• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১ কার্তিক ১৪২৫, ৫ সফর ১৪৪০

লুসি হেলেন বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাচ্ছেন

সংবাদ :
  • মানবেন্দ্র বটব্যাল, বরিশাল

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

image

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া ব্রিটিশ নাগরিক লুসি হেলেন ফ্রান্সিস হল্টকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সোমবার আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন বরিশালের জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, ওই সিদ্ধান্তের কারনে লুসি হেলেন খুব শীঘ্রই বাংলাদেশের নাগরিকত্বের কাগজপত্র হাতে পেতে যাচ্ছেন। এরআগে গত ৮ ফ্রেব্রুয়ারি বরিশালের বঙ্গবন্ধু উদ্যানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লুসি হেলেনের হাতে ১৫ বছরের জন্য ফি মুক্ত মাল্টিপল ভিসা সহ পার্সপোট তুলে দেন। ওইদিন তাকে স্থায়ীভাবে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেওয়া যায় কিনা সে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের ৪দিনের মাথায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয়ের সভায় লুসি হেলেন ফ্রান্সিস হল্টকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ১৯৩০ সালের ১৬ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের সেন্ট হ্যালেন্সে জন্মগ্রহণ করা লুসির বাবা জন হল্ট ও মা ফ্রান্সিস হল্ট। ৫৭ বছর আগে ১৯৬০ সনে অক্সফোর্ড মিশনের একজন কর্মী হিসেবে ব্রিটিশ নাগরিক লুসি হেলেন ফ্রান্সিস হল্ট বাংলাদেশে এসেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় যশোরে অবস্থানকালে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে যুদ্ধাহতদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছেন তিনি। স্বাধীনতার পরও বাংলাদেশ ছেড়ে যাননি লুসি। বরং বরিশাল অ´ফোর্ড মিশনে চাকুরী নেন। মৃত্যুর পরও তাকে বরিশালের মাটিতেই যেন সমাধিস্থ করা হয় সেই ইচ্ছা পোষণ করেছেন লুসি হল্ট। ইতিপূর্বে জেলা প্রশাসন থেকে লুসির ওই আবেদন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিলো। তবে এটা তাদের আওতাভুক্ত না হওয়ায় কোন ফলাফল পাওয়া যায়নি। বর্তমান জেলা প্রশাসক আসার পরপরই নতুন করে আবেদন তৈরি করেন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তা পাঠান।

প্রতিবছর ভিসা নবায়ন ফি দিতে সমস্যা হওয়ার ফলে ভিসা নবায়ন ফি মওকুফ সহ বাংলাদেশী নাগরিকত্বের জন্য দাবী জানিয়েছি আসছিলেন তিনি।একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে খবরটি প্রচারিত হবার পর বরিশালের একটি শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান তার ভিসা ফিস দিতে সম্মত হয়। সেসব অনুষ্ঠান প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। কর্মজীবন থেকে ২০০৪ সালে অবসরে যাওয়া লুসি এখনও দুঃস্থ শিশুদের মানসিক বিকাশ ও ইংরেজি শিক্ষা দেবার পাশাপাশি শিশুদের জন্য তহবিলও সংগ্রহ করছেন।