• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৮ রবিউস সানি ১৪৪১

অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনাকারী

সেলিম প্রধান ছিলেন ক্ষমতায় অপ্রতিরোধ্য

তার ক্ষমতার উৎস, লন্ডন কানেকশন ও অর্থ পাচার অপরাধের তদন্ত চলছে, চার দিনের রিমান্ডে

সংবাদ :
  • সাইফ বাবলু

| ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ অক্টোবর ২০১৯

ডিজিটাল জুয়া পরিচালনাকারী সেলিম প্রধান ছিলেন ক্ষমতায় অপ্রতিরোধ্য। অস্ত্রধারী দেহরক্ষী, সংসদ সদস্যের স্টিকারযুুক্ত গাড়ি নিয়ে মন্ত্রীদের মতো ভিআইপি মর্যাদায় চলাফেরা করতন তিনি। অনলাইন ক্যাসিনো চালু করে ছাত্র ও যুবসমাজকে ডিজিটাল জুয়ায় জড়ানো সেলিম প্রধান যখন কোথাও যেতেন, তখন তার সঙ্গে গাড়ির বহর দেখে অনেকেই মনে করতেন কোন মন্ত্রী আসছেন। গুলশান-বনানীতে তার অফিসে বিদেশি মদ, বিয়ার থরে থরে সাজানো থাকত। বিশেষ কোন মেহমান গেলে তাকে বিদেশি মদ দিয়ে আপ্যায়ন করা হতো।

এদিকে সেলিম প্রধানকে মাদক মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ দিনের রিমান্ড হেফাজতে পেয়েছে পুলিশ। গুলশান থানায় দায়ের হওয়া ওই মামলায় দুই সহযোগীসহ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। পুলিশের পাশাপাশি তার ক্ষমতার উৎস, অর্থ পাচার, লন্ডন কানেকশনসহ অপরাধের তদন্তে নেমেছে র‌্যাব।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, বিএনপি আমলে বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লন্ডনে অবস্থানকারী তারেক রহমানের বন্ধু কারাবন্দী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন সেলিম প্রধান। জাপান ও থাইল্যান্ডে থাকার কারণে নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি। দেশে এসে বিভিন্ন ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ভোল পাল্টে হয়ে যান রাতারাতি আওয়ামী লীগার। যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি স¤্রাটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হয় তার। ক্লাবপাড়ায় ক্যাসিনো পরিচালনাকারী যুবলীগ দক্ষিণের সাবেক সাংগঠনিক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। ক্লাবপাড়ায় ক্যাসিনোর সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা ছিল। একপর্যায়ে উত্তর কোরিয়ার নাগরিক দোর সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর তার সঙ্গে অনলাইন ক্যাসিনো কীভাবে পরিচালনা করা হয়, সেসব নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়। এরপর অনলাইন ক্যাসিনো কীভাবে খেলতে হয়, এ খেলা নিয়ন্ত্রণ করে রাতারাতি কীভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া সম্ভবÑ এসবের ধারণা পাওয়ার পর তিনি অনলাইন ক্যাসিনো খেলার সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৮ সালের দিকে অনলাইন ক্যাসিনো গেমের সফটওয়্যার তৈরি ও বাজারজাত করার পর যখন যুবসমাজ ও ছাত্রদের মধ্যে এর ব্যাপকতা বাড়ে, তখন তিনি নিত্যনতুন গেমিং পদ্ধতি শুরু করেন।

সূত্র জানায়, শুধু অনলাইন ক্যাসিনো দিয়েই সেলিম প্রধান প্রতি মাসে অর্ধশত কোটি টাকা হাতিয়ে নিতেন। এসব অর্থ নির্দিষ্ট ব্যাংকে তার অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার পর দ্রুত সময়ের মধ্যে টাকা তুলে ফেলতেন এবং বিদেশে পাচার করতেন। লন্ডন, খাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কাসহ একাধিক দেশেই তার টাকা পাচার হতো। অল্প দিনেই কয়েকশ’ কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার করেছেন। থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কায় তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং বাড়ি থাকারও তথ্য রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। এসব খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। র‌্যাবের অভিযানের দিন তার ব্যবহৃত গাড়িতে সংসদ সদস্য স্টিকার লাগানো ছিল। সংসদ সদস্য স্টিকার কীভাবে পেলেন, কোন ক্ষমতাবলে তা গাড়িতে লাগিয়েছেনÑ এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ পর্যন্ত তার ছয়টি গাড়ির খোঁজ পাওয়া গেছে। এগুলো পর্যায়ক্রমে ব্যবহার করতেন। তার বাসার গ্যারেজে নিশান পেট্রোল কালো রঙের গাড়িতে (ঢাকা-মেট্রো-ঘ-১১-২১৬৫) সংসদের স্টিকার লাগানো ছিল। যেহেতু তিনি সংসদ সদস্য নন, সেহেতু তার গাড়িতে এ ধরনের স্টিকার ব্যবহার করার কোন বৈধতাও নেই।

ক্যাসিনো স্প্রা ব্যবসায় লাল সেলিম প্রধান

চিত্তবিনোদনের নামে সেলিম প্রধান অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসায় চালু করেননি। করেছেন অবৈধ স্পা সেন্টারও। স্পা সেন্টারে শরীর মাসাজের নামে অসামাজিক কার্যকলাপ চালাতন। থাইল্যান্ডের পাতায়া শহরে তার স্পা সেন্টারের ব্যবসায় হাতেখড়ি। এরপর গুলশানেও এ ব্যবসা চালু করেন। তার ব্যবসায় যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, এ জন্য ক্ষমতাসীন দলের একাধিক নেতার সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। এসব নেতাকে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে খুশিও করতেন। দেশে ছাড়াও থাইল্যান্ডে তার স্প্র সেন্টার এবং তার থাইল্যান্ডের বাড়িতে নানা আয়োজন থাকত নেতাদের জন্য।

লন্ডন কানেকশন কার সঙ্গে সেলিম প্রধানের?

বাংলাদেশে অনলাইন ক্যাসিনোর অন্যতম হোতা সেলিম প্রধানের লন্ডন কানেকশন খুঁজতে শুরু করেছেন গোয়েন্দারা। অনলাইন ক্যাসিনো থেকে হাতিয়ে নেয়া অর্থ লন্ডনে কার কাছে পাচার করতেন, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রতি মাসে গেটওয়ের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ৯ কোটি টাকা তুলতেন। কোন মাসে এর চেয়ে বেশিও তুলতেন। এসব অর্থ বিকল্প পদ্ধতিতে লন্ডনে পাচার করতেন। গোয়েন্দাদের ধারণা, লন্ডনে বিশেষ ব্যক্তির কাছেই তার অনলাইন ক্যাসিনো থেকে পাওয়া অর্থের বড় অংশ পাচার হতো।

অন্যদিকে গুলশান থানায় সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে মাদক মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গুলশান থানার পুলিশ গত বুধবার রিমান্ড আবেদন করেছে। গতকাল শুনানি শেষে মাদক মামলায় সেলিম প্রধান ও তার দুই সহযোগীকে ৪ দিনের রিমান্ড হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী অনলাইন ক্যাসিনো চালু করার পর থেকে জুয়াড়িদের কাছ থেকে কয়েকশ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সেলিম প্রধান। এসব অর্থের পুরোটাই বিদেশে পাচার করেছেন। এর মধ্যে বড় অংশ লন্ডনে পাচার করেছেন। লন্ডনে কার কাছে এসব অর্থ পাচার করেছে, এ বিষয়ে অণুসন্ধান করা হচ্ছে। তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

