• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১০ রবিউস সানি ১৪৪১

সচিবালয়ে আগুনের ঝুঁকি প্রতিরোধে সব ব্যবস্থা থাকছে

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৯ এপ্রিল ২০১৯

প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ের বিভিন্ন ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে শীঘ্রই বৈঠক ডাকা হবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেছেন, ‘আমরা নিজেরাই এটার বিষয়ে মিটিং ডাকব। পিডব্লিউডি এটার বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে।’

গতকাল মন্ত্রিসভা বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এ কথা জানিয়ে আরও বলেন, ‘যেমন ধরুন পুরনো যেসব ফায়ার এক্সটিংগুইশার আছে সেগুলো চেক করে মেয়াদোত্তীর্ণগুলো রিপ্লেস করা হচ্ছে। এগুলো যার যার মতো করে করছে। কিন্তু আমরা ইন এ বডি সবার সঙ্গে এটা নিয়ে মিটিং করব খুব তাড়াতাড়ি। তবে এখনও ডেট ঠিক হয়নি।’ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মন্ত্রিসভা বৈঠকে অগ্নি দুর্ঘটনা নিয়ে কোন আলোচনা হয়নি জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের নিয়ে ওই সভা হবে। এটা আমাদের সচিবদের সিদ্ধান্ত, আমরা নিজেরা মিটিং করব। আমরা আলোচনা করেছি বড় পরিসরে সবাইকে নিয়ে বসব, অন্তত অ্যাওয়ারনেস বিল্ডিংয়ের জন্যও এটা দরকার।’

তিনি জানান, সচিবালয় মসজিদের পাশে টিনসেড বিল্ডিংগুলো ভেঙ্গে সেখানে ২০তলা একটি ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হচ্ছে। সেখানে আগুনের ঝুঁকি প্রতিরোধে সব ধরনের ব্যবস্থা থাকবে।

সচিবালয়ের ভবনগুলোর জন্য অন্য কোনো ঝুঁকি রয়েছে কিনা জানতে চাইলে মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ‘আমাদের এই ভবনটার (১ নম্বর) ব্যাপারে একটা সতর্কতা আছে যে; এখানে যদি আর্থ কোয়েক (ভূমিকম্প) হয়, এগুলোতে দুর্বল। এটার বেইজটা, অনেক পুরনো ধরেন ৬০-৭০ বছর আগে তৈরি করা এ ভবনটি। এটা নিয়ে একটু ঝুঁকি আছে। এজন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এখানে অফিস করতে আনি না। আমরা ভিন্ন ভেন্যু ঠিক করেছি।’

সম্প্রতি পুরান ঢাকার চকবাজারে এবং বনানীর এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ব্যাপক প্রাণহানি হয়। এরপরই সারাদেশের বিশেষ করে রাজধানীর বহুতল ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিতে নড়েচড়ে বসে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা।

ভূমিকম্পের ২ মিনিটেই সতর্ক হবে ঢাকা : এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অন্যতম সিলেটের ডাউকি চুত্যি এলাকায় ভূমিকম্পন তৈরি হলে সেখান থেকে দুই মিনিট পর ঢাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এই দুই মিনিটের মধ্যে সতর্ক করা গেলে ঢাকা বা আশপাশের মানুষ নিরাপদ স্থানে চলে যেতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, ‘ভূমিকম্পের ওপরে বলা হচ্ছে, এটা যদি আধুনিক প্রযুক্তিতে, ডাউকিতে ভূমিকম্প প্লেট যদি নাড়া দেয় তাহলে দুই মিনিট পর আমাদের এখানে আসবে। এই দুই মিনিট সময়ে যদি ওখান থেকে সিগন্যাল পাই আমরা পুরোটা খালি করতে পারব। ঢাকা শহরের কোন লোক ঘরে থাকার দরকার নাই, সব রাস্তায় চলে যাবে, মাঠে চলে যাবে, এটা সম্ভব। দুই মিনিট সময় দিতে হবে। কিন্তু সিগন্যালটা আসতে হবে। সিগন্যাল পাওয়ার জন্য এরকম প্রযুক্তি আছে। ওখান থেকে আসতে (ভূকম্পন) দুই মিনিট সময় লাগবে। অর্থাৎ উৎস হচ্ছে ডাউকি, সিলেটের কাছে।’

এর উদাহরণ দিয়ে শফিউল আলম বলেন, ‘ধরেন, ওখানে ১২টায় শুরু হলো এখানে পৌঁছতে পৌঁছতে দুই মিনিট লাগবে। এটা জিওগ্রাফিক্যাল কারণে। এই দুই মিনিটের সময় যদি আমরা পাই তাহলে ঢাকা শহর বা যারা যারা আশপাশে এখানে আছে এদের সতর্ক করা যাবে এবং সরে যেতে পারবে।’

বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত থেকে জানা যায়, বাংলাদেশে আটটি ভূতাত্ত্বিক চুত্যি এলাকা বা ফল্ট জোন সচল অবস্থায় রয়েছে। এরমধ্যে সিলেটের হাফলং চুত্যি, ডাউকি চুত্যি অন্যতম। এসব চুত্যির কারণে ভূমিকম্প হয়।