• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১ কার্তিক ১৪২৫, ৫ সফর ১৪৪০

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ

সুচির কাছে ‘ভয়াবহ পরিস্থিতি’ তুলে ধরলেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অং সান সুচির কাছে রোহিঙ্গাদের ‘ভয়াবহ পরিস্থিতির’ কথা তুলে ধরে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। ডেইলি মেইলের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য দেয়া হয়। বিবিসির সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, এমন ধ্বংসযজ্ঞ কখনো দেখিনি। আমরা যা দেখেছি, মনে হয় না হেলিকপ্টারে করে সুচি তা দেখেছেন।

মায়ানমারের রাজধানী নেপিদোয় গত রোববার দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সুচির সঙ্গে তিনি বৈঠক করেন। বরিস তার সাক্ষাতে সুচির কাছে রোহিঙ্গাদের ‘ভয়াবহ পরিস্থিতির’ কথা তুলে ধরে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, সুচির সঙ্গে সাক্ষাতের পর বরিস জনসন ছুটে যান রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বসতিতে। সেখানে গিয়ে তিনি ঘুরে ঘুরে দেখেন ধ্বংসলীলা। দেখেন কিভাবে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। একপর্যায়ে তাকে বাচ্চাদের পুড়ে যাওয়া একটি বাইসাইকেলের ধ্বংসাবশেষ হাতে তুলে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এসব ছবি প্রকাশ করেছে ডেইলি মেইল।

এতে আরও বলা হয়, মায়ানমারের সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিরা তাকে রাখাইন রাজ্যে পুড়িয়ে দেয়া রোহিঙ্গাদের একটি গ্রামে নিয়ে যান। এ গ্রামটি হলো মংডুর পান ড পাইন। সেখানে তিনি দেখতে পান গ্রামটিকে একেবারে পুড়িয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। এর আগে তিনি অং সান সুচির সঙ্গে রাজধানী নেপিদোতে বৈঠকে রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরেন।

মায়ানমার কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে। বরিস এটা বিশ্বাস করেন কিনা, তা জানতে চেয়েছিলেন বিবিসি।

জবাবে বরিস বলেন, রাজনীতিবিদদের সঙ্গে কথা বলে সুচি সম্পর্কে যা শুনেছি, তাতে আমার মনে হয় না রাখাইন রাজ্যে যা হয়েছে, এর পুরোটা খবর তার (সুচি) কাছে এসেছে। জীবনে কখনো এমন ঘটনা দেখিনি। শত শত গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এটি পুরোপুরি একটি ধ্বংসযজ্ঞ। তিনি বলেন, আমি মনে করি, এখন যা দরকার, তা হলো এমন নেতৃত্ব, যারা গৃহহীন এসব লোকজনকে নিজের ঘরে ফিরে যেতে সহায়তা করতে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করবে।

উল্লেখ্য, ২৫ আগস্ট সহিংসতা শুরুর পর মায়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালায়। চালানো হয় হত্যাযজ্ঞ। গণধর্ষণ করা হয় বালিকা, যুবতী ও নারীদের। বীভৎসভাবে এরপর হত্যা করা হয় তাদের। পুড়িয়ে দেয়া হয় গ্রামের পর গ্রাম। লুটে নেয়া হয় সহায় সম্বল। ফলে বাধ্য হয়ে মায়ানমার ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেন প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম। একে জাতিগত নিধন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে জাতিসংঘ। এসব রোহিঙ্গাকে দেশে ফেরত পাঠাতে একটি শিডিউল নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ও মায়ানমার। কিন্তু রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সাহায্য সংস্থাগুলো।