• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০, ১৫ চৈত্র ১৪২৬, ২৯ রজব সানি ১৪৪১

সুন্দরবন পরিদর্শনে আসছে ইউনেস্কো ও আইইউসিএন যৌথ মিশন

সংবাদ :
  • শুভ্র শচীন, খুলনা

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯

পরিবেশগত হুমকির মুখে থাকা সুন্দরবন পরিদর্শনে আসছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কো এবং প্রকৃতি রক্ষার বৈশ্বিক সংগঠন আইইউসিএনের একটি যৌথ মিশন।

সম্প্রতি ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সেন্টার থেকে পাঠানো এক চিঠিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো জানায়, আগামী ৯ থেকে ১৭ ডিসেম্বর এই যৌথ মিশন বাংলাদেশ সফর করবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মিশনে থাকবেন ইউনেস্কোর নয়াদিল্লি অফিসের প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট ফর ন্যাচারাল সায়েন্স মি. গাই ব্রুক, ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সেন্টারের মিজ অ্যাকান নাকামুরা, আইইউসিএনের এলিনা অসিপভা এবং এন্ড্রো ওয়াইট। চার সদস্যের এই যৌথ মিশনটি সুন্দরবন পরিদর্শনের পাশাপাশি সুন্দরবনের আশপাশে অবস্থিত শিল্প প্রকল্প বিশেষকরে রামপাল, তালতলী এবং কলাপাড়ায় নির্মিতব্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রভাব ছাড়াও পশুর বা অন্যান্য নদী খননের ফলে প্রতিবেশের ওপর যে বিরূপ প্রভাব পড়বে তা পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করবে বলে জানা গেছে।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে সুন্দরবনের দুই অংশে অবস্থিত বনবিভাগের বিভিন্ন ভবন, স্থাপনা, নৌযান ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে পূর্ব সুন্দরবনে ৩৯ লাখ ৬০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে বনবিভাগ নির্ণয় করেছে। তবে এই অংশের গাছপালার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনো করা হয়নি। পশ্চিম সুন্দরবন অংশের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে আরও দুই-তিন দিন সময় লাগতে পারে বলে বনবিভাগ জানিয়েছে।

বুলবুলের তান্ডবে পূর্ব সুন্দরবনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে নৌযান ও অবকাঠামোর। তবে বন্যপ্রাণী হতাহতের খবর নেই বনবিভাগের কাছে। বনের গাছপালার ক্ষতি নির্ণয়ে কাজ চলছে, দুয়েক দিনের মধ্যে এ তথ্য জানা যাবে।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান জানান, বুলবুলের আঘাতে চাঁদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জে ছয়টি আবাসিক ভবন ও ১৭টি অনাবাসিক ভবনের আংশিক ক্ষতি হয়েছে।

এগুলোর কোনোটির চাল উড়ে গেছে, কোনোটির দেয়াল ধসে পড়েছে।

বিভিন্ন স্টেশন ও টহল ফাঁড়িতে থাকা ১০টি জেটি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ১৯টি স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার, পন্টুন, ফুট ট্রেইলার, গ্যাংওয়ে, হরিণের খাঁচা, পাহারা ঘর ও সোলার প্যানেল।

ক্ষতি হয়েছে বনবিভাগের একটি স্পিডবোট ও দুটি ট্রলারের।

বনবিভাগের চাঁদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জের সাতটি স্টেশন ও ৩৩টি টহল ফাঁড়ির নৌযান ও অবকাঠামোগত এ ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

ঝড়ের পর চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. শাহীন কবির ও শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. জয়নাল আবেদীন ক্ষতিগ্রস্ত বনাঞ্চল পরিদর্শন শেষে ক্ষয়ক্ষতির এ প্রতিবেদন পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসানের কাছে প্রেরন করেন।

বুলবুলের আঘাতে পশ্চিম সুন্দরবন অংশে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনো নিরূপণ হয়নি। এ বিষয়ে জরিপ পরিচালিত হবে। এতে দুই-তিন দিন সময় লাগতে পারে। সুন্দরবনের পশ্চিম বিভাগের অন্তর্ভুক্ত বনবিভাগের সাতটি স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো বন্যপ্রাণীর ক্ষতির তথ্য এখনো মেলেনি।

