• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৮ রবিউস সানি ১৪৪১

সম্রাট গ্রেফতার

দুই মামলায় সম্রাট-আরমানের ৬ মাসের জেল

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , সোমবার, ০৭ অক্টোবর ২০১৯

image

অবশেষে ক্যাসিনো স¤্রাট হিসেবে পরিচিত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী স¤্রাটকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে বিভিন্নভাবে বহুল আলোচিত স¤্রাটকে রোববার ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে র‌্যাব জানায়। স¤্রাট ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি হিসেবে অত্যন্ত দাপটের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ ওঠে। ঢাকায় বহুল আলোচিত ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রামে এক জামায়াত নেতার বাড়িতে লুকিয়ে ছিল স¤্রাট। একই সময় তার বিশ্বস্ত সহযোগী ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সহসভাপতি এনামুল হক আরমানকেও গ্রেফতার করা হয়েছে বলে র‌্যাব জানায়। গ্রেফতারের পর গতকাল স¤্রাটকে সঙ্গে নিয়ে কাকরাইলের অফিস এবং বনানীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে র‌্যাব। এছাড়া সহসভাপতি আরমানের বাসায়ও তল্লাশি চালানো হয়। কাকরাইলে স¤্রাটের অফিসে একটি পিস্তল, ছয় রাউন্ড গুলি, টর্চার করার দুটি বৈদ্যুতিক মেশিন, বিদেশি মদ ও ইয়াবা উদ্ধার করেছে র‌্যাব। এছাড়াও অফিসে দুটো ক্যাঙ্গারুর চামড়া পাওয়া গেছে। আরমানের বাসায় একাধিক বাড়ির দলিল এবং একাধিক ব্যাংকের চেকবই উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে স¤্রাটের কাকরাইলের অফিস থেকে কাঙ্গারুর চামড়া পাওয়ায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৬ মাসের কারাদ- দিয়ে তাকে এবং মদ্যপানের জন্য আরমানকে ৬ মাসের কারাদ- দিয়ে গতকাল সন্ধ্যার পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম এ দ-াদেশ দেন। এদিকে মাদক, অবৈধ অস্ত্রসহ বিভিন্ন আইনে স¤্রাটের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে র‌্যাব।

র‌্যাব জানায়, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ইসমাইল চৌধুরী স¤্রাটকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এক জামায়াত নেতার বাসায় আত্মগোপন করে আরমানসহ চৌদ্দগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল স¤্রাটের।

র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ জানান, আত্মগোপনে থাকাকালে স¤্রাট এমন সব পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন যেন তাকে সহজে খুঁজে পাওয়া না যায়।

গতকাল কাকরাইলে তল্লাশি অভিযান শেষে র‌্যাব -১ অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম জানান, স¤্রাট যে ক্যাসিনোর স¤্রাট হয়ে উঠেছেন, তার পেছনের গডফাদার ও পৃষ্ঠপোষক কারা, তাদেরও খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।

যেভাবে গ্রেফতার হন

ইয়ংমেন্স ক্লাবে অভিযানে ক্যাসিনোসামগ্রী, মাদক ও অর্থ উদ্ধারের পর আরও কয়েকটি ক্লাবে অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে গ্রেফতার হন খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। পরে আত্মগোপনে যান স¤্রাট, আরমানসহ যুবলীগের অনেক নেতা। খালেদকে গ্রেফতারের পর অভিযান চলে আরও কয়েকটি ক্লাবে। গ্রেফতার হন জিকে শামীম, কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভপতি শফিকুল আলম ফিরোজ, মোহামেডানের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক লোকমান ভূঁইয়াসহ কয়েকজন নেতা। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে ক্লাবপাড়ায় ক্যাসিনো নিয়ন্ত্রণের নেপথ্যে স¤্রাটের নাম বেরিয়ে আসে এবং তার কাছ থেকে ক্যাসিনো, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি থেকে আসা অর্থের ভাগ পাওয়ায় জড়িতদের নামও পেয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব অভিযানের মধ্যে স¤্রাটের গ্রেফতারের বিষয়টি জোরালো হতে থাকে। এরমধ্যে কাকরাইলে অবস্থান করা স¤্রাটের সর্বশেষ অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের মাফিয়া হিসেবে স¤্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় রয়েছে এমন নানা সমালোচনার মধ্যে তাকে গ্রেফতার করা হবে কিনা তা নিয়ে নানা গুঞ্জন তৈরি হতে থাকে। এরমধ্যে তার গতিবিধি গোয়েন্দা নজরদারিতে আসে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শেষ পর্যন্ত নির্দেশনা পাওয়ার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাবের দাবি, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন স¤্রাট ও তার সহযোগী আরমান একসঙ্গে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এক জামায়াত নেতার বাড়িতে আশ্রয়ে রয়েছেন। সেখান থেকে তারা ভারতে পালিয়ে যাবেন। র‌্যাবের একটি টিম ভোরে ওই বাড়ি ঘেরাও করে। পরে সেখান থেকে স¤্রাট ও আরমানকে গ্রেফতার করা হয়।