র‌্যাবের কর্মকর্তারা জানান, অনলাইনে ক্যাসিনো খেলতে জুয়াড়িদের যমুনা ব্যাংক, বাংক অব সিলনসহ ৩টি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট করতে হতো। ওইসব অ্যাকাউন্টে চাহিদা মোতাবেক টাকা রাখতে হতো। জুয়া খেলার সময় গেটওয়ের মাধ্যমে টাকা ঢুকত ও বের হতো। একটি গেটওয়ের মাধ্যমে এক মাসে ৯ কোটি টাকা প্রবেশের তথ্য পাওয়া গেছে। এভাবে ৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩টি গেটওয়ের মাধ্যমে তিনি ১ বছরে ৩০০ কোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নিয়েছেন। ওই টাকার পুরোটাই পাচার করেছেন। একটি ‘গেটওয়ে’ থেকেই মাসে পাচার হতো প্রায় ৯ কোটি টাকা। এ রকম তিনটি ‘গেটওয়ে’র বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তিনটি গেটওয়ে দিয়ে এক বছর ধরে ক্যাসিনোর টাকা পাচার করছেন। তিন গেটওয়ে দিয়ে মাসে ২৭ কোটি করে বছরে ৩২৪ কোটি টাকা পাচার করেছেন।

র?্যাব সূত্র জানায়, অনলাইনে বিশ্বের সুপরিচিত ক্যাসিনোগুলোর সঙ্গে জুয়াড়িদের যুক্ত করার কাজ করতেন সেলিম। তিনি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ‘প্রধান গ্রুপ’-এর কর্ণধার। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে জাপান-বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রিন্টিং অ্যান্ড পেপারস লিমিটেড, পি২৪ ল’ ফার্ম, এইউ এন্টারটেইনমেন্ট, পি২৪ গেমিং, প্রধান হাউস ও প্রধান ম্যাগাজিন। এর মধ্যে পি২৪ গেমিংয়ের মাধ্যমে তিনি জুয়াড়িদের যুক্ত করতেন। তার সঙ্গে আর্থিক খাতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। জাপান-বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রিন্টিং অ্যান্ড পেপারসে বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই ছাপা হয়। এর পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অফিসের নথিপত্রও ছাপানো হয়। তার এই প্রতিষ্ঠান রূপালী ব্যাংকের শীর্ষ ঋণখেলাপিদের একটি। ২০১৮ সালে ঋণটি পুনর্তফসিল করা হয়। তার কাছে ব্যাংকের পাওনা প্রায় ১০০ কোটি টাকার মতো। টেন্ডারবাজি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। অ্যাপ অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া টাকা তিনটি ব্যাংকের হিসাবে স্থানান্তর করতেন। আক্তারুজ্জামানকে দিয়ে প্রতি সপ্তাহে ওই টাকা তুলে আরও দুটি ব্যাংকে জমা করাতেন তিনি।

সেলিম প্রধানের পৈতৃক বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা মর্তুজাবাদ এলাকায়। সেখানে কেউ না থাকলেও বিশাল আলিসান বাড়ি তৈরি করেছেন তিনি। তার বাবা মৃত নান্নু মিয়া এক সময় ঢাকায় ব্যবসা করতেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে সেলিম মেজ। ১৯৯৩ সালের দিকে তিনি জাপান চলে যান। সেখানে গিয়ে গাড়ির ব্যবসা শুরু করেন। এরপর জাপান থেকে চলে যান থাইল্যান্ডে। সেখানে শিপব্রেকিংয়ের ব্যবসায় নামেন। উত্তর কোরিয়ার নাগরিক দোর সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর অনলাইনে গেমিং সাইট তৈরি ও অনলাইন ক্যাসিনো শুরু করেন।

