• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

সংসদে উঠছে আজ সড়ক আইন

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আজ জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হবে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮। পরে এটি স্ট্যান্ডিং কমিটি হয়ে সংসদের শেষ অধিবেশনে পাস হবে। সারাদেশের সড়ক ও পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্যই আইনটি করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ৫ বছর ও সর্বনিম্ন ১ মাস কারাদন্ডের বিধান রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮। এছাড়া সর্বোচ্চ ৫ লাখ ও সর্বনিম্ন ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ডের বিমান রাখা হয়েছে প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন আইনে। গত ৬ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদনের পর জাতীয় সংসদে পাঠানো হয় বলে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়।

জানা গেছে, সারাদেশের গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে ২০১১ সালে সড়ক পরিবহন আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হয়। তিন দফা সংশোধন করে সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা, সড়ক নিরাপত্তার উন্নয়নে ও দুর্ঘটনা কমানো লক্ষ্যে থ্রি-ই অর্থাৎ ইঞ্জিনিয়ারিং, এডুকেশন এবং ইনফোর্সম্যান্টকে গুরুত্ব দিয়ে ১৭৭টি ধারা ও ১২টি তফসিল সম্বলিত দ্য মোটর ভেহিকল অধ্যাদেশ-১৯৮৩’র স্থলে যুগোপযোগী করে ১৪টি অধ্যায়ে ১২৪টি ধারা সমন্বয়ে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর খসড়া বাংলায় প্রণয়ন করা হয়েছে। মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস, ড্রাইভিং লাইসেন্স, রুট পারমিট প্রদান ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে দ্য মোটর ভেহিকল অধ্যাদেশ-১৯৮৩’র অধ্যাদেশ অনুযারী। তবে প্রস্তাবিত আইনে ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী চালককে কারাদন্ড ও অর্থ দন্ডের অতিরিক্ত পয়েন্ট কাঁটার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সড়কের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী ব্যক্তি বা পরিবার বা প্রতিষ্ঠান বা এলাকার জন্য মোটরযানের সংখ্যা নির্ধারণের ক্ষমতা সরকারকে দেয়া হয়েছে আইনটিতে।

আইনে উল্লেখ করা হয়েছে, সড়ক বা মহাসড়কে গতিসীমার অতিরিক্ত গতি বা বেপরোয়াভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, ওভারলোডিং বা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে মোটরযান চালনার কারণে কোন দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বা সম্পত্তির ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট চালক, কন্ডাক্টর বা সহায়তাকারী ব্যক্তি এ আইনের অধীন অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবেন এবং সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী দন্ডিত হবেন। ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য শিক্ষাগত যোগত্য ৮ম শ্রেণী বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণের বিধান রাখা হয়েছে। নারী, প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুদের জন্য মোটরযানে আসন সংখ্যা নির্ধারণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় ৯৭ ধারায় সরাসরি সাজার বিধান না থাকলেও ৯১ ধারায় ৫ বছরের কারাদন্ড অথবা ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। ৯১ ধারায় বলা হয়েছে, অতিরিক্ত গতিতে বা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো বা ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং বা ওভারলোডিং বা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে মোটরযান চালনার ফলে কোন দুর্ঘটনায় জানমালের ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট চালক, কন্ডাক্টর বা সহায়তাকারীর বিরুদ্ধে অপরাধ বলে গণ্য হবে। এ অপরাধের জন্য অনধিক ৫ বছর জেল, ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন এবং চালকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হিসেবে দোষসূচক ২ পয়েন্ট কাটা হবে। এছাড়া ত্রুটিপূর্ণ সড়ক কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর বর্তাবে। প্রচলিত আইন অনুযারী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাবে।

এ বিষয়ে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, চলতি অধিবেশনেই পাশ হবে সড়ক পরিবহন আইন। জাতীয় সংসদে উত্থাপনের এটি স্ট্যান্ডিং কমিটি হয়ে সংসদের শেষ অধিবেশনে পাস হবে আইনটি।