• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৫ রবিউস সানি ১৪৪১

স্টেনো টাইপিস্ট ব্যবহার করতেন সরকারি পাজেরো জিপ

দশ বছর অবৈধ ব্যবহারের পর উদ্ধার

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

image

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দ গাড়ি ব্যবহার করেছেন প্রতিষ্ঠানের স্টেনো-টাইপিস্ট মো. আলাউদ্দিন মিয়া নামে এক কর্মচারী। গত ১০ বছর ধরে এ কর্মচারী প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দ করা পাজেরো গাড়ি শুধু ব্যবহারই করেননি বরং গাড়ির ড্রাইভার ও অন্যান্য খরচ বাবদ প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি করেছেন। তার অন্য কোন গুণ নেই, গুণ শুধু তিনি সিবিএ নেতা। আর সিবিএ নেতা হওয়ার সুবাদে তিনি কর্মচারী হয়ে কর্মকর্তাদের মতো চলাফেরা করেছেন। এমনকি অবসরে গিয়েও এসব সুবিধা ভোগ করেছেন প্রভাব সৃষ্টির মাধ্যমে। অবশেষে দুদকের অভিযোগ কেন্দ্রে অভিযোগ এলে দুর্নীতি দমন কমিশনের টিম ওই কর্মচারীর দখলে থাকা সরকারি পাজেরো গাড়িটি উদ্ধার করেছেন। তবে গত ১০ বছরে অন্যায়ভাবে কর্মকর্তার গাড়ি ব্যবহার করার কারণে তাকে আটক করা বা তার বিরুদ্ধে মামলা করেনি কর্তৃপক্ষ।

দুদক সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সিবিএ-এর সাধারণ সম্পাদক (অবসর উত্তর ছুটি ভোগরত) স্টেনো-টাইপিস্ট মো. আলাউদ্দিন মিয়া ওই প্রতিষ্ঠানের একটি পাজেরো জিপ ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে এবং কর্তৃপক্ষকে অন্যায়ভাবে প্রভাবিত করে ব্যবহার করছেন, দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে (১০৬) এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল অভিযান চালিয়ে গাড়িটি উদ্ধার করেছে দুদক। অভিযোগের পরপরই দুদক মহাপরিচালক মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরীর নির্দেশে সকালে দুদকের পুলিশ ফোর্স এবং চৌকস কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করা হয়। টিম মতিঝিলে অভিযান চালিয়ে ঢাকা মেট্রো ঘ-১১-২৮২৭ গাড়িটি আটক করে। আটকের সময় গাড়িচালক মো. আবুল হোসেন জনি এবং নিরাপত্তা প্রহরী মো. সামছু মিয়া ঘটনাস্থলে ছিল।

অভিযানকালে দুদক টিম জানতে পারে, প্রতি মাসে গাড়িটির জন্য ডিজেল বরাদ্দ হয় ৪৫০ লিটার, যার আর্থিক মূল্য ২৯ হাজার ২৫০ টাকা। এ হারে প্রতি বছরে জ্বালানি বাবদ ৩ লাখ ৫১ হাজার টাকা খরচ হয়। এভাবে সিবিএ নেতা আলাউদ্দিন ২০০৯ সাল থেকে গত ১০ বছরে গাড়িটির জন্য পিডিবি থেকে ডিজেল খরচ তুলেছেন ৩৫ লাখ ১০ হাজার টাকা। প্রতি মাসের ড্রাইভারের বেতন বাবদ ৪১ হাজার টাকা খরচ হয়। এ পর্যন্ত এ গাড়ির ড্রাইভারকে ৩৭ লক্ষাধিক টাকা বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া প্রতি মাসে গাড়িটির পেছনে ১০ লিটার মবিল এবং মেরামত ব্যয় হয়েছে। দুদক টিম আরও জানতে পারে, গাড়িটির লগ বইয়ে আলাউদ্দিন মিয়া স্বাক্ষর করেন না, করেন পিডিবির একজন কর্মচারী।

এ অভিযান প্রসঙ্গে দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের প্রধান, মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বলেন, ‘৩য় শ্রেণীর কর্মচারী হয়ে গাড়িটি ২০০৯ সাল থেকে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। গাড়িটির পেছনে গত ৯ বছরে জ্বালানি তেল, মেরামত এবং গাড়িচালকের বেতন বাবদ সরকারের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। আইনত তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী কোনভাবেই ফুল টাইম গাড়ি পান না। এ ধরনের আইন অমান্যতা প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ধ্বংস করার শামিল, যা ছোট দুর্নীতি থেকে বড় দুর্নীতির পথ প্রশস্ত করে। দুদক শীঘ্রই এ ঘটনার অনুসন্ধান শুরু করে আইনানুগ পথে অগ্রসর হবে।’