অস্ত্রধারী ১০ দেহরক্ষী নিয়ে চলাফেরা সেলিমের

অনলাইন ক্যাসিনোর নিয়ন্ত্রক সেলিম শুধু অনলাইনে ক্যাসিনো পরিচালানার মাধ্যমে রাতারাতি মাফিয়া হয়ে ওঠেন। অল্পদিনেই আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার মতো বিপুল অর্থসম্পদ গড়ে তোলেন। এ কারণে তার চালচলনেও পরিবর্তন আসে। আলিশান গাড়িতে অস্ত্রধারী দেহরক্ষীদের বেষ্টনীতে চলাফেরা করতেন। ল্যান্ড ক্রুজার গাড়িতে চলাচলকারী সেলিম প্রধানের পাহড়ায় সব সময় ১০ অস্ত্রধারী দেহরক্ষী থাকত। তিনি ভিভিআইপি স্টাইলে চলেফেরা করতে ১০ জন দেহরক্ষী সঙ্গে রাখতেন। এসব দেহরক্ষী স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত থাকত। সামনে-পেছনে ৫ থেকে ৬টি গাড়ি নিয়ে চলাফেরা করতেন। নিজে সব সময় ল্যান্ড ক্রুজার ব্যবহার করেন। যখন চলতেন, তখন হুইসাল বাজিয়ে রাস্তা খালি করা হতো।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, গুলশান-২ স্পা সেন্টারটি সেলিমের মালিকাধীন। এখানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ও উঠতি বয়সের মডেল বা নায়িকার আনাগোনা ছিল। স্পা সেন্টারের আড়ালে তিনি সুন্দরী তরুণীদের তার ব্যবসার কাজে লাগাতেন। সুন্দরী তরুণী দিয়ে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে প্রভাবশালীদের সঙ্গে। তিনি চাহিদামতো দেশের বাইরে থেকেও সুন্দরী এনে দিতেন। আর এ কারণে স্পা সেন্টারটিতে প্রভাবশালীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। এর বিনিময়ে ওইসব প্রভাবশালীর কাছ থেকে তিনি বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেন।

৪ দিনের রিমান্ডে সেলিম প্রধান

মাদকের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনলাইনে জুয়ার হোতা সেলিম প্রধান এবং তার দুই সহযোগী আকতারুজ্জামান ও রোকনকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম মইনুল ইসলাম তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে মহানগর হাকিম ধীমান চন্দ্র মণ্ডল এই মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। মঙ্গলবার আটক হওয়ার পর তার অফিস ও বাসায় তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমান অর্থ, হরিণের চামড়া, বিদেশি মদ, চেকবইসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের পর বুধবার গুলশান থানায় সেলিম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং এবং মাদক আইনে দুটি মামলা করে র‌্যাব। ওই মামলায় সেলিম প্রধানের অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসার পার্টনার দোসহ কোরিয়ার ৩ নাগরিককেও আসামি করা হয়েছে। গুলশনা থানায় দুই মামলার মধ্যে মাদক মামলায় সেলিম প্রধান ও তার দুই সহযোগীসহ ৩ জনকে গ্রেফতার দেখানো এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন গুলশান থানার পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম।

গত মঙ্গলবার দুপুরে থাইল্যান্ডে যাওয়ার সময় র‌্যাবের হাতে আটক হন অনলাইন ক্যাসিনোর নিয়ন্ত্রকারী সেলিম প্রধান। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানের বন্ধু কারাবন্দী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সেলিম প্রধানকে আটকের পর বুধবার রাতে তার গুলশানের বাসা এবং অফিসে তল্লাশি অভিযান শুরু করে র‌্যাব-১। বুধবার বিকেল পর্যন্ত চলা ওই অভিযানে তার বাসা ও অফিস থেকে ৪৮টি বিদেশি মদের বোতল, ২৯ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা, ২৩টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা তথা ৭৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা, ১২টি পাসপোর্ট, ৩টি ব্যাংকের ৩২টি চেকবই, একটি বড় সার্ভার, ৪টি ল্যাপটপ ও দুটি হরিণের চামড়া উদ্ধার করে র‌্যাব। এ ঘটনায় মাদক ও অর্থ পাচার আইনে পৃথক দুটি মামলা হলেও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে হরিণের চামড়া রাখার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ৬ মাসের কারাদ- দিয়ে জেলে পাঠায় র‌্যাব। পরে দুটি মামলা করা হয় গুলশান থানায়।