• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ১৩ সফর ১৪৪২, ১৬ আশ্বিন ১৪২৭

সাধারণ ছুটির মেয়াদ ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ছে

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , রোববার, ০৩ মে ২০২০

দেশব্যাপী ‘লকডাউন’র মেয়াদ ফের বাড়ছে। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির কারণে দেশব্যাপী সাধারণ ছুটির (লকডাউন) মেয়াদ আরও ১০ দিন বাড়ানো হচ্ছে। চলমান সাধারণ ছুটি ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিলেই ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। দু’একদিনের মধ্যেই এ বিষয়ে ঘোষণা আসছে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। এ নিয়ে টানা ৬ষ্ঠ বারের মতো ছুটির কবলে পড়তে যাচ্ছে দেশ।

এর আগে গত ২৬ মার্চ থেকে আগামী ৫ মে পর্যন্ত পাঁচ দফা সাধারণ ছুটির আদেশ জারি করেছিল সরকার। করোনা প্রতিরোধে নাগরিকদের ঘরে রাখা এবং মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্যই এই ছুটি বাড়ানো হচ্ছে। নামে ছুটি হলেও কার্যত দেশব্যাপী ‘লকডাউন’ (অবরুদ্ধ) চলছে। ছুটি বৃদ্ধির বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাধারণ ছুটি ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ছে বলতে পারেন। আগামী ১৫ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি চাওয়া হয়েছে; ১৬ মে শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। সেই হিসেবে ১৬ মে পর্যন্ত ছুটি হবে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই প্রস্তাব পাঠিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিলেই এ বিষয়ে কাল-পরশুর (রবি বা সোমবার) মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।’

সাধারণ ছুটিকালীন জরুরি পরিসেবা ছাড়াও গণপরিবহন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তবে ইতোমধ্যেই পোশাক কারখানা খুলে দেয়া হয়েছে। আবার দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বা রোগী শনাক্তকরণের সংখ্যাও বাড়ছে।

সাধারণ ছুটিতে দেশব্যাপী জরুরি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন অফিস খোলা রাখা হয়েছে। সীমিত পরিসরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীন দফতরগুলো ছাড়াও মাঠপর্যায়ের অফিসগুলো খোলা রাখা হয়েছে।

এদিকে দেশের বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কারখানা, গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিসহ অন্যান্য শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সীমিত আকারে চালু রাখা বিষয়ে আলোচনার জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভা আহ্বান করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আজ (৩ মে) সচিবালয়ে এ বিষয়ে সভা অনুষ্ঠিত হবে। আজকের সভায় সাধারণ ছুটির বিষয়টি আলোচনায় প্রাধান্য পাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আর পরদিন ৪ মে বসছে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটি প্রথম সভা। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার লক্ষ্যে এই কমিটি গঠন করা হয়।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। গতকাল পর্যন্ত দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হয় আট হাজার ৭৯০ জন এবং করোনায় মারা গেছে ১৭৫ জন।

করোনা প্রতিরোধে গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল, পরবর্তীতে ৫ থেকে ৯ এপ্রিল, পরে ১৪ এপ্রিল ও ২৫ এপ্রিল এবং সর্বশেষ ৫ মে পর্যন্ত ছুটি বাড়িয়ে আদেশ জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। যদিও সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে গত ১৮ মার্চ থেকেই। করোনা সংক্রান্ত ছুটি ও পরিস্থিতির কারণে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের কার্যক্রম ঝুলে গেছে। আটকে গেছে এইচএসসি ও সমপর্যায়ের পরীক্ষাও। গত ১ এপ্রিল থেকে নির্ধারিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু করার কথা ছিল।