• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৮ রবিউস সানি ১৪৪১

সম্রাটের মতো শাসন করতেন সম্রাট

সাইফ বাবলু

| ঢাকা , সোমবার, ০৭ অক্টোবর ২০১৯

মহানগর যুবলীগের এক অংশের সভাপতি হলেও সম্রাটের শাসন ছিল পুরো ঢাকাব্যাপী। ক্যাসিনো, চাদাবাজি, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে এমন কোন অপকর্ম নেই যা স¤্রাট করেননি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, ক্লাবপাড়ায় অবৈধ ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের পর সম্রাটের ডানহাত যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, জিকে শামীম গ্রেফতার হওয়ার পর আত্মগোপনে চলে যান স¤্রাট। থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে জুয়া খেলে শত শত কোটি টাকা খরচ করেন তিনি। ঢাকায় ব্যবসা, উন্নয়ন কাজ, বাড়ি তৈরি এবং বাণিজ্যিক ভবন তৈরি করতে হলে স¤্রাটকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে হতো। এছাড়া মাদক ব্যবসা, অস্ত্র ব্যবসা, ক্যাসিনো পরিচালনা থেকে স¤্রাটের জন্য নির্ধারিত টাকা ছিল। স¤্রাটের এসব অপকর্মে শেল্টার দিতেন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা।

গতকাল সরেজমিন দেখা যায়, কাকরাইল অফিসের ছাদে স¤্রাট বাগান বাড়ির আদলে একটি বাংলো করেছেন। পুরো ছাদজুড়ে লতাপাতা, ঘাস এবং বিভিন্ন ফলের গাছ। ওই ভবনে স¤্রাটের বিশ্রামাগার ছিল। নিচে স¤্রাটের অফিস এবং যুবলীগের অফিস। সেখানে স¤্রাটের টর্চার সেলও রয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকতা বলেন, যুবলীগের অধিপতি হওয়ার পরই স¤্রাটের ভাগ্যের চাকা ঘুরতে থাকে। বিভিন্ন খাত থেকে নিয়মিত অর্থ আসতে থাকে। প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকা আসত শুধু ক্যাসিনো থেকে। এছাড়া টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কমিশন বাবদ স¤্রাট সবচেয়ে বড় ভাগটি নিতেন। যুবলীগের চাঁদাবাজির খাত থেকেও তার ভা-ারে লাখ লাখ টাকা আসত। দল ও সংগঠন চালানোর নামে, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে বড় বড় ঠিকাদার, অফিসপাড়া থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা তুলতে বাহিনী পাঠাতেন।

সম্প্রতি সিঙ্গাপুর গিয়ে ক্যাসিনোয় ১ ঘণ্টায় ৫০ কোটি টাকা হেরেছেন বলে তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা।

গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা বলেন, মূলত ২০১৫ সালে ভিক্টোরিয়া ক্লাবে ক্যাসিনো খেলা শুরু হয়। তখন ওই ক্লাবের সহসভাপতি ছিলেন স¤্রাট। তার হাত ধরেই ক্লাবপাড়ায় ক্যাসিনোর যাত্রা শুরু। পরে তা রাজধানীর বিভিন্ন ক্রীড়া ক্লাবসহ বিভিন্ন ক্লাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিদেশ থেকে ক্যাসিনোসামগ্রী আমদানি করা হয়। মদের বার, ফাইভস্টার মানের হোটেল এবং বিভিন্ন ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে ক্যাসিনো চালানো হতো।

বেওয়ারিশ লাশ দাফনকারী প্রতিষ্ঠান আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামে গিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে স¤্রাটের বিরুদ্ধে। এসব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী চরম ক্ষুব্ধ হন।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় যুবলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিষয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই আলোচনায় আসে স¤্রাট ও খালেদ মাহমুদসহ কয়েকজন নেতার নাম। এরপর ক্লাবপাড়ায় অবৈধ ক্যাসিনো অভিযান শুরুর আগে স¤্রাট কয়েকজন সহযোগী নিয়ে দেশত্যাগ করার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু বিমানবন্দর থেকে ফেরত এসে যে যার মতো চলে যায়। ওইদিন স¤্রাটের সঙ্গে দেশত্যাগ করতে গিয়ে ফেরত আসা যুবলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ গুলশানের বাসা থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর স¤্রাট কাকরাইলে নিজ কার্যালয়ে অবস্থান নেয়। অভিযানের মধ্যে গ্রেফতার আতঙ্কে প্রথম ৩ দিন কয়েকশ’ ক্যাডার স¤্রাটের অফিসের চারদিকে অবস্থান নেয়। এরমধ্যে স¤্রাটের ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করা হয়। পরে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।