ফরিদ উদ্দিন।

হুসনে আরার ভাগ্নে মাহফুজ চৌধুরী জানান, বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে নিউজিল্যান্ড যান হুসনে আরা। তারা ক্রাইস্টচার্চ এলাকায় বসবাস করতেন। তার স্বামী ফরিদ উদ্দিন কিছুদিন দিন ধরে প্যারালাইজড অবস্থায় আছেন। হামলার প্রায় আধঘণ্টা আগে মসজিদে অসুস্থ স্বামীকে রেখে পার্শ্ববর্তী নারীদের জন্য মসজিদে যান হুসনে আরা।

মাহফুজ চৌধুরী বলেন, প্রায় ১৫ মিনিট পর পুরুষদের মসজিদের ভেতরে গুলির শব্দ শুনে পারভীন তার স্বামীকে বাঁচানোর জন্য বের হন। এসময় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তাকে গুলি করলে তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান।

নিউজিল্যান্ডের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনও নিহত পারভীনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেনি জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে পারভীনের নিহত হওয়ার বিষয়টি নিউজিল্যান্ডে অবস্থানকারী তার স্বজনদের জানানো হয়েছে।

তার খালু বেঁচে আছেন জানিয়ে মাহফুজ চৌধুরী বলেন, মসজিদের বাইরে গুলির শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন মুসল্লি হুইল চেয়ারে করে তাকে (ফরিদ উদ্দিনকে) মসজিদ থেকে বের করে নেয়ায় তিনি বেঁচে গেছেন।

নিউজিল্যান্ডে বসবাসকারী নিহত পারভীনের ভাবী হিমা বেগম ঘটনার পর টেলিফোনে সিলেটে থাকা পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। মাহফুজ চৌধুরী বলেন, ‘সন্ত্রাসী হামলার প্রায় এক ঘণ্টা পর হিমা বেগম ফোন করে পারভীন খালার নিহতের খবরটি আমাদের জানিয়েছেন। তখন বাংলাদেশ সময় আনুমানিক সকাল ১০টা।