• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৪ রবিউস সানি ১৪৪১

সরকারের হুঁশিয়ারি ও পর্যাপ্ত মজুদেও কমেনি পিয়াজের দাম

সংবাদ :
  • রোকন মাহমুদ

| ঢাকা , বুধবার, ০২ অক্টোবর ২০১৯

পর্যাপ্ত মজুদ আর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কঠোর হুঁশিয়ারিতেও টনক নড়েনি পিয়াজের মজুদকারীদের। গতকালও আকাশছোঁয়া দামে বিক্রি হয়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যটি। গতকাল বাজারে ৯০ থেকে ১০০ টাকা দরে পিয়াজ বিক্রি করতে দেখা গেছে খুচরা বিক্রেতাদের। পিয়াজের এ অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন নি¤œ ও মধ্যবিত্ত ভোক্তারা। তাই গতকাল তুমুল বৃষ্টি উপেক্ষা করে টিসিবির ট্রাক সেলে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তারা পিয়াজ কিনতে। এর আগে গত রোববার ভারত রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গত সোমবার বাংলাদেশের বাজারে পিয়াজের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে যায়। যা আগে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।

গত সোমবার পিয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়লে ‘সন্তোষজনক’ মজুদ থাকার কথা জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সবাইকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছে। সারাদেশে ৭৫টি ট্রাকে পিয়াজ বিক্রির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে টিসিবিকে।

কেউ বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মো. জাফর উদ্দীন। এছাড়া বন্ধর দিয়ে প্রতিদিনই পিয়াজ আমদানি হচ্ছে। গত সোমবারও চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে ৩৫৮ টন (৩ লাখ ৬৪ হাজার কেজি) পিয়াজ। কনটেইনারে করে আমদানি করা এসব পিয়াজ খালাসের প্রক্রিয়া চলছে। মিসর ও চীন থেকে এসব পিয়াজ আমদানি হয়েছে। এছাড়া টেকনাফ স্থলবন্দরে মায়ানমার থেকে পিয়াজ এসেছে ৫৩৬ টন। এতো কিছুর পরও অস্থিরতা কমেনি।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, দাম আরও বাড়তে পারে, এই আশঙ্কায় বেশি করে পিয়াজ কিনে রাখছেন অনেকে। মজুদ বাড়াচ্ছেন মহল্লার খুচরা দোকানিরাও। আর এই হুজুগে পিয়াজের বাজার হয়ে উঠেছে নিয়ন্ত্রণহীন। এছাড়া অসাধু ব্যবসায়ীরা এই সুযোগে আরও দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

এদিকে দেশের কোন বাজারেই পিয়াজের ঘাটতি নেই দাবি করে গতকালও একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এতে মন্ত্রণালয় বলেছে, শীঘ্রই পিয়াজের মূল্য স্বাভাবিক হয়ে আসবে। ফলে ভোক্তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মায়ানমার থেকে আনা পিয়াজ দেশের হাট-বাজারগুলোতে পৌঁছে যাচ্ছে। দেশে পিয়াজের মূল্য ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর মাধ্যমে ট্রাক সেলে ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ন্যায্যমূল্যে পিয়াজ বিক্রি শুরু করেছে। এত দিন ১৬টি ট্রাকের মাধ্যমে প্রতি কেজি ৪৫ টাকা মূল্যে পিয়াজ বিক্রি হতো। গতকাল থেকে ট্রাক সেলের সংখ্যা ৩৫টিতে উন্নীত করা হয়েছে। এতে স্বল্প আয়ের মানুষ ন্যায্য মূল্যে পিয়াজ ক্রয় করার সুযোগ পাচ্ছেন।

গত রোববার বিকালে ভারত পিয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেয়ার পর ঢাকার বাজারে ভারতীয় পিয়াজ ৭৫ টাকা এবং দেশি পিয়াজ ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে গত সোমবার বিকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সব ধরনের পিয়াজের দাম কেজিতে আরও অন্তত ২০ টাকা বাড়তি দেখা যায়।

দেশে পিয়াজের উৎপাদন বছরে ১৭ থেকে ১৯ লাখ টনের মতো। চাহিদা পূরণ না হওয়ায় আমদানি করতে হয় ৭ থেকে ১১ লাখ মেট্রিক টন। স্বল্প দূরত্ব ও সহজলভ্যতার কারণে বেশিরভাগটা ভারত থেকে আসে। কিন্তু বৃষ্টি ও বন্যায় এবার পিয়াজের ফলন মার খাওয়ায় ভারত সরকার গত ১৩ সেপ্টেম্বর প্রতি টন পিয়াজের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য ৮৫০ ডলারে বেঁধে দেয়। ওই খবরে বাংলাদেশে পিয়াজের দাম এক লাফে বেড়ে যায় ২০ থেকে ২৫ টাকা। এরপর রোববার ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পিয়াজ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা দিলে ঢাকার বাজারে প্রতি কেজি পিয়াজের দাম কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়।

আড়ৎদার আর পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, দামের সঙ্গে সঙ্গে পিয়াজের বিক্রিও বেড়েছে; খুচরা ব্যবসায়ীরা যতটা পারা যায় কিনে রাখছেন। মিরপুরের শাহ আলী বোগদাদিয়া বাণিজ্যালয়ের পরিচালক মোস্তফা কামাল বলেন, তার আড়ৎ থেকে এমনিতে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ বস্তা পিয়াজ বিক্রি হয়। গত রোববার ও সোমবার গড়ে একশ’ বস্তা করে বিক্রি হয়েছে। তিনি বলেন, দাম বাড়ার পেছনে কারণ তো সবার জানা। পাড়া মহল্লার ব্যবসায়ীরা চাচ্ছেন পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই যেন তাদের কাছে বিক্রি করার মতো কিছু পিয়াজ থাকে। তাই ক্রেতা বেড়ে গেছে। এভাবে দাম বৃদ্ধির কী যৌক্তিকতা থাকতে প্রশ্ন করলে এই পাইকার বলেন, ভারতীয় পিয়াজ কিছু নির্দিষ্ট ব্যবসায়ীর হাত হয়ে আড়তে আসে। তারা যে দাম ঠিক করে, সেই দামেই কিনতে হয়। তার ওপর এক টাকা থেকে দেড় টাকার হিস্যা যোগ হয় আড়তে। সে কারণে দাম বৃদ্ধির এই প্রক্রিয়ায় আড়তের ভূমিকা মুখ্য নয়।