• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৫, ১২ শাওয়াল ১৪৪০

সীমান্তে বাঁধ নির্মাণ করছে মায়ানমার

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ১১ জানুয়ারী ২০১৯

বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তের কাঁটাতার ঘেঁষে ব্রিজের নামে বাঁধ নির্মাণ করছে মায়ানমার। বর্ষা মৌসুমে এই বাঁধের ফলে বাংলাদেশের কুনারপাড়া গ্রামের মানুষসহ নোম্যান্স ল্যান্ডে বসবাসরত হাজার হাজার রোহিঙ্গা পানিবদ্ধ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এর ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে বলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন গণমাধ্যমকে জানান।

বাংলাদেশ-মায়ানমারের মধ্যে সীমান্তপথ রয়েছে ২৭১ কিলোমিটার। এরমধ্যে ২০৮ কিলোমিটার স্থলপথ ও ৬৩ কিলোমিটার জলসীমান্ত রয়েছে। গত বছর ২৫ আগস্ট এই রোহিঙ্গারা নির্যাতনের পর বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের কুনারপাড়া সীমান্তের তমব্রু খালের পাশে নোম্যান্স ল্যান্ডে আশ্রয় নেয় প্রায় ৫ হাজার রোহিঙ্গা এরপর থেকে মায়ানমার সরকার বিভিন্নভাবে এদের এই জায়গা থেকে তাড়িয়ে দিতে মাইকিং ও গুলি বর্ষণ ছাড়াও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। এই বাঁধ নির্মাণ সেই কৌশলের একটি অংশ বলে মনে করছে নোম্যান্স ল্যান্ডে বসবাসরত রোহিঙ্গারা।

তমব্রু সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থানরত রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ বলেন, আমরা মায়ানমার সরকারের নির্যাতনের শিকার হয়ে এই নোম্যান্স ল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছি দেড় বছর আগে। এরপর মায়ানমার সরকার এই নোম্যান্স ল্যান্ড থেকে আমাদের সরানোর জন্য নানা ভয়ভীতি দেখিয়েছে। এবার নতুন করে চক্রান্ত শুরু করেছে তারা। তমব্রু খালে ব্রিজ নির্মাণের নামে বাঁধ দিচ্ছে মায়ানমার। এতে করে আগামী বর্ষা মওসুমে পাহাড়ি ঢলে রোহিঙ্গারা এখানে মরবে। আমি বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক মহলের সাহায্য কামনা করছি।’

ওই ক্যাম্পে অবস্থানরত আরেকজন রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ আরিফ বলেন, আবারও নোম্যান্স ল্যান্ড থেকে রোহিঙ্গাদের সরাতে নতুন পাঁয়তারা শুরু করেছে মায়ানমার। যে কারণে তমব্রু খালে নতুন করে ব্রিজের নামে বাঁধ তৈরি করছে। এটি হলে খালে পানির স্বাভাবিক চলাচলে বিঘœ ঘটবে এবং বর্ষা মওসুমে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ডুবে যাওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের ভেতরের কোনারপাড়াসহ স্থানীয় কৃষি জমি পানিতে তলিয়ে যাবে।’

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘তমব্রু খালে নতুন করে ব্রিজ নির্মাণের বিষয়টি ইতোমধ্যেই আমি জেনেছি। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।’

তমব্রু নোম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থানরত রোহিঙ্গা ও স্থানীয় বাংলাদেশিরা বলছেন, মায়ানামার তমব্রু সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের তাড়াতে নতুন প্রচেষ্টা শুরু করেছে মায়ানমার সরকার। কারণ, কোন ধরনের রাস্তা নেই এমন একটি জায়গায় ব্রিজ নির্মাণের প্রয়োজন নেই। এটি নামেমাত্র ব্রিজ নির্মাণ। আসলে আগামী বর্ষা মওসুমে পাহাড়ি ঢলের পানি আটকে দিয়ে তমব্রু সীমান্তে খালের পাশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সরাতে এমনটি করছে মায়ানমার সরকার। এর আগেও তমব্রু সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সরাতে নানা চেষ্টা করেছিল মায়ানমার। ওই সীমান্তে দেশটির ভেতরে ঘন ঘন গুলিবর্ষণ, রাতে কাঁটাতার ঘেঁষে অতিরিক্ত সৈন্য সমাবেশসহ নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। এখন নতুন করে খালে ব্রিজ তৈরির নামে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে বর্ষা মওসুমে নোম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থানরত রোহিঙ্গা ক্যাম্প, সীমান্তে বসবাসরত স্থানীয় অধিবাসী ও তাদের কৃষি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, ‘কোনও রাস্তা নেই, অথচ তমব্রু খালে ঘন ঘন পিলার বসিয়ে একটি ব্রিজ নির্মাণ করছে মায়ানমার। এটি মায়ানমারের ভেতরে হলেও তমব্রু খালটির অধিকাংশ বাংলাদেশ অংশে। এই বাঁধের কারণে আগামী বর্ষায় পুরো গ্রামটি পানিবন্দী হয়ে পড়বে। এমনকি আমার নিজের বাড়িও থাকবে না।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মনজুরুল হাসান খানের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

মায়ানমারে রোিহঙ্গাদের জাতিগত নিধন শুরু হওয়ার পর কিছু রোহিঙ্গা সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডে আটকা পড়ে এবং সেখানেই আশ্রয় শিবির তৈরি করে অবস্থান নেয়। কিন্তু মায়ানামার সরকার নোম্যান্স ল্যান্ডের এই ভূমি তাদের দাবি করে সেখান থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দিচ্ছে তাদের এবং একই সঙ্গে নানা ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। কিন্তু রোহিঙ্গারা সরে না গিয়ে এই নোম্যান্স ল্যান্ডেই অবস্থান করছে। এসব রোহিঙ্গাদের বর্তমানে চিকিৎসাসহ মানবিক সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ স্থানীয় প্রশাসন, বিজিবি, রেডক্রস ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা।