• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১

অভিযানের ১৫ দিন পার

সম্রাট কোথায়?

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ অক্টোবর ২০১৯

ক্লাবপাড়ায় ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের মুখে ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে নাম আসার পরই ‘লাপাত্তা’ যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। অভিযানের ১৫ দিন পার হয়ে গেছে। কেউ বলছেন সম্রাট অসুস্থ হয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি, কেউ বলছেন এক নেতার বাসায় আছেন, কেউ বলছেন গোয়েন্দা হেফাজতে আসেন। শেষ পর্যন্ত সম্রাটের কী পরিণতি হবে, সেটি নিয়েও নানা গুঞ্জন। গণমাধ্যম, রাজনৈতিক অঙ্গনে ১৫ দিন ধরে সম্রাট ইস্যুতে নানা আলোচনায় সাধারণ মানুষের প্রশ্ন ‘সম্রাট কোথায়।’ এমনকি সম্রাটকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে নানা আলোচনা।

ক্যাসিনো চালানোসহ বিভিন্ন অভিযোগে যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, জিকে শামীম এবং সর্বশেষ অনলাইন ক্যাসিনো নিয়ন্ত্রক শামীম প্রধানসহ যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কয়েক নেতা গ্রেফতার হওয়ার পর ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে গ্রেফতারের বিষয়টি সামনে আসে। প্রশ্ন তৈরি হয়ে যুবলীগের এ প্রভাবশালী নেতা গ্রেফতার হবেন কি না। এমন প্রশ্নের মধ্যে সম্রাট কোথায় আছেন, কীভাবে আছেÑ তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। এর পর থেকে সম্রাটের কোন হদিস মিলছে না। সম্রাট আত্মগোপনে আছেন, নাকি তাকে গ্রেফতার করা হয়েছেÑ এ বিষয়ে স্পষ্ট কোন ব্যাখা মিলছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকেও। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের দায়িত্বে থাকা র‌্যাবও সম্রাটের প্রসঙ্গে মুখে কলুপ বেঁধেছেন। তাই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে সম্রাট কোথায় কীভাবে আছেন? সম্রাটকে কি সত্যিই গ্রেফতার দেখানো হবে? গ্রেফতার হলে তার শেষ পরিণতি কী হবে?

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, সম্রাটের অবস্থান শীঘ্রই পরিষ্কার করা হবে। সম্রাট গ্রেফতার কিনা, সেটি শীঘ্রই জানা যাবে। তার এমন বক্তব্যের পর কয়েকদিন কেটে গেলেও সম্রাটকে নিয়ে ধোঁয়াশায় থেকেই গেছে। সম্রাটের ঘনিষ্ঠজনরাও জানেন না সম্রাটের শেষ অবস্থান কোথায়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, ঢাকায় ক্লাবপাড়ায় অবৈধ ক্যাসিনোর হোতা হিসেবে আলোচনায় আসা যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সম্রাট আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দাদের নজরন্দী আছেন। অভিযান শুরুর পর থেকেই সম্রাট গোয়েন্দাদের নজরবন্দী। যুবলীগের এ প্রভাবশালী নেতার ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত কী ঘটবে, তা স্পষ্ট হচ্ছে শীঘ্রই। চলমান অভিযান শুরুর পর সম্রাট কিছুদিন ভূঁইয়া ম্যানশনের পাশে তার অফিসেই অবস্থান করেছিলেন। সেখানে তাকে গোয়েন্দাদের নজরবন্দী রাখা হয়েছিল।

গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেন, ক্লাবপাড়ায় অবৈধ ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানে গ্রেফতার যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ, শামীম, মোহামেডান ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া ও কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজ গ্রেফতার হওয়ার পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদে নানা তথ্য বেরিয়ে আসে। মূলত ২০১৫ সালে ভিক্টোরিয়া ক্লাবে ক্যাসিনো খেলা শুরু হয়। তখন ওই ক্লাবের সহ-সভাপতি ছিলেস সম্রাট। সম্রাটের হাত ধরেই ক্লাবপাড়ায় ক্যাসিনোর যাত্রা শুরু। পরে এ ক্যাসিনো খেলা রাজধানীর বিভিন্ন ক্রীড়া ক্লাবসহ বিভিন্ন ক্লাবে ছড়িয়ে পড়ে।