• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, ২২ রবিউল আওয়াল ১৪৪১

সম্পাদকীয় স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ের প্রত্যয় এডিটরস গিল্ডের

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯

সম্পাদকীয় স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ের প্রত্যয় জানালেন এডিটরস গিল্ড বাংলাদেশ সভাপতি তৌফিক ইমরোজ খালিদী। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে সম্পাদকীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ফিরিয়ে আনা ও স্বআরোপিত ‘সেন্সরশিপ’ নিরুৎসাহিত করার মতো পরিবেশ সৃষ্টি করাও তাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশের সব সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয় নেতৃত্ব নিয়ে সদ্য গড়ে ওঠা এডিটরস গিল্ডের প্রথম অনুষ্ঠানে এ সংগঠনটি গঠনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য এভাবেই সবার সামনে তুলে ধরেন এর সভাপতি তৌফিক ইমরোজ খালিদী।

ছাপানো ও ইন্টারনেট সংবাদপত্র, টেলিভিশনসহ সংবাদ প্রকাশনা ও পরিবেশনার সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশের সব মাধ্যমের সম্পাদকীয় নেতাদের নিয়ে গত বছরের ডিসেম্বরে যাত্রা শুরু করে এডিটরস গিল্ড। গতকাল ঢাকার লেক শোর হোটেলে সংগঠনটি আয়োজন করে ইফতার অনুষ্ঠানের। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিনির্ধারক ও রাজনীতিকসহ যোগ দেন ঢাকায় কমরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশে গণমাধ্যমের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে তৌফিক ইমরোজ খালিদী সাংবাদিকতা ও সম্পাদকীয় স্বাধীনতার পাশাপাশি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের নৈতিকতা নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা জানি, আমাদের সাংবাদিকতায় নৈতিকতার মানদন্ড নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে। আমাদের ওইসব দিনের কথা মনে আছে- যখন সমাজের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমবহির্ভূত প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা গুরুতর অভিযোগ কোন যাচাই করা ছাড়াই শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছিল। ওইসব সংবাদপত্রের সম্পাদকরা সাংবাদিকতার নামে গুরুতর অনৈতিক কর্মকান্ডের কথা স্বীকারও করেছেন। এর রেকর্ড রয়েছে।

সাংবাদিকতায় নৈতিকতা নিয়ে বহু কথা হলেও অবস্থার তেমন পরিবর্তন হয়নি বলে মনে করেন এডিটরস গিল্ড সভাপতি। এ প্রেক্ষাপটে এডিটরস গিল্ডের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের জন্য নৈতিকতার মানদন্ড নিয়ে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলার কথা জানান তিনি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী বলেন, এডিটরস গিল্ড বাংলাদেশে মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে। এর সদস্যরা সম্পাদকীয় স্বাধীনতার জন্য লড়বেন এবং সম্পাদকীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও বাড়ানোর জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করবেন। এর সদস্যরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চানÑ যেখানে ‘সেলফ সেন্সরশিপ’ নিরুৎসাহিত হবে। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট ২০১৮-এর কিছু অংশ সাংবাদিকতার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে তা সংশোধনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন এডিটরস গিল্ড সভাপতি।

সম্পাদক পরিষদ নামে সম্পাদকদের একটি সংগঠন থাকারও পরও কেন এডিটরস গিল্ড করতে হলো, এর ব্যাখ্যাও দেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী। তিনি বলেন, উত্তরটা সহজ। তারা সম্ভবত দেশে সংবাদের পাঠক-দর্শকের দুই শতাংশেরও প্রতিনিধিত্ব করেন না। সার্কুলেশন হারাতে থাকা গুটিকয়েক পত্রিকা নিশ্চিতভাবেই দেশের কোটি সংবাদ পাঠক-দর্শকের সঠিক প্রতিনিধিত্বমূলক সংগঠন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না। শুধু মুদ্রিত সংবাদপত্রের সম্পাদকদের নিয়েই গড়ে উঠেছে সম্পাদক পরিষদ। তাও মুদ্রিত সব সংবাদপত্রের সম্পাদক এর সঙ্গে যুক্ত নন। সেখানে এই জায়গায় (এডিটরস গিল্ড) বাংলাদেশের সব সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিত্ব রয়েছেÑ ইন্টারনেট, টেলিভিশন, রেডিও ও মুদ্রিত সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় নেতারা এখানে রয়েছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীকে সভাপতি করে গঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সদস্য রয়েছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবেদ খান, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক আমাদের নতুন সময় সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, জনকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়, একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু, ডিবিসি টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম, গাজী টেলিভিশন ও সারাবাংলা ডটনেটের প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, দেশ টেলিভিশন সম্পাদক সুকান্ত গুপ্ত অলক, এশিয়ান এইজের এডিটোরিয়াল বোর্ডের চেয়ারম্যান শোয়েব চৌধুরী, এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী সম্পাদক মুন্নী সাহা, এটিএন বাংলার প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জ ই মামুন ও বাংলা ট্রিবিউন সম্পাদক জুলফিকার রাসেল।