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বশিরুল আল মামুন বলেন, পশ্চিম সুন্দরবনের আওতায় ৩৬টি ক্যাম্প, ফাঁড়ি, রেঞ্জ ও স্টেশন রয়েছে। ঘুর্ণিঝড় বুলবুলে বনের সামগ্রিক ক্ষতি নিরূপণের চেষ্টা চলছে। সার্ভে না করে কিছু বলা যাবে না। তবে প্রাথমিকভাবে কোনো বন্যপ্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ভাটার সময় ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে। জলোচ্ছ্বাস ছিল না তখন। দমকা হাওয়ার কারণে বনের গাছপালা উপড়ে ও ডাল ভেঙে পড়ে।

তিনি বলেন, বুলবুলের আঘাতে সাতক্ষীরা রেঞ্জের পুষ্পকাঠি ফরেস্ট স্টেশনের ঘরের টিনের চালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কদমতলার এফজি ব্যারাকের টিনের চাল উড়ে গেছে ও রান্নাঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাঠশ্বর অফিসের ছোট ট্রলার নদীতে ডুবে গেছে এবং পাকাঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোবাদক স্টেশনের কাঠের ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যের জেটিটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ব্যারাকের চাল ও রান্নাঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চুনকুড়ির সোলার প্যানেল উড়ে নদীতে ভেসে গেছে।

দোবেকি টহল ফাঁড়ির ৪০ ফুট দীর্ঘ পন্টুনটি ভেঙে গেছে।

নলিয়ান রেঞ্জ অফিসে যাতায়াতের রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অফিসের চারপাশের গাছপালা ভেঙে পড়েছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডবে বঙ্গোপসাগর পাড়ের সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার চরের জেলেপল্লীতেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চরে শুঁটকির জেলেদের গড়ে তোলা অস্থায়ী বসতঘর, মাচা ও গুদামঘর ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে খুব বেশি ক্ষতি হয়নি চরের জেলেদের স্থাপনার।

কারণ চরের অধিকাংশ ঘরই তৈরি সস্তা ও সহজলভ্য বাঁশ, গোলপাতা, হোগলা ও পলিথিন দিয়ে।

ঝড়ে ওইসব ঘর, মাচা, চাল, বেড়া ও পলিথিন উড়ে গেলে তা আবার ঠিক করে নিয়েছেন তারা।

আর মৌসুম মাত্র শুরু হওয়ায় তেমন ক্ষতি হয়নি শুঁটকির।

গত ১ নভেম্বর থেকে দুবলার চরে শুরু হয়েছে শুঁটকি মৌসুম। চলবে আগামী মার্চ পর্যন্ত।

চরের জেলেদের জাল ও নৌকার কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

জেলেরা জানান, এবারের ঘূর্ণিঝড় নিয়ে বনবিভাগের প্রচার ও প্রস্তুতিও ছিল অন্যান্য দুর্যোগকালীন সময়ের তুলনায় বেশি। কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী আগে থেকেই তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়। জেলেরাও অধিক সতর্কতাবস্থায় থাকায় তাদের ট্রলার ও জাল দড়ির কোনো ক্ষতি হয়নি।

অন্যদিকে চলতি মাসে সুন্দরবনে সীমিত আকারে পর্যটন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আগামী ২৫ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিন পর্যটন বন্ধ রাখারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার খুলনার বন ভবনে ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের (টোয়াস) সঙ্গে বনবিভাগের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

খুলনার বন সংরক্ষক মঈনুদ্দিন খান বলেন, সুন্দরবনে আগামী ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত সীমিত আকারে পর্যটন চলবে। কারণ রাসমেলার আগে ট্যুর অপারেটররা পর্যটক বুকিং নিয়েছিলেন। সেগুলো ছাড়ার জন্যই নভেম্বর মাসে পর্যটন সীমিত করা হচ্ছে। আর ২৫ থেকে ২৭ নভেম্বর তিন দিন পর্যটন বন্ধ রাখা হবে।

তিনি আরও বলেন, ইলিশ নিষেধাজ্ঞার কারণে জেলেদের দুই দফায় মাছ শিকার বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার থেকে জেলেদের পাস পারমিট চালু করা হয়েছে।