• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৩০ মহররম ১৪৪২, ০২ আশ্বিন ১৪২৭

দু’দেশের সংঘবদ্ধ চক্রের

স্টিকার ভিসায় কম্বোডিয়ায় মানবপাচার

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২০

স্বপ্নের ইউরোপের দেশে উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশের বেকার যুবকদের পাচার করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। সংঘবদ্ধ চক্র কম্বোডিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে স্টিকার ভিসায় বাংলাদেশি যুবকদের পাঠিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। কম্বোডিয়ার একটি চক্রের সঙ্গে বাংলাদেশি চক্র মিলে জাল ভিসায় লোক পাঠানোর ফলে কম্বোডিয়া সরকারের সঙ্গে চুক্তি মোতাবেক বাংলাদেশ সরকার কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছে। ইতোমধ্যে স্টিকার ভিসায় কম্বোডিয়াগামী কোন বাংলাদেশির বহির্গমন ছাত্রপত্র ইস্যু না করার জন্য জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক বরারব চিঠি পাঠানো হয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বাংলাদেশি নাগরিক মাইনউদ্দিন এবং সিঙ্গাপুরের নাগরিক মিস্টার কু যৌথভাবে কম্বোডিয়ায় ইসি ভিল্ডার্স নামে একটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানি খোলেন। ওই কোম্পানির নামে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশের কম্বোডিয়ার দূতাবাস থেকে স্টিকার ভিসায় শতাধিক শ্রমিক কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। যেসব ব্যক্তিদের শ্রমিক হিসেবে পাঠানো হয়েছে তাদের বলা হয়েছে কম্বোডিয়া থেকে তাদের ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু কম্বোডিয়ায় যাওয়ার পর ওই শ্রমিকরা এমপ্লয়মেন্ট ভিসা না থাকায় কোন কোম্পানিতে চাকরির সুযোগ পায়নি। এক পর্যায়ে বিভিন্ন কোম্পানিতে নামমাত্র বেতনে চাকরি নিতে বাধ্য হয়েছে। জীবন বাঁচানোর তাগিদে কেউ কেউ কম বেতনে থাকলেও অধিকাংশ লোকজন ফেরত এসেছে। আবার যারা রয়েছে তারা কোন নির্ধারিত কোম্পানিভুক্ত না হওয়ায় অন্য কোম্পানি তাদের আটকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করছে এবং নামমাত্র বেতনে কাজ করতে বাধ্য করাচ্ছে।

গত ১৬ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি কম্বোডিয়ায় অবস্থান করেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের একটি প্রতিনিধি দল। তারা সেখানে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের সঙ্গে আলাপ করে মানবপাচারের এমন ভয়াবহ তথ্য পান। প্রতারণার শিকার হয়ে কম্বোডিয়ায় অবস্থানকারী কয়েকজন বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলের কাছে রিক্রুটিং এজেন্সি, দালাল চক্রের জালিয়াতির ঘটনা তুলে ধরেন।

সূত্র জানায় স্টিকার ভিসা, স্টামভিসা এবং ভিজিট ভিসায় শতাধিক বাংলাদেশিদের ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চাকরি দেয়ার নামে ইসি বিল্ডার্স নামীয় কোম্পানির মাধ্যমে কম্বোডিয়ায় নেয়া হলেও বৈধ কাগজপত্র এবং কাজ কোনটিই দেয়নি। প্রতারণার শিকার হয়ে পাচার হওয়া শ্রমিকরা কম্বোডিয়ার পুলিশের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করে। এক পর্যায়ে কম্বোডিয়ার পুলিশের অভিযানের মুখে ইসি বিল্ডার্স নামের কনস্ট্রাকশন কোম্পানির অফিস বন্ধ করে দেয়। ওই অফিসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি এবং সিঙ্গাপুরের নাগরিক আত্মগোপনে চলে যায়। এক পর্যায়ে অবৈধভাবে কম্বোডিয়ায় যাওয়া প্রায় ৮০ জন শ্রমিক কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে বৈধভাবে যাওয়া শ্রমিকদের সহযোগিতায় বিভিন্ন কোম্পানিতে গোপনে কাজ করছে। এমন ১০ জন শ্রমিক প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি যুগ্ম সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং বিএমইটিএ’র পরিচালক (উপ সচিব) বহির্গমন মো. মজিবর রহমানের সঙ্গে দেখা করে তাদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন।

কম্বোডিয়ায় অবৈধভাবে যাওয়া শ্রমিক পঙ্কজ বিশ্বাস, রবীন্দ্রনাথ কুন্ড, জাকির এবং মোহনসহ প্রতারণার শিকার শ্রমিকরা বলেন, বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্ট পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের (নম্বর ১৩৩৮) মালিক আবদুর রহমান তাদের কাছ থেকে ৩ থেকে ৪ লাখ করে টাকা নিয়েছেন বৈধভাবে ইউরোপের দেশে পাঠানোর জন্য। তাদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে ইউরোপের দেশে তাদের উচ্চমূল্যে কাজ পাইয়ে দেবেন। কিন্তু ১ থেকে দের পর ঘুরিয়ে তাদের কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয় স্টিকার ভিসায়। কম্বোডিয়ায় পাঠানোর পর তাদের কোন কাজ দিতে পারেনি। ওই শ্রমিকরা এখন কম্বোডিায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। পোর্ট ইন্টারন্যাশাল লিমিটেডের অফিস উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর রোডের ১৩ নম্বর বাসায়। এর মালিক আবদুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে জালিয়াতির মাধ্যমে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত। তদন্তে তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির বিভিন্ন অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।