• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবন ১৪২৫, ১৯ জিলকদ ১৪৪০

শাহজালাল বিমানবন্দরে

স্বর্ণ ও মুদ্রা পাচারকারী একাধিক চক্র সক্রিয়

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , শনিবার, ১৬ মার্চ ২০১৯

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে চোরাচালানের মাধ্যমে আনা স্বর্ণ ও মুদ্রা পাচারকারী গ্রুপের একাধিক চক্র ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি কয়েকটি চালান ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ধরা পড়েছে। এসব চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রকে শনাক্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই চক্রটি ২০০৯ সাল থেকে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন বিমানবন্দর ব্যবহার করে বিদেশ চোরাইভাবে আনা স্বর্ণ ও মুদ্রা পাচার করে আসছে। এ চক্রের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় ডজনখানেক মামলাও রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজন গ্রেফতার হয়ে জেলে থাকলেও মূল হোতারা অনেকেই আত্মগোপনে থেকে চোরাকারবারের সক্রিয় রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, চোরাকারবারি এ চক্রের মূল হোতাসহ সব সদস্যদের ধরতে চেষ্টা চলছে।

সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে ৮টি সোনার বারসহ বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মী আইয়ুব মিয়ার ছেলে আমিরুল আটক হন বিমানবন্দরের কাস্টমস হাউজের কর্মীদের হাতে। ওই ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা হয় (মামলা নং ৮২(৭) ২০১৪। ওই মামলায় আইয়ুব আলীর ছেলে আমিরুলকে রিমান্ড হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী জানতে পারে জব্দ হওয়া স্বর্ণের চালানের মূল মালিক ফরিদ আহমেদ মিনা। এরপর পুলিশ ফরিদ মিনা সম্পর্কে তদন্ত করতে গিয়ে জানতে পারে ফরিদ আহমেদ মিনার শ্যালক আমিরুল। আর নিরাপত্তাকর্মী আইয়ুব আলী ফরিদ মিনার শশুর। মূলত শ্বশুরের সহযোগিতায় ফরিদ মিনা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে স্বর্ণ ও মুদ্র চোরাচালানের রুট হিসেবে গড়ে তুলেছে। স্বর্ণ ও মুদ্রা চোরাচালানের জন্য নিজের শ্বশুর, শ্যালক, ভাই, ভগ্নিপতি, আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে একটি বড় চোরাকারবারিদের সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। বিভিন্ন সময়ে এসব চক্রের একাধিক সদস্য এ পর্যন্ত একাধিক স্বর্ণ ও মুদ্র চোরাচালানসহ আটক হয়েছে। প্রত্যেক ঘটনায় আটককৃতদের কাছ থেকে ফরিদ আহমেদ মিনার নাম বেরিয়ে আসলেও তাকে ধরতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে সব মামলায় জামিন নিয়ে ফরিদ মিনা ফের সোনা চোরাচালানে সক্রিয় হয়ে ওঠে। সম্প্রতি বিমানবন্দরের শুল্ক ও গোয়েন্দাদের অভিযানে ধরা পড়া একাধিক সোনার চালানও ওই চক্রের বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

বিমানবন্দর কাস্টমস হাউসের একজন রাজস্ব কর্মকর্তা জানান, ফরিদ মিনা আর্ন্তজাতিক মুদ্রা ও সোনা পাচারকারী দলের অন্যতম গডফাদার। সে ২০১০ সালে তার শ্বশুর বিমানবন্দরের নিরপত্তাকর্মী আইয়ুব আলী মোল্লার সহযোগিতা সোনা ও মুদ্রা পাচার শুরু করে। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসেদপুর। তার বিরুদ্ধে ডজনখানেক মামলা থাকলেও তাকে গ্রেফতার করা যাচ্ছে ফরিদ মিনা মুকসেদপুরের পশ্চিম নওখন্ডা গ্রামের সোলায়মান মিনার ছেলে। একাধিক মামলার তদন্তে জানা গেছে, গডফাদার ফরিদ মিনার সহযোগী হিসেবে একাধিক আইনজীবী ও পুলিশ সদস্যও জড়িত আছে। সোনা চোরাচালানে ক্যারিয়ার হিসেবে কাজ করে নুমান মিনা (৩৬), হাফিজুর শেখ (৩৫), নয়াকান্দির সবুজ শেখ (৩২), পশ্চিম নওখন্ডার মামুন সিকাদার (৩২), সালাহউদ্দিন মিনা (২৮), সৌরভ মিনা (২৭), একই এলাকার ইকবাল শেখ (৩২), আবুল হোসেন ওরফে উলু ও সোহেল সিকদার রয়েছে। এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ডজনখানেক মামলা রয়েছে।